মঙ্গলবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

অস্ত্রবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে

ব্যবহার তথা হত্যাকাণ্ড ঘটানো তো বটেই, অস্ত্রের মহড়াও দেশে চলছে বহুদিন ধরে। যেখানে-সেখানে এবং যখন-তখন অস্ত্রের এই মহড়া করছে অস্ত্রবাজরা। উপলক্ষেরও অভাব নেই তাদের। ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হুমকি বা হুংকার দেয়ার মতো উদ্দেশ্যে তৎপর হয় অস্ত্রবাজরা। প্রকাশ্যেই তারা অস্ত্রের মহড়া করে। নানা ধরনের ভয়ংকর অস্ত্র নিয়ে তারা প্রতিপক্ষকে ভয় দেখায়, হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালায়। অনেক ক্ষেত্রে একই গোষ্ঠীও আবার প্রতিপক্ষের অস্ত্রের মুখে পড়ে। তারপর দু’পক্ষের মধ্যে শুরু হয় গোলাগুলি। এতে কারো কারো মৃত্যু ঘটে। অনেকে আহত হয়।
এভাবেই বহুদিন ধরে দেশে অস্ত্রের মহড়া চলছে। এসব মহড়া তাই বলে সন্ত্রাসী হিসেবে বর্ণিতদের নয়। কারণ, সন্ত্রাসীরা সবকিছু গোপনে এবং লুকিয়ে লুকিয়ে করে। অন্যদিকে এখানে যে মহড়ার কথা বলা হচ্ছে তার সবই করা হয় প্রকাশ্যে। এমনকি দিনের বেলাতেও। তাছাড়া বিভিন্ন ঘটনায়ও প্রমাণ পাওয়া গেছে, মহড়াগুলো যারা করে বা করেছে তাদের সকলেই কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী। গুরুত্ব বাড়ানোর এবং প্রতিপক্ষের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ভীতি সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে তাদের আবার ‘ক্যাডার’ বলেও পরিচিতি দেয়া হয়। শুধু ‘ক্যাডার’ নয়, বলা হয় ‘আর্মড ক্যাডার’! কে কতজনকে হত্যা করেছে এবং কতজন তাদের গুলিতে হাত-পা খুইয়ে পঙ্গু হয়ে গেছে- এসবের ভীতিকর বর্ণনা দিয়ে তাদের সম্পর্কে বলাও হয় এমনভাবে যে, শুনে যে কেউ ভীতসন্ত্রস্ত না হয়ে পারে না। এর মধ্য দিয়েও বেড়ে যায় অস্ত্রবাজ তথা আর্মড ক্যাডারদের মূল্য ও গুরুত্ব!
অন্যদিকে আপত্তি ও প্রতিবাদের কারণ হলো, সবকিছু জানা সত্ত্বেও সরকারের পক্ষ থেকে অস্ত্রবাজ ও আর্মড ক্যাডারদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এখনও তারা স্বাধীনভাবেই নিজেদের ভয়ংকর কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। দেশজুড়ে বিভিন্ন ঘটনায় এর প্রমাণও পাওয়া যাচ্ছে। গতকাল একটি জাতীয় দৈনিকে ‘প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মহড়া’ শিরোনামে এ সংক্রান্ত রিপোর্টের সঙ্গে বেশ কয়েকটি ছবি প্রকাশিত হয়েছে। এসব ছবির কোনোটিতে অস্ত্রবাজরা গুলি চালাচ্ছে, কোনোটিতে আবার অস্ত্র তাক করে আছে। রিপোর্টের মূলকথায় দৈনিকটি লিখেছে, ‘অস্ত্রধারীরা ধরা পড়ে না’। রিপোর্টে জানানো হয়েছে, চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীতে সাড়ে তিন বছরে ১৩টি ঘটনায় ১৯ জন অস্ত্রধারীর ছবি ও ভিডিও বের হয়েছে। কিন্তু তাদের মধ্যে গ্রেফতার হয়েছে মাত্র চারজন। এর প্রতিক্রিয়ায় সুশাসনের জন্য নাগরিক- সুজনের চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, অস্ত্রধারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকলে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়বে। মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে।
বলার অপেক্ষা রাখে না, অস্ত্রবাজ ও আর্মড ক্যাডারদের দৌরাত্ম্য অনেক আগেই সীমা ছাড়িয়ে গেছে। তারা শুধু নিজেদের মধ্যেই গোলাগুলি করে হত্যাকান্ড ঘটাচ্ছে না, সাধারণ মানুষকেও আতংকিত ও ভীতসন্ত্রস্ত করে তুলছে। আমরা তাই এসব অস্ত্রবাজের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাই। সরকারের উচিত পুলিশ ও র‌্যাবসহ নিরাপত্তা বাহিনীগুলোকে এমনভাবে তৎপর করে তোলা, যাতে অস্ত্রবাজ ও আর্মড ক্যাডাররা সংযত হতে বাধ্য হয়। যাতে যেখানে-সেখানে এবং যখন-তখন তারা অস্ত্রের মহড়া করার সুযোগ ও সাহস না পায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ