বুধবার ২৭ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

পতনের পরের দিনই ঊর্ধ্বমুখী শেয়ারবাজার

স্টাফ রিপোর্টার : সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমলেও বেড়েছে মূল্যসূচক। মূলত বাছাই করা ভালো কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ায় সূচকের এ ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলেছে।
গতকাল সোমবার ব্যাংক-বিমা খাতের পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের শেয়ারের দাম কমেছে। তবে প্রকৌশল খাতের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের পাশাপাশি গ্রামীণফোন, বেক্সিমকো এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের মতো বড় মুলধনী কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। এতে দিন শেষে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক বেড়েছে ১৪ পয়েন্ট। অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সূচক বেড়েছে ২২ পয়েন্ট।
ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে প্রথম মিনিটেই ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ২৫ পয়েন্ট বেড়ে যায়। লেনদেন শুরু প্রথম দেড় ঘণ্টায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক বাড়ে ৪৬ পয়েন্ট। তবে এরপরই একের পর এক প্রতিষ্ঠানের দরপতন শুরু হয়। ফলে সূচকও নিচের দিকে নামতে থাকে। তবে বাছাই করা বেশিকিছু কোম্পানি দাম বাড়ার ধারা ধরে রাখে। যার ওপর ভর করে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দরপতনের পরও সূচক ঊর্ধ্বমুখী থেকে দিনের লেনদেন শেষ হয়। ডিএসইতে বাছাই করা ভালো ৩০টি কোম্পানি নিয়ে একটি আলাদা গ্রুপ করা হয়েছে। ডিএসই-৩০ সূচকের আওতাধীন এ ৩০ কোম্পানির মধ্যে দিনের লেনদেন শেষে ১৮টি কোম্পানি দাম বাড়ার তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৯টির। বাকি তিনটির শেয়ার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অপরদিকে সব খাত মিলে ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১৪১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ২০২টির। আর ৩৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এর পরও ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৪ পয়েন্ট বেড়ে সাত হাজার ২৫১ পয়েন্টে উঠে এসেছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইর শরিয়াহ্ চার পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ৫৭৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ১০ পয়েন্ট বেড়ে দুই হাজার ৬৭৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। খাতভিত্তিক তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ব্যাংক খাতের ১৫টির শেয়ার দাম কমার বিপরীতে বেড়েছে ৮টির দাম। ৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অব্যাংকিং আর্থিক খাতের বা লিজিং কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৮টির শেয়ার দাম বেড়েছে এবং কমেছে ১১টির।
দাম বাড়ার তালিকায় প্রাধান্য দেখিয়েছে প্রকৌশল খাতের কোম্পানি। এ খাতের ২৮টি কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৩টি। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ১৩টি কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে কমেছে ৯টির দাম। ওষুধ খাতেরও বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান দরপতনের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। এ খাতের ১৬টি কোম্পানির শেয়ার দাম কমেছে। বিপরীতে দাম বেড়েছে ১৩টির।
এদিকে দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৯৮০ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় দুই হাজার ২৫৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা। সে হিসেবে লেনদেন কমেছে ২৭৬ কোটি ৪২ লাখ টাকা। টাকার অঙ্কে ডিএসইতে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের শেয়ার। কোম্পানিটির ১৩৯ কোটি ৭২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ওরিয়ন ফার্মার ৮৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ৬০ কোটি ৩৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে জিপিএইচ ইস্পাত। এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- বেক্সিমকো, সাইফ পাওয়ার টেক, এসএস স্টিল, বেক্সিমকো ফার্মা, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, শাহাজিবাজার পাওয়ার এবং অ্যাক্টিভ ফাইন।
এদিন অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ২১ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৭৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেয়া ৩২১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৩১টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৬৫টির এবং ২৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ