বুধবার ২০ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র হচ্ছে -রিজভী

গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি নসরুল হামিদ মিলনায়তনে পাওয়ার অফ ইউথ আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমদ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহল কবির রিজভী। তিনি বলেন, অতীতেও তাকে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র হয়েছে। এখনো হচ্ছে। জেলখানায় সঠিক চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। ভালো চিকিৎসা দেওয়ার জন্য বাহিরে যাওয়ারও অনুমতি দিচ্ছে না। খালেদা জিয়ার ১৪তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে পাওয়ার অব ইয়ুথ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহল কবির রিজভী বলেন, একবার এরশাদের হাত থেকে আরেকবার ফখরুদ্দীন-মঈনুদ্দিনের কাছ থেকে অবরুদ্ধ গণতন্ত্রকে মুক্ত করেছেন আমাদের নেত্রী। কখনো আপস করেননি।
খালেদা জিয়াকে কারাগারে চিকিৎসা দেওয়া হয়নি মন্তব্য করে বলেন, আমরা বারবার তার উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার কথা বলেছি। বারবার বলার পরও তা দেওয়া হয়নি। তাকে তিলে তিলে মেরে ফেলার যড়যন্ত্র হয়েছে। সাজানো মামলায় তাকে আটকে রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রযন্ত্রকে কাজে লাগিয়ে তারা আটকে রেখেছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দ্যেশে রিজভী বলেন, আপনার নেতৃত্বে দেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। গুম-খুনের জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মহল। আপনি শুধু ফ্লাইওভার আর উন্নয়ন দেখিয়ে যাচ্ছেন।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ভয় ও উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে সময় পার করছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, সেপ্টেম্বর থেকে বিএনপিকে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার অভিযান চালানো হচ্ছে। রিজভী বলেন, তাদের (আওয়ামী লীগ) প্রহসনের মাত্রা এতোটাই বেড়ে গেল যে লাশের বিরুদ্ধেও মামলা দেওয়া শুরু করল। বিএনপির যে ছেলেটা দুই বছর আগে মারা গেছে, তাকেও মামলা দেওয়া শুরু করেছে। কারণ বিএনপির যে লোকটি মারা গেছে, সে জীবন্ত হলে আওয়ামী লীগের ভোট হাত ছাড়া হয়ে যাবে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, মন্ত্রিপরিষদ প্রধানমন্ত্রীর কাছে নির্দেশনা চান নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য। অথচ সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠনে অথরিটি হলো রাষ্ট্রপতি ওপর। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর প্রথম পছন্দ তো নুরুল হুদা। যে ব্যক্তিটি দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে অপরিচ্ছন্ন নির্বাচন করেছে, তাকে প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত প্রয়োজন। এই নুরুল হুদা সাহেবের নেতৃত্বে ভোটারবিহীন নির্বাচন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী যে যে প্রার্থীতা ঘোষণা করতে বলা হয়, নির্বাচন কমিশন সে সেসব প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যদি নতুন নির্বাচন কমিশনার ঘোষণার নির্দেশ দেওয়া হয়, তাহলে প্রধানমন্ত্রী এই নুরুল হুদাকেই পছন্দ করবে। আর যদি সে আবার নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পায়, তাহলে নির্বাচন আরও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে।
‘করোনা নিয়ে কে কী সমালোচনা করল, আমি তার পরোয়া করি না’- স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের জবাবে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী পরোয়া করবেন কেনো। তার তো ভোটের দরকার হয় না। তার তো নির্বাচনের দরকার হয় না। প্রধানমন্ত্রী ভালো থাকলেই তাদের সবকিছু ঠিক থাকবে। মিডিয়াগুলোতে দেখা গিয়েছে ২৭ হাজার লোক মারা গেছে করোনায়। এই ২৭ হাজার লোকের মৃত্যু স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উপহার।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে রিজভী আরও বলেন, আপনার মাঝে যদি কর্তব্যবোধ দায়িত্বশীলতা থাকতো, তাহলে আপনি এ কথাগুলো বলতেন না। এই স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আমলে শুধু জাল-জালিয়াতি আর চুরি হয়েছে। জনগণ মারা গেলে বা করোনায় আক্রান্ত হলে তাতে তার কিছু আসে যায় না।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, আপনি বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছেন। আপনি ফ্লাইওভার দেখান, ব্রিজ দেখান। এগুলোতো বিভিন্ন স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট সরকারও দেখাতো। এগুলো দেখে কী জনগণ উপকৃত হয়?
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জিয়া পরিষদের সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. আব্দুল কুদ্দুস, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাক, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এবং বিএনপির সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আজিজুল বারি হেলাল, ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম আলিম প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ