রবিবার ২৩ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

পথিক ও তালগাছ

মাহমুদুল হাসান মুন্না :

চৈত্রের কাঠফাটা রোদ। মাঠের শুনশান নীরবতা ভেঙে একটি দোয়েল সুমধুর সুরে শিস দিচ্ছে। অদূরের মাঠে রাখাল গরু-ছাগলকে পানি খাওয়াচ্ছে। পথিক সেই পথে হেঁটে চলেছে আপন গন্তব্যে। তেষ্টায় গলা শুকিয়ে গেছে। পথের পাশে গাছ নেই, ছায়া নেই, প্রচন্ড গরম আর পিপাসায় পথিক দিশেহারা। একখন্ড মেঘ  মাথার উপর দিয়ে উড়ে গেলে কিছুক্ষণ হাঁফ ছেড়ে বাঁচে, কিছুটা স্বস্তি পায়। খানিক হেঁটে খানিক জিরিয়ে পথিক তার গন্তব্যে পৌঁছালো।  

 

পথিক মনে মনে ভাবল এই পথে হেঁটে যেতে মানুষের কতই না কষ্ট হয়! যদি আমি পথের ধারে কিছু গাছ লাগিয়ে দিই তাহলে মানুষের কষ্ট কমবে। ক্লান্ত পথিকগণ গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিতে পারবে। সেইবার ভাদ্র মাসে সেই পথিক পথের দুই ধারে অনেকগুলো তালের আঁটি পুঁতে দিলো।

 

কয়েক বছর কেটে গেল। সেই পথিক আবার ঐ পথে হেঁটে যাচ্ছে। সারিবাঁধা তালগাছ, কী অপূর্ব দশ্য! দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। গাছে গাছে পাখির বাসা। কিচিরমিচির ধ্বনিতে পথিকের প্রাণে দোলা লাগল। কাঠফাটা রোদেও গাছের ছায়ায়, মৃদু হাওয়ায় পথিক স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটতে থাকল। কিছুদূর যাওয়ার পর একটা গাছের নিচে বসল। খানিক জিরিয়ে নিয়ে আবার তার গন্তব্যে হাঁটা শুরু করবে। তখন দুইটি বাবুইয়ের কথোপকথন শুনতে পেল।

 

বাবুই-১ : তালগাছে বাসা বুনে আমার কতই না সুখে আছি! এই সারি সারি তালগাছ কে লাগিয়েছে?

বাবুই-২ : কে লাগিয়েছে তা তো জানি না। তবে তিনি মহৎ কেউ হবেন। 

বাবুই-১: হ্যাঁ,অবশ্যই তিনি মহান মানুষ, পরিবেশ সচেতন। 

 বাবুই-২ : ঠিক বলেছ, গাছ লাগালে পরিবেশ সুন্দর থাকে। গাছ অক্সিজেন ত্যাগ করে, প্রাণিকুল সেই অক্সিজেন গ্রহণ করে বেঁচে থাকে।

বাবুই-১ : শুধুই তা-ই নয়,  গাছ কার্বন ডাইঅক্সাইড বিষ গ্রহণ করে পরিবেশকে সুস্থ রাখে। 

এজন্যই বলে, " গাছ লাগান, পরিবেশ বাঁচান"।

 

বাবুইয়ের কথা শুনে পথিকের মন ভরে গেল। আবার তার গন্তব্যে হাঁটতে শুরু করলো। 

পথিক ভাবতে থাকলো, সবাই যদি পরিবেশ সচেতন হতো তাহলে পৃথিবী অনেক সুন্দর হতো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ