বুধবার ২৭ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

তালেবানের তত্ত্বাবধায়ক সরকারে থাকছে উপজাতি ও নারীরা

 

২৮ আগস্ট, রয়টার্স, আল-জাজিরা: আফগানিস্তানে অংশগ্রহণমূলক তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের কথা ভাবছে তালেবান। দেশের সব নৃগোষ্ঠী ও উপজাতি গোষ্ঠীর নেতাদের নিয়ে এ সরকার গঠন করা হবে। তালেবান নেতাদের বরাত দিয়ে আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে একজন ‘আমির–উল মোমিনিন’ থাকবেন। ভবিষ্যৎ সরকার গঠন এবং মন্ত্রীদের মনোনয়নের বিষয়ে নীতিনির্ধারণী পরিষদ গঠিত হয়েছে। এছাড়া বেশকিছু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কে হবেন তা নিয়ে আলোচনা চলছে। এই সরকারে নতুন মুখ আসতে পারে। তাজিক ও উজবেক নেতাদের জায়গা হতে পারে তত্ত্বাবধায়ক সরকারে। 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নতুন সরকারে জায়গা হবে নারীদেরও। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ আরও কিছু সেক্টরে নারীদের অন্তর্ভুক্ত করার কথা ভাবছে তালেবান।  এদিকে সরকার গঠনের বিষয়ে আলাপ-আলোচনার জন্য তালেবানের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা বারাদার ও তালেবানের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত মোল্লা ওমরের ছেলে মোল্লা মোহাম্মদ ইয়াকুব দেশটির রাজধানী কাবুলে রয়েছেন। 

স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত নারীদের কর্মস্থলে ফিরতে বলল তালেবান:  আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে দেশটির কর্মজীবী নারীদের ঘরে থাকার নির্দেশ দিলেও এবার স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত নারীদের নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তালেবান।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানায় তালেবান গোষ্ঠীটি। বিবৃতিতে বলা হয়, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতে কর্মরত নারীদের কর্মস্থলে ফিরে যেতে কোনও বাধা নেই। প্রসঙ্গত, তালেবানের অন্যতম মুখপাত্র মোহাম্মাদ নাঈম ওয়ারদাক বলেছিলেন, ইসলামি শরিয়া আইন অনুযায়ী তাদের সরকার পরিচালিত হবে এবং সেখানে নারীরা শিক্ষা ও চাকুরির সুযোগ পাবে। তবে তিনি একথাও বলেছিলেন, শরিয়া আইনে নারীকে যতটুকু স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে তারা ততটুকু স্বাধীনতাই ভোগ করবে। তালেবানের পক্ষ থেকে সম্প্রতি আরও জানানো হয়েছিল, নারীদের ব্যাপারে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত ঘোষণা না করা পর্যন্ত তারা যেন কর্মস্থলে ফিরে না যায়। তবে স্বাস্থ্যখাতে নারী চিকিৎসক ও চিকিৎসা কর্মীদের অনুপস্থিতিতে দৃশ্যত মারাত্মক সমস্যা তৈরি হওয়ার কারণে জরুরি ভিত্তিতে এই খাতে কর্মরত নারীদের কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানাল তালেবান।

গত ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল দখল করে নেয় তালেবান। তারা কাবুলের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাওয়ার পর প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। এরপর তালেবান প্রায় গোটা আফগানিস্তানের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করলেও এখনও তারা কোনও সরকার গঠন করেনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ