সোমবার ২৪ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

চলনবিলে অবাধে শামুক নিধন হুমকিতে জীববৈচিত্র্য

 

শাহজাহান, তাড়াশ : এক সময়ের জীববৈচিত্র্যের তীর্থভূমি চলনবিল অঞ্চলে পাঁচ-ছয় বছর ধরে বর্ষা মৌসুমে বিলের বিভিন্ন অংশে জাল দিয়ে অবাধে চলছে শামুক নিধন। মূলত হাঁসের খামার, চিংড়ি ঘেরে ও মাছের খাদ্য হিসেবে প্রতিদিন শত শত বস্তা শামুক বিক্রি হচ্ছে। এতে হুমকিতে পড়েছে জীববৈচিত্র্য। অন্যদিকে, নির্বিচারে শত শত টন শামুক নিধনের ফলে চলনবিলের বিস্তীর্ণ ফসলি জমির উর্বরতা শক্তি কমে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রাণীবিদরা। জানা গেছে, চলনবিলের সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, পাবনার ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, চাটমোহর, নাটোরের সিংড়া, গুরুদাসপুর ও নওগাঁর আত্রাই উপজেলার চলনবিল অধ্যুষিত বিলপাড়ে চলতি বছর অন্যান্য বছরের মতো ২ মাস ধরে চলনবিলে চলছে অবাধে শামুক নিধনের মহোৎসব। কিছু মৌসুমি শামুক ব্যবসায়ী প্রতিদিন গড়ে চলনবিলাঞ্চলে ৫ থেকে ৭ টন সংগ্রহ করা শামুক বিক্রি করছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মূলত উপার্জনের আশায় চলনবিলের কিছু মানুষ প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ছোট ছোট নৌকা নিয়ে বিলের বিভিন্ন অংশে বিশেষ করে ডুবে যাওয়া ফসলি জমি থেকে নেট জাল, হেসি জাল, মই জাল ও হাত দিয়ে শামুক সংগ্রহ করছেন। অথচ শামুক সংগ্রহের ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশ যে বিপন্ন হয়, সেটা তারা জানেন না বলে জানান তাড়াশের কামাড়শোন গ্রামের ইয়ার মাহমুদ। বর্তমানে বিশেষ করে চলনবিলের তাড়াশের অংশে কমপক্ষে ১৫-২০টি পয়েন্টে চাটমোহরের ১০-১২টি পয়েন্টে, গুরুদাসপুরের ৮-৯টি পয়েন্টে, সিংড়া উপজেলার ১২-১৫টি পয়েন্টে ও অন্যান্য উপজেলার বিল-জলাশয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গণহারে শামুক নিধন চলছে। চলনবিলের নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার বেড়াবাড়ি গ্রামের জালাল খন্দকার জানিয়েছেন, চলনবিলের বিভিন্ন এলাকা থেকে এ মৌসুমে প্রতিদিন ১৫-২০ ট্রাক শামুক চলে যাচ্ছে বাগেরহাট, যশোর, খুলনার চিংড়ি চাষের ঘেরে। আবার চলনবিলের ওই শামুকই নাটোর, রাজশাহী, নীলফামারী, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম অঞ্চলে হাঁসের খামারে চলে যাচ্ছে বলে জানান ভেটুয়া গ্রামের সোলায়মান হোসেন। 

অন্যদিকে, শামুক ব্যবসায়ী সুমন আলী জানান, বর্ষা মৌসুমে চলনবিলে ফসলের জমিতে পানি আছে অথবা আমন ধানের জমিতে প্রচুর পরিমাণ ছোট, মাঝারি ও বড় শামুক পাওয়া যায়। সে শামুক সংগ্রহ করছে এলাকার লোকজন এবং তা প্রতি বস্তা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে অবাধে। এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লুৎফুন্নাহার লুনা জানান, শামুক নিধনের জন্য কৃষি বিভাগের করণীয় কিছু নেই। এ বিষয়ে কৃষি বিভাগের কোনো দিকনির্দেশনা না থাকায় তারাও কিছু করতে পারছে না। আবার চলনবিলের শামুক নিধন প্রসঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিদ্যা অনুষদের ডিন ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম জানান, চলনবিলে অবাধে শামুক নিধনের ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশ বিপন্ন হচ্ছে। পাশাপাশি বিলের কৃষি জমির উর্বরতা শক্তি হ্রাস পাচ্ছে। এ ছাড়া শামুক দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলে যাওয়ায় চলনবিলের হাজার হাজার হাঁসের খামারের হাঁস তাদের এলাকায় প্রাকৃতিক খাদ্য শামুক থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ ছাড়া রাক্ষুসে মাছ ছোট ছোট শামুক খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করলেও সেটাও তারা পর্যাপ্ত পরিমাণে পাচ্ছে না। এতে করে চলনবিলের প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ