ঢাকা, শুক্রবার 29 October 2021, ১৩ কার্তিক ১৪২৮, ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী
Online Edition

মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রে খরচ বাড়ছে ১৬ হাজার কোটি টাকা

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিপিজিসিবিএল) মাতারবাড়ী প্রকল্পে নতুন করে প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। এ নিয়ে এরই মধ্যে দুই দফা আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়েছে। সিপিজিসিবিএলের প্রস্তাব যাচাই-বাছাই শেষে একনেকে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

মেগা প্রকল্প মাতারবাড়ি ১২শ’ মেগাওয়াট আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পটিতে সাত বছর এক মাসে অগ্রগতি মাত্র ৪৫ শতাংশ। অর্থ ব্যয় হয়েছে ৪৮.৫৩ শতাংশ। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর বিস্তারিত ডিজাইন করা হয়। এই ডিজাইনের কারণে খরচ ১৫ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা বাড়ছে বলে বিদ্যুৎ বিভাগ পরিকল্পনা কমিশনের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে। ধীরগতির কারণে সময় সাড়ে তিন বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের কাছে।

উল্লেখ্য, বিদ্যুতের উৎপাদন সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে ২০১৪ সালে কয়লাভিত্তিক একটি মেগা প্রকল্পের অনুমোদন দেয় সরকার। প্রকল্প ঋণসহ ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি ৪৫ লাখ ৯৮ হাজার টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পটি সমাপ্ত করার সময় ছিল ২০২৩ সালের জুনে। কিন্তু এখন এটার খরচ ১৫ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা বাড়িয়ে ৫১ হাজার ৮৫৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আর মেয়াদ আরো সাড়ে তিন বছর বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করার প্রস্তাব করা হচ্ছে। অর্থাৎ দীর্ঘ ৯ বছরেও হচ্ছে না মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্র। এক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনেই বিদ্যুৎ বিভাগের এখন এক যুগ লাগবে বলে জানানো হয়েছে। মেগা প্রকল্প মাতারবাড়ি ১২শ’ মেগাওয়াট আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পটিতে সাত বছর এক মাসে অগ্রগতি মাত্র ৪৫ শতাংশ। অর্থ ব্যয় হয়েছে ৪৮.৫৩ শতাংশ। কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিপিজিসিবিএল) মাতারবাড়ী প্রকল্পে নতুন করে প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। 

এ নিয়ে এরই মধ্যে দুই দফা আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়েছে। সিপিজিসিবিএলের প্রস্তাব যাচাই-বাছাই শেষে একনেকে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সক্ষমতা বাড়ায় এরই মধ্যে সরকারকে বড় অংকের লোকসান গুনতে হচ্ছে। উন্নত বিশ্বসহ চীন-ভারতের মতো বড় অর্থনীতিগুলো কয়লা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এ অবস্থায় বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করে জাতীয় সক্ষমতায় মাত্র ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সংযোগের অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। 

কয়লাভিত্তিক এসব বিদ্যুৎ প্রকল্পের যথাযথ বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ পেয়েছে সরকারের নীতিনির্ধারণী  পর্যায় থেকেও।  কয়লাভিত্তিক কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমতি বাতিলসংক্রান্ত পরিকল্পনার আভাস দিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী  নসরুল হামিদ বিপু জানান, কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ কম হলেও নির্মাণের অনুমতি পাওয়া অনেক কেন্দ্র কাজই শুরু করতে পারেনি। আমরা এগুলো বাদ দেয়ার কথা ভাবছি।

সম্প্রতি এক গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস (আইইইএফএ)। বণিক বার্তাসহ আরো বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম সেই গবেষণা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে খবরও প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর আগেই দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার মাত্র ৪৩ শতাংশ ব্যবহূত হচ্ছিল (২০১৮-১৯ অর্থবছর)। মহামারীর কারণে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা আরো কমে গেছে। এতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) একদিকে রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে অলস বসে থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে নিয়মিত ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করতে হচ্ছে।

মহামারীর আগেই এসব কেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধের জন্য সরকার ৯ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে এমন তথ্য উল্লেখ করে আইইইএফএ বলছে, লোকসান কমাতে বিদ্যুতের দাম বাড়াতে হয়েছে। এরই মধ্যে কয়লা ও এলএনজিভিত্তিক নতুন নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এতে দীর্ঘমেয়াদি ওভার ক্যাপাসিটির আবর্তে পড়ে আর্থিক ক্ষতির শিকার হবে দেশ। অর্থনীতিতে কভিড-১৯ মহামারীর প্রভাব আমলে নিয়ে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার যে পূর্বাভাস দেখা যাচ্ছে, তাতে ২০৩০ সালে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রয়োজনের তুলনায় ৫৮ শতাংশ বেশি থাকবে বলে মনে করছে আইইইএফএ।

ডিএস/এএইচ

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ