সোমবার ২৯ নবেম্বর ২০২১
Online Edition

বিচার বিভাগ থেকে শুরু করে সর্বত্র দলীয় ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে

গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার হান্নান শাহের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : আওয়ামী লীগ সরকার গোটা রাষ্ট্রকে দলীয়করণ করে ফেলেছে বলে অভিযোগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল সোমবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে আমি পত্রিকায় দেখলাম, সাময়িক বিচারপতি নিয়োগ হয়েছে। এটাও দলীয়ভাবে হয়েছে। আজকে প্রশাসনের লোক নেয়া হচ্ছে সব দলীয় ভিত্তিতে, আজকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে লোক নেয়া হচ্ছে সব দলীয় ভিত্তিতে। যেখানে চাকরির জন্য যাবে সেখানে দলীয় ভিত্তিতে নেয়া হয়। এভাবে পুরো প্রশাসনকে তারা (সরকার) দলীয়করণ করে ফেলেছে, রাষ্ট্রকে দলীয়করণ করে ফেলেছে।
জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অবসরপ্রাপ্ত বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মরহুম আ স ম হান্নান শাহের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অবসরপ্রাপ্ত বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আসম হান্নান শাহ স্মৃতি পরিষদ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সংগঠনের আহ্বায়ক গাজীপুর জেলার আহ্বায়ক বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলনের সভাপতিত্বে ও জেলা নেতা মজিবুর রহমান ও  সাখাওয়াত হোসেন সবুজের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভুঁইয়া, কৃষক দলের সদস্য সচিব শহিদুল ইসলাম বাবুল, গাজীপুর বিএনপির ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, খন্দকার আজিজুল রহমান পেয়ারা, হেলাল উদ্দিন, ভিপি ইব্রাহিম, আবু তাহের মসুল্লী, রাশেদুল হক এবং মরহুম হান্নান শাহ’র ছেলে শাহ রিয়াজুল হান্নান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, আজকে ৩৫ লক্ষ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা। আমাদের ৫শ’র অধিক নেতা গুম হয়ে গেছেন, সহস্রাধিক মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। তারপরও তারা আবার বলে কী যে, নির্বাচনের কথা বলে, গণতন্ত্রের কথা বলে। আরে আপনারা জেনে-শুনে এমন একটা অবস্থা তৈরি করেছেন যে, এখানে কেউ যেন ভোট দিতে না পারে-সেই ব্যবস্থা তৈরি করেছেন। আপনারা এখানে এমন একটা অবস্থা তৈরি করেছেন যে, কেউ কোনো বিচার পাবে না। আজকে আপনি যে কোর্টেই যান সেই কোর্টে বিএনপি দেখলেই তার জন্য আলাদা বিচার, আর বিএনপির বাইরে আলাদা বিচার। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা।
এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে ‘জোটবদ্ধ’ আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে শুধু বিএনপির জন্য নয়, আজকে দেশকে বাঁচাতে হয়, জনগণকে যদি তার অধিকার ফিরিয়ে দিতে হয়, ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হয়, বাঁচার অধিকার, কাজের অধিকারকে যদি ফিরিয়ে দিতে হয় তাহলে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। জোট বাঁধতে হবে, বিভক্তি নয়। আমাদের নিজেদের মধ্যে ঐক্যকে আরো সুদৃঢ় করতে হবে। সমস্ত জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমাদেরকে আজকে অবশ্যই রুখে দাঁড়াতে হবে এবং মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই ভয়াবহ-ফ্যাসিস্ট-দানবীয় সরকারকে পরাজিত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে-এটাই হোক আজকের দিনে আমাদের শপথ এবং সেটাই হবে বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আ স ম হান্নান শাহের প্রতি সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মান প্রদর্শন। আসুন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার লক্ষ্যে, গণতন্ত্রকে মুক্ত করার লক্ষ্যে আমরা সবাই সাথে এগিয়ে যাই।
এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন নয় ঘোষণা দিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, আমরা এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাবো না। কথা পরিষ্কার, এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে বিএনপি ও দেশের জনগণ যাবে না। এই সরকারের পতন ঘটিয়ে তত্তাবধায়ক সরকারের অধীনে যেভাবে যা হবে ইনশাল্লাহ আমরা সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো। আমরা বলতে চাই এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। কিন্তু এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। চেষ্টা করলে প্রতিরোধ করা হবে, বাধা দেয়া হবে। সেই বাধার মুখে আপনারা টিকে থাকতে পারবেন না। নেতা-কর্মীদের সকল প্রকার প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নির্বাচন কমিশন কমিশন পুনর্গঠন সম্পর্কে মির্জা আব্বাস বলেন, ইদানিং রব উঠেছে যে, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করবেন সার্চ কমিটি দিয়ে। ভাই সার্চ কমিটি কোনো দিন শুনি নাই। এই আওয়ামী লীগের সময়ে শুনলাম-খালি কয় সার্চ কমিটি সার্চ কমিটি। এই সার্চ কমিটির কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি নাই। আপনারা সার্চ কমিটির মাধ্যমেই করেন আর সেভাবেই করেন- আমরা ওই জায়গাতে নাই।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ষড়যন্ত্র তত্ত্বের মহামারিতে আক্রান্ত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, একজন নেতা আছেন তিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি প্রতিদিনই বলেন ষড়যন্ত্র হচ্ছে, ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এতদিন ছিল করোনার মহামারি এখন ষড়যন্ত্র তত্ত্বের মহামারি। এই ষড়যন্ত্র তত্ত্বের মহামারিতে আক্রান্ত হয়ে বসে আছেন ওবায়দুল কাদের সাহেব। তারা এত অন্যায় অবিচার করেছেন যে এখন এসব কথা বলে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চায়। এমন কোনো ওষুধ নেই এই মহামারি থেকে ওবায়দুল কাদের সাহেবকে বাঁচাবে।
বিএনপির এই সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, হান্নান শাহ প্রমাণ করেছেন সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থাকলে অন্যায়কারীরা পরাজিত হন। ফখরুদ্দিন-মঈন উদ্দীন পরাজিত হয়েছেন। আজ হান্নান শাহ আমাদের মাঝে নেই কিন্তু তিনি বিজয়ী হয়েছেন গণতন্ত্রের পক্ষে। সেই সময় যদি আন্দোলন অব্যাহত না থাকতো তাহলে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে আজও কারাগারে থাকতে হতো। সেই সময় ব্রিগেডিয়ার হান্নান শাহসহ কিছু লোক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে তারা মুক্তি পেয়েছেন। কিন্তু সেই আন্দোলনের ধারা অব্যাহত নেই। তিনি বলেন, ‘মঈন উদ্দীন-ফখরুদ্দিনের রেখে যাওয়া কাজ একনিষ্ঠভাবে এখন করছেন শেখ হাসিনা।’
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন সেখানে আন্দোলন হয়েছে। তিনি বলেছেন, দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। দেশে যখন ভোট চুরি হয়, দুর্নীতি হয়, মা-বোনরা ধর্ষণের শিকার হন তখন ভাবমূর্তি নষ্ট হয় না? তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতারা প্রায়ই বলেন, বিএনপি পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসতে চায়। সব দরজা যখন বন্ধ হয়ে যায় তখন বিএনপি গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার জন্য সামনের দরজা দিয়ে হোক আর যে দরজাই হোক কাঠের লোহার দরজা ভেদ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। রিজভী আরও বলেন, এখন আওয়ামী লীগ নতুন করে ষড়যন্ত্র করছে কিছু মিডিয়ার সাহায্যে যে ইভ্যালির টাকা লন্ডনে গেছে এরকম মিথ্যা প্রচার তারা চালানোর চেষ্টা করছে। এর বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে আবারও গর্জে উঠতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ