মঙ্গলবার ১৭ মে ২০২২
Online Edition

খুমেক হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার নিজেই ঠিকাদার!

খুলনা অফিস : খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভর্তি রোগীকে সপ্তাহে তিন দিন ৬০ গ্রাম করে বড় সাইজের রুই/কাতলা মাছ বরাদ্দ করেছে সরকার। এজন্য ঠিকাদারকে কেজি প্রতি ২৫০ টাকার বেশি দেয়া হয়। কিন্তু প্রতিনিয়ত অত্যন্ত নিম্নমানের পোনা মাছ দিয়ে চলছে রোগীদের খাবার বিতরণ। এতে একদিকে রোগীদের আমিষের ঘাটতি হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারি লক্ষ লক্ষ টাকা দুর্নীতি হচ্ছে দেদারছে। 

অনুসন্ধানে দেখা যায়, হাসপাতালের রোগীদের খাবারের জন্য সপ্তাহে তিন দিন রুই/কাতলা মাছ বরাদ্দ রয়েছে। মাছের সম্পূর্ণ ড্রেসিং-এর পরে ন্যূনতম ৫শ’ গ্রাম ওজনের হতে হবে। এ জন্য সর্বনিম্ন ২৫০ টাকা কেজি করে টাকাও পায় ঠিকাদার। 

সরেজমিন গত সোমবার দুপুরে হাসপাতালের রান্না ঘরে যান সদ্য বিদায়ী পরিচালক ডা. এটিএম মঞ্জুর মোর্শেদ। দেখা যায়, প্রায় ৭০ কেজি মাছের মধ্যে হাতে গোনা কয়েকটি পাঙ্গাস, যার ওজন ১ কেজিরও কিছু কম, কয়েকটি বড় রুই মাছ, যার ওজন ৮শ’ থেকে ৯শ’ গ্রাম। এছাড়া প্রায় সব মাছই ১৫০ গ্রাম থেকে ২শ’ গ্রামের পোনা মাঠ ড্রেসিং করে রান্নার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। 

খুলনার অন্যতম উচ্চমূল্যের বাজার নিউমার্কেটের মাছ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ঐ সাইজের পোনা মাছ ৮০ টাকা থেকে ১শ’ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর সরকার নির্ধারিত মাছ এর কেজি ২শ’ টাকা থেকে ২শ’ ৪০ টাকা। 

হাসপাতালে এক সপ্তাহের বেশি ভর্তি রয়েছে গাইনি ও সার্জারি ওয়ার্ডের অন্তত দশজন রোগী। তারা বলেন, যেদিন মাছ দেয়, তা অত্যন্ত নিম্নমানের এবং ছোট রুই কাতলা মাছের নাম শুনে রোগীরা বলেন, পাঙ্গাস আর পোনা মাছ ছাড়া গত ১ সপ্তাহে কিছুই দেখিনি। 

অনুসন্ধানে দেখা যায়, বছরের পর বছর ধরে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে একজন ঠিকাদারই মাছ সররবাহ করে আসছে। সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এই ঠিকাদার আর কেউ নয়। দুর্নীতির দায়ে বদলী হওয়া সদ্য সাবেক ওয়ার্ড মাস্টার আতাউর রহমান। স্থানীয় প্রভাবে হাসপাতাল পরিচালকদের জিম্মি করে বছরের পর বছর ধরে এ কাজ বাগিয়ে নিচ্ছেন তিনি। স¤প্রতি একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তাকে খুমেক হাসপাতাল থেকে বদলী করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে বদলী করা হয়। তবে বদলী করা হলেও চুক্তি বহির্ভূত মাছ সরবরাহের মাধ্যমে দুর্নীতি চলমান রেখেছে।

সূত্র বলছে, ওয়ার্ড মাস্টার আতাউরের বিরুদ্ধে একাধিকার হাসপাতালের রোস্টার বাণিজ্য, ফ্রি সার্ভিস বাণিজ্য, হাসপাতালের ইলেকট্রনিক মালামাল আত্মসাতেরও অভিযোগ রয়েছে। যার প্রেক্ষিতে এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে তাকে বদলী হয়। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমান পরিচালক যোগদানের পর থেকে করোনা মোকাবেলার পাশাপাশি প্রতিনিয়ত রোগীদের খাবারও তদারকি করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে। এছাড়া নিজে স্বশরীরেও রান্নাঘর পরিদর্শনও করেছে একাধিকবার।

তবে এ বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. রবিউল হাসান বলেন, নজরে আসলে লিখিত কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করে জবাব চাওয়া হবে ওয়ার্ড মাস্টার আতাউর পরিচালিত মাছ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে। লিখিত জবাব পেলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ