রবিবার ১৭ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

আমাদের মধ্যে সম্পর্ক পরিবারের চেয়েও ভালো

 

হাক্কানি নেটওয়ার্ক নিয়ে বারাদার 

১৬ সেপ্টেম্বর, বিবিসি, এএফপি : মৃত্যুর গুজব উড়িয়ে দিয়ে ভিডিও সাক্ষাৎকারে হাজির হয়েছেন তালেবানের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও উপপ্রধানমন্ত্রী মোল্লা আবদুল গনি বারাদার। তালেবানের ভেতর অন্তর্দ্বন্দ্বের খবর উড়িয়ে তিনি বলেন, না, এটা সত্য নয়। আমি ঠিক আছি, সুস্থ আছি। আমি কাবুলের বাইরে ছিলাম, ভুয়া খবর অস্বীকার করতে ইন্টারনেটে ঢোকারও উপায় ছিল না। 

প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে বারাদারের সঙ্গে প্রভাবশালী হাক্কানি নেটওয়ার্কের অনুগতদের মধ্যে ঝগড়া হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছিল আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। তবে এ খবর উড়িয়ে দিয়েছেন বারাদার।  এর আগে তালেবানের এই সহ-প্রতিষ্ঠাতা বেশ কয়েকদিন ধরেই লোকচক্ষুর আড়ালে ছিলেন।

দোহায় অবস্থিত তালেবানের রাজনৈতিক কার্যালয় বারাদারের সাক্ষাৎকারের ছোট এই ভিডিও ক্লিপটি টুইটারে প্রকাশ করে। ভিডিওতে তালেবানের সহ-প্রতিষ্ঠাতাকে সোফায় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের হয়ে যিনি সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলেন তার পাশে বসে থাকতে এবং কাগজ থেকে কিছু পড়তে দেখা গেছে। অন্তর্দ্বন্দ্বের খবর অস্বীকার করে বারাদার বলেন, আল্লাহকে ধন্যবাদ। আমাদের নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক ভালো, আমরা একে অপরকে শ্রদ্ধা করি। আমাদের মধ্যে সম্পর্ক পরিবারের চেয়েও ভালো। এর আগে তালেবানের বিভিন্ন সূত্রের বরাতে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছিল, নতুন সরকার গঠন নিয়ে তালেবানে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে।  যদিও প্রথম থেকেই তালেবান এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিল।

এর মধ্যে সংঘর্ষে বারাদারের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে। তখন বারাদার একটি অডিওবার্তায় বলেন, আমি একটি সফরে আছি। আমি এই মুহূর্তে যেখানেই থাকি না কেন, আমরা সবাই ভালো আছি। এদিকে বুধবার দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজুদ্দিন হাক্কানির ভাই আনাস হাক্কানি তালেবানে দ্বন্দ্বের বিষয় অস্বীকার করে টুইটারে এক বিবৃতিতে বলেন, আমাদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। ১৫ আগস্ট কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর সম্প্রতি ৩৩ সদস্যবিশিষ্ট অন্তর্র্বর্তী সরকার গঠন করে তালেবান। এরপরই মূলত দ্বন্দ্বের খবর সামনে আসে।

এদিকে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ এখনো তালেবানের দখলে। এই দখল কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তালেবানের শান্তি চুক্তির সময় সশস্ত্র সংগঠনের যে নেতাকে নিয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে, তিনি মোল্লা আবদুল গনি বারাদার। তালেবানের এ সহপ্রতিষ্ঠাতা জায়গা পেয়েছেন ২০২১ সালে টাইম ম্যাগাজিনের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায়। এই ১০০ ব্যক্তির প্রোফাইল প্রকাশ করেছে টাইম। বারাদারের পরিচিতিতে বলা হয়েছে, তালেবানের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন তিনি। এ ছাড়া তালেবানের প্রভাবশালী সামরিক নেতাও তিনি। টাইমের জন্য বারাদারের এ পরিচিতিমূলক লেখা পাকিস্তানি সাংবাদিক আহমেদ রশিদ লেখেন।

টাইম বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তালেবানের সমঝোতায় মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন বারাদার। আর এ সমঝোতার ওপর ভিত্তি করেই আফগানিস্তানের ক্ষমতার মসনদ দখল করতে পেরেছে তালেবান। বলা হয়ে থাকে, তালেবানের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে থাকেন বারাদার। আফগানিস্তানের সাবেক সরকারি কর্মীদের জন্য যে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়েছে, সেই সিদ্ধান্তও তিনি নেন। কাবুলে তালেবানের প্রবেশের সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়াতে তাঁর ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। এ ছাড়া প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে তালেবানের যোগাযোগ ও সফরেও তিনি ছিলেন মুখ্য ভূমিকায়। আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে যাঁরা কাজ করবেন, তাঁদের অন্যতম হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বারদারকে। তবে একটি প্রশ্ন তাঁকে নিয়ে থাকছে, তা হলো আফগানিস্তান থেকে মার্কিনদের বিদায়ে যিনি কাজ করেছেন, তিনি তালেবানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করতে পারবেন কি না।

তালেবান যাত্রার শুরু থেকেই গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন বারাদার। তালেবানের প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা ওমরের ভগ্নিপতি তিনি। আল-জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, উরুজগান প্রদেশে ১৯৬৮ সালে বারাদারের জন্ম। তিনি বেড়ে উঠেছেন আফগানিস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর কান্দাহারে। ১৯৮০ দশকে অন্যান্য তালেবান নেতার মতো তিনিও মুজাহিদিনে যোগ দেন। সোভিয়েত ইউনিয়নের সেনারা ফিরে গেলে তিনি কান্দাহারে ফিরে যান এবং মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর ১৯৯০ দশকের শুরুতে তালেবান প্রতিষ্ঠায় মোল্লা ওমরকে সাহায্য করেন তিনি।

১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তালেবান যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন এ সরকারে উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন বারাদার। ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে হামলা চালালে দেশ ছেড়ে পালান তিনি। এরপর ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বারাদার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ