রবিবার ২৩ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

কবিতা

 

সেই পাখিটা 

শাহ আলম বাদশা

 

একটা পাখি ডাকাডাকি করতে থাকে রোজ

কেউ নড়ে না কেউ করে না সেই পাখিটার খোঁজ।

মিষ্টিসুরে ঠিক অদূরে সেই পাখিটা সেই

ডেকে-ডেকে থেকে-থেকে হারায় কত খেই।

 

সেই পাখিটার সেই আঁখি তার কয় যে কত বোল-

কেউ বোঝে না কেউ খোঁজে না, ভাবছে কলরোল!

রঙিন পাখা নকশা-আঁকা দেখেই ভরে মন--

তার সে কথা দুঃখ-ব্যথা বাড়েও প্রতিক্ষণ।

 

খাঁচার পাখি বাঁচার ফাঁকি দেয়নি তবু হায়

উড়তে মানা বন্দি ডানা এমনটা কে চায়?

খাদ্য আছে বাদ্য আছে নেইতো স্বাধীনতা

তার কী দাবি, কেউ কি ভাবি সেই পাখিটার কথা।

 

 

আমরা শিশু

কবির কাঞ্চন

 

আমরা শিশু আঁকতে পারি হাসিখুশির ছবি

হাসতে পারি হাসাতে পারি এই পৃথিবীর সবি।

আমরা শিশু খেলতে পারি গুলবাগিচার কোলে

ঘুড়ির মতো উড়তে পারি হাওয়ায় দোলে দোলে।

 

আমরা শিশু নাচতে পারি ছন্দ সুরে সুরে

জীবনটাকে গড়তে পারি তেপান্তরে ঘুরে।

আমরা শিশু শিখতে পারি দেশবিদেশে ছুটে

জ্ঞানের আলোয় জ্বলতে পারি মনের আঁধার টুটে।

 

আমরা শিশু ভাঙতে পারি গোস্বা যাদের মনে

ভালোবেসে বাঁধতে পারি দোস্তি তাদের সনে।

আমরা শিশু আনতে পারি আলোর সূর্যটাকে

নতুন করে গড়তে পারি বিশ্বজগতটাকে।

 

 

দুষ্টুর দল

শামীম শাহাবুদ্দীন

 

খালে বিলে মাছ ধরে

দুষ্টুর দল

সারা গায়ে কাদা মেখে

করে কোলাহল।

 

কাদায় বানিয়ে দাড়ি

খিলখিল হাসে

দুষ্টুর দল শুধু

কাদা ভালোবাসে!

 

মাছ ধরা রেখে ওরা

করে হইচই

শিশুদের মন সে তো

কাদার মতই।

 

সাঁঝের বেলায় বাড়ি

ফিরে খালি হাতে

মা মনির গালাগাল

জুটে সাথে সাথে!

 

 

 

পাখিদের সংগীত

এরশাদ জাহান

 

খোকসা ডালে টুইট টুইট

গাইছে পাখি টুনটুনি

গানের তালে বাতাস বাজায়

শিরিষ ফলের ঝুনঝুনি।

 

লাউ মাচানে মিষ্টি গলায়

দোয়েল সাথে গান ধরে

দোহার সেজে খোকন সোনা

শিস বাজিয়ে তান ধরে।

 

ইমলি শাখায় বুলবুলিও

পাকা ফলের লোভ ভুলে

খোকার শিসে তাল মিলিয়ে

গলায় মধুর গান তুলে।

 

ঝিঙে লতায় ফিঙে বসে

টিং টিঙে টিং ঢোল বাজায় বেনে বউ আর শালিক মিলে

হারমোনি ও খোল বাজায়।

 

 

 

ফলের ভাবনা

আহমাদ সোলায়মান

 

আপেল বলে এই পেঁয়ারা

তুই খেতে খুব শক্ত

ডালিমকে দেখ টকটকে খুব

ওর গায়ে সব রক্ত।

 

পেপেকে দেখ পুষ্টির রাজা,

লিচুই মজার গন্ধ

আনারস আর দুধের মাঝে

সব সময়ই দ্বন্দ্ব।

 

আমি আপেল স্বাদের রাজা

কচকচে খুব স্বাদে

তাই না শোনে আমড়া, বরই

খুব চেচিয়ে কাঁদে।

 

কান্না শোনে জলপাই এসে

কি হয়েছে বলো?

করতে বিচার সবাই মিলে

আমের বাড়ি চলো।

 

আমের বাড়ি এসে দেখে

কাঁদছে গাছে বসে

পাকছে না তাই গাছের মালিক

চড় মেরেছে কষে।

 

এসব দেখে বলছে কাঁঠাল

কান্না নয় আর করা

আমরা সবাই একেক রকম

স্বাদ-পুষ্টিতে ভরা।

 

 

একটি দোয়েল 

শ্যামল বণিক অঞ্জন

 

সূর্য যখন আকাশ কোনে

হেসে ওঠে ভোরে, 

একটি দোয়েল শিষ দিয়ে যায়

মধু মাখা সুরে!

 

ঘুম ভেঙে যায় খোকন সোনার

দোয়েল পাখির গানে, 

তাকিয়ে রয় জানলা দিয়ে

গানের পাখির টানে।

 

 

বাংলা মা

কাব্য কবির 

 

বাংলা মা তোর রূপ দেখিয়া

মুগ্ধ হলাম আমি,

হিরে মুক্তার থেকেও যে

বাংলা মা তুই দামি।

 

ভালোবেসে জায়গা দিলাম

তোকে আমার বুকে,

দোয়া করি চিরদিনই

থাকিস যেন সুখে।

 

ভালো থাকলে বাংলা মা তুই

আমি থাকি ভালো,

আমার কাছে বাংলা মা তুই 

চাঁদের নরম আলো।

 

 

ছোট্ট খোকা

শাহারুল ইসলাম সুজন

 

ছোট্ট খোকা নয়তো বোকা

খুব সকালে জাগে,

বই খাতা আর কলম নিয়ে

পাঠশালে যায় আগে।

 

পাঠ্যবইয়ের পড়াগুলো

মনে পুষে রাখে,

সুযোগ পেলেই রং তুলিতে

কত্ত কিছু আঁকে!

 

পড়ার সময় পড়াশোনা

খেলার সময় খেলা,

ছোট্ট খোকার এই নিয়মে

হয় না কভু হেলা।

 

পিতা মাতা গুরুজনে

মান্য করে চলে,

হাসিমুখে প্রতিটা ক্ষণ

সত্য কথা বলে।

 

ভালোবাসা স্নেহ আদর

সবার কাছে পেয়ে,

ছোট্ট খোকার ছোট্ট জীবন

সুখে থাকে ছেঁয়ে।

 

 

শরতের দিন

জুনাইদ বিন মুহিব

 

 

শরতের ফুলে সাজে প্রকৃতির রূপ

খাল বিল নদী চলে জলে চুপ চুপ।

পুকুর পানিতে ভাসে শাপলার হাসি

রোদের কোমলে ঝরে রূপ রাশিরাশি। 

 

শরত সকালে রবি চুমু দেয় মাঠে

ধানের জমিতে আর সবুজের হাটে।

উড়ে যায় টিয়ে আর ময়না শালিক

কেয়া, জুঁই আর কাশ করে চিকচিক। 

 

বর্ষার শেষে সব পানি চলে যায়

কৃষক আবার চাষ শরতে ফলায়।

নদীপথে নাও আর পাড়ে থাকে বালি

মাঝি ভাই গেয়ে চলে গান ভাটিয়ালি। 

 

আকাশের নীলে উড়ে সাদাসাদা মেঘ

শরতের দিনে পুষি অতুল আবেগ।

 

 

 

শরতের ফুল

মাহমুদ আরিফ 

 

গাছে গাছে ফুটে আছে

শরতের ফুল

কারো সাথে হয় না তো

সুবাসের তুল।

 

বাতাসের ছোঁয়া লেগে

মাথা নাড়ে জুঁই

মন চায় কাছে গিয়ে

তারে আমি ছুঁই।

 

ভোর হলে ছোট গাছে

বেলিফুল হাসে

পাখিদের গানে গানে

সুবাস যে ভাসে।

 

গাছে গাছে হেসে দেয়

আরও কত ফুল

ঢেউ তুলে ইশারায় 

ডাকে কাশফুল।

 

একটি ঘুড়ি

তৈয়বুর রহমান ভূঁইয়া

 

একটি ঘুড়ি সুতোকাটা

তার মনে খুব কষ্ট,

একটি ঘুড়ি নাটাই ছাড়া

 সে হলো পথভ্রষ্ট।

একটি ঘুড়ি খোকার ঘুড়ি

উড়ায় বিকেল বেলা,

একটি ঘুড়ি নিয়েই যে তার

নিত্যদিনের খেলা।

 

বৃষ্টি পড়ে 

মাহমুদ নাঈম 

 

বৃষ্টি পড়ে আকাশ তলে

উতলে উঠে কূপ 

বৃষ্টি পড়ে বৃক্ষলতায়

ফুলপাখিরা চুপ।

 

বৃষ্টি পড়ে সকাল সন্ধ্যা 

বৃষ্টি দারুণ মন

বৃষ্টিতে আজ ভিজবে খোকা

এই করেছে পণ।

 

বৃষ্টি পড়ে তাঁর ইশারায় 

যখন তিনি চান

বৃষ্টি হলো এক নিয়ামত

প্রভুর দেয়া দান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ