বুধবার ২৭ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

সঞ্চয়পত্রে মুনাফা কমার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে শেয়ারবাজারে

স্টাফ রিপোর্টার : পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র, ৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র, পেনশনার সঞ্চয়পত্র, পরিবার সঞ্চয়পত্র এবং ডাকঘর সঞ্চয়পত্রের মেয়াদি হিসাবের মুনাফার হার কমিয়েছে সরকার। এর ফলে শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন অর্থনীতি বিশ্লেষক ও শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংকের সুদ হারের একটা প্রভাব সব সময় শেয়ারবাজারের ওপর থাকে। সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংকের সুদ হার কম থাকলে শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। আবার সুদের হার বেশি হলে শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থাকে।
জানা গেছে, জাতীয় সঞ্চয়পত্রের স্কিমগুলোর মুনাফার হার কমিয়ে গত ২১ সেপ্টেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। নতুন হার অনুযায়ী, ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রের স্কিমে মুনাফার হার আগের মতো রাখা হলেও, এর বেশি পরিমাণ স্কিমে মুনাফার হার কমানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যারা নতুন করে সঞ্চয়পত্র কিনবেন, শুধু তাদের জন্য পরিবর্তিত এই হার কার্যকর হবে। এছাড়া আগের কেনা সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সেটি পুননায় বিনিয়োগ করলে তখন নতুন মুনাফার হার কার্যকর হবে। ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক উভয়ের জন্যই নতুন এই মুনাফার হার প্রযোজ্য হবে। এছাড়া যৌথ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রত্যেক বিনিয়োগকারী সব সঞ্চয় স্কিমে মোট বিনিয়োগের ওপর প্রযোজ্য হারে মুনাফা পাবেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশে ব্যাংক সুদের হার কম থাকায় শেয়ারবাজারে তার বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। যে কারণে এক বছরের বেশি সময় ধরে দেশের শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী ধারায় রয়েছে। এখন সরকার সঞ্চয়পত্রের সুদ হার কমানোর কারণে শেয়ারবাজারে এটারও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তারা বলছেন, শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারী ও সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বৈশিষ্ট্যগত বড় ধরনের পার্থক্য আছে। সাধারণত সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ কম দেখান। কিন্তু মুনাফার হার কমলে সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগকারীদেরও একটি অংশ শেয়ারবাজারের দিকে ঝুঁকতে পারেন।
শেয়ারবাজারের বর্তমান পরিস্থিতে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর ফলে শেয়ারবাজারে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও শেয়ারবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ জানান, সরকার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা ভালো সিদ্ধান্ত। আমি মনে করি শেয়ারবাজারে এর একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগকারী ও শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে পার্থক্য আছে। সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগকারীরা সাধারণত ঝুঁকি নিতে চান না। সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার বেশি হওয়ার কারণে তারা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সঞ্চয়পত্র কেনেন। তবে এখন যেহেতু সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানো হয়েছে, সেহেতু কিছু বিনিয়োগ শেয়ারবাজারে আসতে পারে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মো. শাকিল রিজভী জানান, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানো শেয়ারবাজারের জন্য ইতিবাচক। ব্যাংকের সুদ হার এবং সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কম থাকলে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ শেয়ারবাজারমুখী হয়ে থাকেন। এখন সঞ্চয়পত্রের সুদ হার কমানোর কারণে আমরা আশা করছি শেয়ারবাজারে এর একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ