মঙ্গলবার ১৭ মে ২০২২
Online Edition

রেলের উন্নয়ন কাজ তদারকি করবেন সংসদীয় কমিটির সদস্যরা

সংসদ রিপোর্টার: নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার রেলওয়ের উন্নয়ন কাজ তদারকি করতে চান রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্যরা। এ জন্য তারা তাদের নির্বাচনী এলাকায় রেলওয়ের উন্নয়ন কাজের তথ্যাদি চেয়েছেন। গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকের কার্যপত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

কার্যপত্রে দেখা গেছে, কমিটির আগের বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা তাদের নির্বাচনী এলাকার রেলওয়ের উন্নয়নকাজ তদারকি করবেন বলে সুপারিশ করা হয়। সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি হিসেবে গতকাল মঙ্গলবারের বৈঠকে মন্ত্রণায়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্বাচনী এলাকায় রেলওয়ের উন্নয়ন কাজের বিষয়ে তথ্যাদি স্থায়ী কমিটির সদস্যদের কাছে সরবরাহ করা হবে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকরা সংসদ সদস্যদের তদারকি কাজে সহযোগিতা করবেন বলেও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

আগের বৈঠকের কার্যবিবরণী থেকে কমিটির সভাপতি নিজেই প্রসঙ্গটি তুলেছিলেন। ওই বৈঠকে তিনি বলেছিলেন, স্থায়ী কমিটির সদস্যরা রেলওয়ের উন্নয়নে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তাদের নির্বাচনী এলাকার লোকজন যাতে ভবিষ্যতেও জনপ্রতিনিধিদের কীর্তি স্মরণ রাখেন, সে জন্য তাদের নির্বাচনী এলাকার স্টেশনগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আধুনিকায়নের নির্দেশনা দেয়া দরকার।’ এ সময় তিনি আশির দশকে নির্মিত চট্টগ্রাম রেলস্টেশনটি জরাজীর্ণ রয়েছে উল্লেখ করে উষ্মা প্রকাশ করেন।

কমিটির সদস্য সাইফুজ্জামান চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ স্টুডেন্টভিত্তিক স্টেশনগুলোর প্লাটফর্ম উঁচু করার অনুরোধ করে বলেন, ‘চট্টগ্রাম স্টেশনটি অত্যন্ত নিম্নমানের মনে হয়। বাসস্টেশনও এর চেয়ে ভালো।’

রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে ৭ হাজার ৬৪৮ মেট্রিক টন স্ক্র্যাপ মজুত রয়েছে। এরমধ্যে এক হাজার ৯৬৫ মেট্রিক টন স্ক্র্যাপ বিক্রির দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। ৫ হাজার ৬৮৩ মেট্রিক টন বিক্রির দরপত্র আহ্বানের অপেক্ষায় রয়েছে। এ ছাড়া ৩৮৭টি খালি ড্রাম বিক্রির এক লাখ ৫৫ হাজার ৫৯৪ টাকা জমাদানের অপেক্ষায় আছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে স্ক্র্যাপ মালামাল বিক্রি করে পূর্বাঞ্চল ৩৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা এবং পশ্চিমাঞ্চল ১২ কোটি ২৯ লাখ ৭৩ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে।

অপরদিকে রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলে ৫ হাজার ৮৭৪ মেট্রিক টন স্ক্র্যাপ মজুত রয়েছে। এরমধ্যে ৩ হাজার ৩৪৩ মেট্রিক টন স্ক্র্যাপ বিক্রির দরপত্র খোলার অপেক্ষায় রয়েছে। এক হাজার ৮১৪ মেট্রিক টন বিক্রির দরপত্র আহ্বানের অপেক্ষায় রয়েছে। এ ছাড়া ৩৮৭টি খালি ড্রাম বিক্রির এক লাখ ৫৫ হাজার ৫৯৪ টাকা জমাদানের অপেক্ষায় আছে। এছাড়া ৭১৭ মেট্রিক টন স্ক্র্যাপ বিক্রির অর্থ জমাদানের অপেক্ষায় আছে।

এদিকে বৈঠকে সংসদীয় কমিটি রেলওয়ের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন ও সরঞ্জাম সংগ্রহের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনও দেশের ওপর নির্ভর না করে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের সুপারিশ করেছে।

কমিটি রেলওয়ে কল্যাণ ট্রাস্টের প্রকল্প গ্রহণের আগে সম্ভাব্যতা যাচাই করে লাভজনক প্রকল্প গ্রহণের সুপারিশ করে। কল্যাণ ট্রাস্টের নিজস্ব অর্থ ব্যয় না করে শেয়ারিং অথবা জয়েন্ট ভেঞ্চার পদ্ধতিতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের সুপারিশ করে কমিটি। রেলওয়ের স্ক্র্যাপ পরিমাপের ক্ষেত্রে স্কেল ব্যবহার এবং ক্যারেজ মেরামতের ক্ষেত্রে মানসম্মত স্টিল ও অন্যান্য সামগ্রী ব্যবহারের পরামর্শ প্রদান করে স্থায়ী কমিটি।

কমিটির সভাপতি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন- মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন, আসাদুজ্জামান নূর, শফিকুল ইসলাম শিমুল, শফিকুল আজম খাঁন, গাজী মোহাম্মদ শাহ নওয়াজ, নাদিরা ইয়াসমিন জলি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ