সোমবার ২৪ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

সিরাজগঞ্জ-পাবনায় দুধের দাম পাচ্ছেন না খামারিরা! 

সিরাজগঞ্জ : ছবিতে গরুর খামারের কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে

আব্দুস ছামাদ খান : সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় মিল্ক ভিটা জোনে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ দুগ্ধ শীতলীকরণ কারখানা। ব্যক্তিমালিকানার এসব কারখানায় দুধ প্রক্রিয়াজাত শেষে তা ঢাকায় সরবরাহ করছেন মিল্ক ভিটার চুক্তিবদ্ধ খামারিরা। এতে সরকারি প্রতিষ্ঠানটির দুধের উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। সংকটে প্যাকেটের তরল দুধ ছাড়াও দুগ্ধজাত বিভিন্ন পণ্য সরবরাহের শৃঙ্খলায় বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দুধ শীতলীকরণ করায় স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে লোকসানের আশঙ্কা করছেন মিল্ক ভিটার কর্মকর্তারা। তবে খামারিদের দাবি, উৎপাদন খরচ বাড়লেও দীর্ঘদিন মিল্ক ভিটা কর্তৃপক্ষ দুধের দাম বাড়ায়নি। বাধ্য হয়েই চুক্তি উপেক্ষা করে বাইরে দুধ বিক্রি করছেন বলে জানান তারা। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, দুগ্ধশিল্পের প্রসারে ১৯৭৩ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে পাবনার বড়াল নদের তীরে বাঘাবাড়ীতে গড়ে ওঠে সমবায়ভিত্তিক দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান মিল্ক ভিটা। এ প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পাবনা ও সিরাজগঞ্জ অঞ্চলে দুগ্ধশিল্পে নবযাত্রার সূচনা হয়। প্রাণিসম্পদ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ এলাকায় মিল্ক ভিটার প্রত্যক্ষ সহায়তায় ২৫ হাজার দুগ্ধ খামার গড়ে উঠেছে। এসব খামারে গড়ে দিনে ১০ থেকে ১২ লাখ লিটার গরুর দুধ উৎপাদন হয়। মিল্ক ভিটা ছাড়াও অন্তত ১৫টি অনুমোদিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এ অঞ্চলের খামারিদের থেকে দুধ সংগ্রহ করে। মিল্ক ভিটার কর্মকর্তারা জানান, অন্তত ৩ হাজার ৪৭৪টি প্রাথমিক দুগ্ধ সমিতি তাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। এসব সমিতির সদস্য হিসেবে দেড় লাখের বেশি দুগ্ধ খামারি রয়েছেন। চুক্তি অনুযায়ী তারা অন্য কারও কাছে দুধ বিক্রি করতে পারবেন না। শুধু মিল্ক ভিটার চুক্তিবদ্ধ খামারে দিনে ৭ থেকে সাড়ে ৭ লাখ লিটার দুধ উৎপাদিত হয়, যার পুরোটাই প্রতিষ্ঠানটির পাওয়ার কথা। তবে সম্প্রতি তালিকাভুক্ত খামারিরা লোকসানের অজুহাত দেখিয়ে মিল্ক ভিটায় দুধ সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছেন। এতে মিল্ক ভিটার উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দুধ শীতলীকরণ করে, স্বাস্থ্যবিধি না মেনে অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সরবরাহ করায় বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। এ বিষয়ে মিল্ক ভিটার চেয়ারম্যান নাদির হোসেন লিপু বলেন, ‘দুধে কমপক্ষে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ ফ্যাট না থাকলে আমরা নিই না। ল্যাকটোমিটারে দুধের গুণগত মান যাচাই করেই তা নেয়া হয়। কিন্তু অনুমোদনহীন কারখানায় এসব মান যাচাই করতে হয় না বলে খামারিরা বেশি লাভের আশায় সেখানে দুধ দিচ্ছেন। তবে সুনির্দিষ্ট আইন না থাকায় আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘খামারিদের স্বার্থে মিল্ক ভিটা গত এক বছরে দুবারে লিটারপ্রতি দুধের দাম প্রায় চার টাকা বাড়িয়েছে। কিন্তু বাজারে এখন দাম আরও বেশি থাকায় খামারিরা আমাদের সঙ্গে প্রতারণার পথ বেছে নিয়েছেন।’ পাবনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আল মামুন হোসেন বলেন, ‘অনুমোদন ছাড়া যত্রতত্র দুগ্ধ শীতলীকরণ কারখানা দেয়া যায় না। দুধ সংগ্রহ ও বাজারজাতে অনেক সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। না হলে এসব দুধ খেয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দেয়। অবৈধ কারখানার বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। খোঁজখবর নিচ্ছি। এসব প্রতারণা ঠেকাতে মিল্ক ভিটাকেও সহায়তার মনোভাবে এগিয়ে আসতে হবে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ