সোমবার ২৪ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

রংপুর নগরীকে অপরাধ ও মাদকমুক্ত নগরীতে পরিণত করার ঘোষণা

 রংপুর অফিস: রংপুর মহানগরীকে অপরাধ ও মাদকমুক্ত নগরীতে পরিনত করার ঘোষণা দিয়েছেন মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল আলীম মাহমুদ ।

গত বুধবার দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তৃতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণা দেন । তিনি বলেন, ২০১৮ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর তিনটি জোনের অধীনে ৬টি থানা নিয়ে কার্যক্রম শুরু হওয়া মেট্রো পুলিশ ইতোমধ্যেই অপরাধ. মাদক ও সন্ত্রাস দমনে দৃশ্যমান কার্যক্রম নগবাবাসীকে নিশ্চিত করেছে । এছাড়াও পুলিশ মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনী প্রকাশ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, মানবতার বন্ধন সংগঠনের মাধ্যমে ইয়াতিমখানা নির্মানসহ বিভিন্ন কাজ করেছে । তিনি বলেন, মহনাগর হাকিম আদালত স্থাপনসহ মামলার জট কমিয়ে আনায় কাজ করেছে মেট্রো পুলিশ । সম্পূর্ণ নগরীকে সিসিটিভির আওতায় এনে অপরাধ দমন ও বিচার নিশ্চিতে তাৎক্ষণিকতার মাধ্যমে জনবান্ধব পুলিশিং সেবা নিশ্চিত করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ।

এছাড়া, অপরাধ দমনে সক্রিয় ভূমিকার পাশাপশি অপরাধ তদন্ত, চাঞ্চল্যকর অপহরণ ও হত্যা মামলার রহস্য দ্রুততার সাথে উদঘাটন করায় ব্যাপক সাফল্য অর্জন হয়েছে। পুলিশ কমিশনার বলেন, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ বিভাগের ৩ টি জোনের অধীন ৬টি থানায় মোট ১ হাজার ৭৪৪ টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৪৩৮ টি মামলার তদন্ত সমাপ্ত করে নিষ্পত্তি করাসহ ১ হাজার ৮৩০ জন আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। ক্রাইম ডিভিশন ও গোয়েন্দা বিভাগ কর্তৃক গত এক বছরে ৫৪ লাখ ৪০ হাজার ৬৭০ টাকা মূল্যমানের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করাসহ পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ ২টি জোনের অধীন ৩৪ হাজার ৬৪৮ টি মামলা ৫ কোটি ৯৬ লাখ ৯৯ হাজার ৮৩০ টাকা জরিমানা আদায় করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করা হয়েছে। এছাড়া নকল ঔষধ, সার, সাবান, প্রসাধনী, কয়েল, ভেজাল পোলাও চাল, দুধ এবং সরকার নিষিদ্ধ পলিথিন কারখানায় অভিযান পরিচালনা করে আনুমানিক ৩ কোটি টাকা মূল্যের মালামাল জব্দসহ ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় হয়েছে। মহানগরীর আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় চলমান কার্যক্রম জোরদারকরণ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার যুগোপযোগী বাস্তবায়নের মাধ্যমে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ সরকারের ভিশন-২০২১ এবং ভিশন-২০৪১ বাস্তবায়নের অদম্য ও প্রতিশ্রুতিশীল অংশীদার।  

তিনি বলেন, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ৩ বছরে এস্টেট এন্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগের কার্যক্রমে দৃশ্যমান গতিশীলতা এসেছে। পুলিশ লাইন্সের জন্য দর্শনা পাহাড়ী মৌজার ১০(দশ) একর, হারাগাছ থানা, পরশুরাম থানা, হাজিরহাট থানা ও তাজহাট থানার প্রত্যেকটির জন্য শূন্য দশমিক ৭৫ একর এবং পুলিশ কমিশনারের কার্যালয় এর জন্য গণেশপুর মৌজায় ১০ একরসহ পুলিশ কমিশনারের বাসভবনের জন্য রঘুনাথগঞ্জ মৌজায় শূন্য দশমিক ৩৫ একর ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া রংপুর জেলা হতে প্রাপ্ত নবাবগঞ্জ ও ধাপ পুলিশ ফাঁড়ির ৬ তলা ভবন  এবং পুলিশ অফিসার্স মেস এর নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মেহেদুল করিম, উপপুলিশ কমিশনার (হেডকোয়ার্টাস সদর দপ্তর) মহিদুল ইসলাম, উপ পুলিশ কমিশনার (ডিবি) কাজী মুত্তকী ইবনু মিনান, উপ পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) মারুফ হোসেন, উপ পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মিনহাজুল ইসলামসহ মেট্রোপলিটন পুলিশের উর্ধতর্ন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ