ঢাকা, বুধবার 27 October 2021, ১১ কার্তিক ১৪২৮, ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী
Online Edition

সুরক্ষা দিয়ে খুলবে স্কুল-কলেজ

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: করোনাভাইরাস মহামারীতে প্রায় দেড় বছর বন্ধ থাকার পর স্কুল-কলেজে সশরীরে ক্লাস শুরুর বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছেন শিক্ষা কর্মকর্তারা।

পুনরায় ক্লাস শুরু করার বিষয়ে পরিকল্পনা চূড়ান্ত না হলেও শিক্ষার্থীদের ধাপে ধাপে ক্লাসে ফেরানো এবং শ্রেণিকক্ষে দূরত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভাইরাস সংক্রমণ থেকে রক্ষায় মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধির সবগুলো নির্দেশনা মেনে চলার কথা বলছেন তারা।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে কিভাবে ক্লাস নেওয়া যায় সে বিষয়ে রোববার আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে আলোচনা করে চূড়ান্ত পরিকল্পনা জানাবে সরকার।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (মাধ্যমিক) বেলাল হোসাইন  বলেন, “প্রত্যেক ক্লাসকে প্রত্যেকদিন আনার পরিকল্পনা আমাদের নেই। সপ্তাহে হয়তো দুই দিন বা তিন দিন করে আনা হবে।”

নভেম্বরে এসএসসি ও ডিসেম্বরে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা আগেই দিয়ে রেখেছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সে হিসেবে ক্লাসে ফেরানোর ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীদের বেশি অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন বেলাল হোসাইন।

অভি“পরীক্ষার্থীদেরও প্রতিদিন স্কুলে আনা হবে না। অ্যাসাইনমেন্ট কার্যক্রমের মাধ্যমেই তাদের পরীক্ষার প্রস্তুতি হয়ে যাবে। তবে পরীক্ষার জন্য উপযোগী করতে তাদেরও সপ্তাহে দুই থেকে তিনদিন হয়তো আসতে হবে।”

এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের প্ল্যানটা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। পরিমার্জন লাগবে। আশা করছি আগামীকাল বা তার পরদিনই প্রকাশ করতে পারব।”

স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পর্যবেক্ষণে রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে।

বেলাল হোসাইন বলেন, “আমরা মাস্ক বাধ্যতামূলক করব। হ্যান্ড স্যানিটাইজার যেন ব্যবহার করা হয়। তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র যেন থাকে, এটি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে হবে কিনা নিশ্চিত না। তবে যাদের পক্ষে সম্ভব তারা যেন এর ব্যবহার নিশ্চিত করে।

“আর স্বাস্থ্যবিধি মেনে যেন চলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ক্লাসরুমে যেন দূরত্ব মেনে চলে। আগে গাদাগাদি করে বসত, এখন যেন সেটা না হয়। আগে এক বেঞ্চে ৪/৫ জন বসত, এখন ২ জন করে বসবে।”

শিক্ষার্থীদের ধাপে ধাপে আনা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “দূরত্ব মেনে বসাতে গেলে ক্লাসরুমও বেশি লাগবে। সেকারণেই প্রত্যেক শ্রেণিকে প্রতিদিন আনছি না। প্রতিটা স্কুল এটা করতে না পারলেও যাদের অবস্থা ভালো, তারা যেন এটা করে।”

করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ মতিঝিল টিঅ্যান্ডটি স্কুলের খেলার মাঠে শিক্ষার্থীদের পদচারণা না থাকায় বড় হয়েছে ঘাস। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভিকরোনাভাইরাস মহামারীর কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ মতিঝিল টিঅ্যান্ডটি স্কুলের খেলার মাঠে শিক্ষার্থীদের পদচারণা না থাকায় বড় হয়েছে ঘাস। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভিএদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়েও তিন ফুট দূরত্ব রেখে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। শ্রেণি অনুযায়ী আলাদা আলাদা দিন শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে আনা হবে।

হাত ধোয়া ও তাপমাত্রা পরিমাপের ব্যবস্থাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে স্কুলগুলোকে। এছাড়া পাঠদান চলবে সংক্ষিপ্ত পাঠ্যক্রমের মাধ্যমে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয় অনুবিভাগের উপ-সচিব মাহবুবুর রশীদ জানিয়েছেন, আগে থেকেই নেওয়া এই পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে কোনো আলোচনা হয়নি।

তিনি বলেন, “আমাদের রি-ওপেনিং প্ল্যান আছে, সেভাবে চূড়ান্ত হয়নি। কালকের বৈঠকে আলোচনা হবে। এরপর আমরাও জানতে পারব কিভাবে কী হবে।”

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর গত বছর ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। কয়েক দফা উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরিস্থিতি ‘অনুকূলে’ না আসায় দফায় দফায় ছুটি বাড়ানো হয়েছে।

তবে সম্প্রতি সংক্রমণের মাত্রা কিছুটা কমে আসায় শুক্রবার শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি আগামী ১২ সেপ্টম্বর থেকে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেন। 

শনিবার এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নির্ধারিত তারিখেই ক্লাস শুরুর আশা প্রকাশ করে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল জানান, প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে একদিন করে ক্লাসের চিন্তা করা হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ