বুধবার ২৭ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে যাওয়ায়  নিরপেক্ষ শক্তি হিসেবে সুফল অবস্থানে চীন

সংগ্রাম ডেস্ক : আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়া এ অঞ্চলে দেশটির নেতৃত্ব ক্ষয়িষ্ণু হয়ে পড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আমেরিকা অঞ্চলে নিরপেক্ষ শক্তি হিসেবে সবচেয়ে বেশি সুফল পাওয়ার মতো অবস্থানে রয়েছে চীন। আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়ায় এখানে আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার ফলে একধরনের অনিশ্চয়তা সৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে।

আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়ার প্রভাব নিয়ে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) সবশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমন অভিমত দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত সমালোচিত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতময় দেশগুলো থেকে খুব শিগগির মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা নেই। পাশাপাশি আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার কারণে এ অঞ্চলে তার মিত্র দেশগুলোর স্বাধীনভাবে নিজেদের নিরাপত্তানীতি প্রণয়নের বিষয়টি সামনে এসেছে।ইন্টারনেট।

 ‘আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়া: মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আমেরিকার ভূরাজনীতির ঝুঁকির ওপর প্রভাব’ শীর্ষক ১২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটিতে ৬টি অধ্যায় রয়েছে। প্রতিবেদনটিতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে খুব শিগগির মার্কিন সেনা প্রত্যাহার না হওয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আমেরিকায় মার্কিন নেতৃত্ব দুর্বল হওয়ার প্রেক্ষাপটে চীনের সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে যাওয়া, মার্কিন মিত্রদের স্বাধীনভাবে নিরাপত্তার নীতিগত অবস্থান চূড়ান্ত করা, আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার ফলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির আশঙ্কার মতো বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের শুরুতে বলা হয়, আফগানিস্তানে তালেবান যে গতিতে ক্ষমতায় ফিরে এসেছে, তাতে অনেকে চমকে গেছে। নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে চিরাচরিত মিত্রদের যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা যে ঝুঁকিপূর্ণ, এই ঘটনা তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি তালেবানের ক্ষমতা দখলের ফলে বৈশ্বিক অন্য শক্তিগুলোর এই অঞ্চলে তাদের প্রভাব বিস্তারের সুযোগের সম্ভাবনার দিকটিও সামনে এসেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইসরায়েল, মিসরের মতো যুক্তরাষ্ট্রের চিরাচরিত মিত্রদের বৈশ্বিক অন্য শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ হবে। তারা যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়াই তাদের আঞ্চলিক তৎপরতার চেষ্টা চালাতে পারে। এতে সামগ্রিকভাবে সম্পর্কে নতুন মেরুকরণ যেমন হতে পারে, তেমনি নতুন করে অস্থিতিশীলতাও সৃষ্টি হতে পারে।

দ্রুত মার্কিন সেনা প্রত্যাহার হবে না : প্রতিবেদনে বলা হয়, আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এই পরিস্থিতিতে অন্য সংঘাতময় এলাকা থেকে মার্কিন সেনা যে দ্রুত প্রত্যাহার হবে না, তা একরকম নিশ্চিত করেই বলা যায়। বিশেষ করে ইরাক ও সিরিয়ায় আইএসের কিছুটা উপস্থিতি আছে। ফলে ছোট পরিসরে হলেও এই অঞ্চলে মার্কিন অবস্থান আপাতত থাকবে। তবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি রোধ ছাড়া এ অঞ্চলে ব্যয়বহুল ও দীর্ঘস্থায়ী কোনো সংঘাতে না জড়ানোর বিষয়টি যে বর্তমান মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার, তা স্পষ্ট। ফলে আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে বিকশিত হওয়ার ক্ষেত্রে তুরস্ক, রাশিয়া ও চীনের জন্য ব্যাপক সুযোগ তৈরি হবে।

অন্যদের জন্য সম্ভাবনার নতুন ক্ষেত্র : প্রতিবেদন অনুযায়ী আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়ার মধ্য দিয়ে এই অঞ্চলে ধীরে কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে দেশটির গুটিয়ে যাওয়ার এক নির্মম সাক্ষ্য মিলছে। এতে করে দুটি ঘটনা ঘটতে পারে।

 

 

 

প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্রের চলে যাওয়ার ফলে সৃষ্ট খালি জায়গা পূরণের জন্য অন্য বড় শক্তিগুলোর সামনে সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। সমরাস্ত্রের বিষয়টি বিবেচনায় নিলে রাশিয়া এর সুফল পেতে পারে। এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা সমরাস্ত্র কেনাকাটায় বৈচিত্র্য আনতে চাইলে রাশিয়া এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত নিরপেক্ষ রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে ব্যাপক সুফলের ভাগটা চীনের দিকেই যাবে। বিশেষ করে করোনা-পরবর্তী পুনর্গঠন, অবকাঠামো নির্মাণে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চীন এগিয়ে থাকবে। পাশাপাশি অর্থায়ন ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে চীনের ভূমিকা হবে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ