বুধবার ২৭ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

রাজশাহীর দুই সহস্রাধিক বিদ্যালয়ে পাঠদানের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন

রাজশাহী অফিস: প্রায় দেড় বছর ধরে বন্ধ থাকা রাজশাহীর দুই সহস্রাধিক স্কুলে পাঠদানের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আজ রোববার থেকে রাজশাহীর ১ হাজার ৫৮টি সরকারি প্রাথমিক এবং ৫৪৭ মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ সকল নন-এমপিও স্কুল শিক্ষার্থীদের নিয়ে ক্লাস করতে অপেক্ষায় রয়েছে। প্লে-শিশু ও নার্সারির ক্লাস আপাতত বন্ধ থাকছে। তবে টিকা ছাড়া শিক্ষার্থীরা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকবে বলে অভিভাবকরা শঙ্কা ব্যক্ত করেন। 

রাজশাহীর বিভিন্ন স্কুলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি ১৯ দফা নির্দেশনা অনুযায়ী রাজশাহীর সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নগরী এবং উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য মাস্ক, সাবান, হ্যান্ডওয়াশ, থার্মোমিটারের মজুত নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রায় দেড়বছর পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাসের জন্য উচ্ছ্বাসিত শিক্ষার্থীরা। অভিভাবরা জানান, স্কুল বন্ধ থাকায় সন্তানরা লেখাপড়ায় পিছিয়ে পড়েছে। একারণে শিক্ষার্থীদের প্রতি শিক্ষকদের বাড়তি যতœ নেয়া প্রয়োজন। টিকা ছাড়া শিক্ষার্থীরা থাকবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়। এজন্য সরকারকে দ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য টিকা নিশ্চিত করতে হবে। আরেক অভিভাবক বলেন, করোনা মহামারির কারণে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা ন্যূনতম শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ঘরবন্দী থাকার ফলে সন্তানদের মধ্যে অধৈর্য, বিরক্তি এক কথায় তাদের মধ্যে মানসিক চাপ লক্ষ করা যাচ্ছে। আবার অনলাইনে ক্লাস ও অটো পাশের ফলে মেধার সঠিক মূল্যায়ন থেকেও শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানান।

রাজশাহী জেলা মাধ্যমিক শিক্ষাঅফিস গণমাধ্যমকে জানায়, মাধ্যমিক স্তরের প্রতিষ্ঠান খুলতে প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং ইতোমধ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও পরিদর্শন করা হয়েছে। রাজশাহী জেলা শিক্ষাকর্মকর্তা আব্দুস সালাম জানান, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৯৫ শতাংশ শিক্ষক টিকা নিয়েছেন। বাকি পাঁচ শতাংশের মধ্যে রয়েছেন সন্তানসম্ভবা, যাদের শিশুরা দুধ খায় ও যে সকল শিক্ষকরা গুরুতর অসুস্থ। তারাই কেবল টিকা নেননি।’ রাজশাহীর ১ হাজার ৫৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রস্তুত রাখতে প্রধানদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। তারা সেই মোতাবেক কাজও করেছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে ‘শিক্ষা স্কুল এন্ড কলেজ’ এর অধ্যক্ষ মোহা: ইব্রাহীম হোসেন বলেন, “ইতোমধ্যে আমরা সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। একই সাথে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সরকারের নির্দেশনা এবং সুনির্দিষ্ট রুটিন অনুযায়ী আমরা নতুন উদ্যমে পাঠদানে প্রস্তুত।” একই সাথে তিনি যথাযথ সময় বিবেচনা করে স্কুল খুলে দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ