সোমবার ২৯ নবেম্বর ২০২১
Online Edition

মুক্তিপণ আদায় করতে গিয়ে সিআইডির এএসপিসহ গ্রেপ্তার ৫

দিনাজপুরে অপহরণ মামলায় সিআইডি’র এএসপি সারোয়ার কবীর, এএসআই হাসিনুর রহমানসহ অভিযুক্ত ৫ জনকে দিনাজপুর কারাগারে নেয়া হয় -সংগ্রাম

দিনাজপুর, রংপুর অফিস ও চিরিরিবন্দর সংবাদদাতা : দিনাজপুরের চিরিরবন্দর থেকে মা ও ছেলেকে অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় রংপুর সিআইডির এএসপিসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার সময় তাদেরকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে দিনাজপুর সদর উপজেলার ১০ মাইল মোড় থেকে তাদের আটক করে দিনাজপুর পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী লুৎফর রহমানের ভাই খলিলুর রহমান বাদি হয়ে চিরিরবন্দর থানায় অপহরণ মামলা করেন। সেই মামলায় আটককৃতদের গ্রেফতার দেখিয়ে গতকাল বুধবার বিকেলে ৪টি গাড়ি বহরে করে দিনাজপুর আদালতে নেয়া হয়। দিনাজপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত-৪ এর বিচারক শিশির কুমার বসু তাদে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। চিরিরবন্দর থানার ওসি সুব্রত কুমার সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তার ৫ জন হলেন- রংপুর সিআইডির এএসপি সারোয়ার কবির সোহাগ, এএসআই হাসিনুর রহমান, কনস্টেবল আহসানুল হক, ফসিউল আলম পলাশ (পুলিশের সোর্স) ও হাবিবুল ইসলাম (ড্রাইভার)।
ওসি জানান, গতকাল বুধবারে করা অপহরণের মামলায় তাদের আটক করা হয়। আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে সত্যতা মিললে চিরিরবন্দর থানায় মামলা দায়ের হয়। মামলাটি করেছেন চিরিরবন্দরের খলিলুর রহমান। অপহরণ হওয়া নারী তার ভাইয়ের স্ত্রী। সদর উপজেলার হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বাঁশেরহাট থেকে গত মঙ্গলবার বিকেলে আটক করা হয়। আটককৃতদের- দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে নেয়া হলে গতকাল বুধবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হয়। খলিলুর বলেন, গত সোমবার সন্ধ্যায় তার ভাই লুৎফর রহমান স্থানীয় বাজারে যান। সে সময় বাড়িতে ছিলেন লুৎফর রহমানের স্ত্রী, ছেলে ও ছেলের বউ। বাদীর অভিযোগ, সিআইডির এএসপি সারোয়ার কবিরের নেতৃত্বে একটি দল রাত সাড়ে ৯টায় ওই বাড়িতে যায়। তারা লুৎফর রহমানকে আটক করতে এসেছে বলে জানায়। লুৎফর রহমানকে না পেয়ে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। ঘরে থাকা টাকা ও স্বর্ণালংকারও তারা লুট করে। এরপর লুৎফরের স্ত্রী জহুরা বেগম ও ছেলে মো. জাহাঙ্গীরকে মারধর করে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে চলে যায়। এরই মধ্যে তাদের মোবাইল নম্বরে দফায় দফায় ফোন করে বলা হয়, জহুরা ও জাহাঙ্গীরকে মুক্তির বিনিময়ে ১৫ লাখ টাকা দিতে হবে। বিষয়টি চিরিরবন্দর থানায় জানানো হয়। এরপর থানার পুলিশের সঙ্গে পরামর্শ করে মুক্তিপণের টাকা নিতে অপহরণকারীদের গত মঙ্গলবার বিকেলে দিনাজপুর সদর উপজেলার বাঁশেরহাটে আসতে বলা হয়। এক পর্যায়ে তারা গত মঙ্গলবার বিকেলে মুক্তিপণের সাড়ে ৯ লাখ টাকা নিয়ে প্রতারক চক্রের কথামত চিরিরবন্দর উপজেলার রানীরবন্দর বাজারে যায়। ভিকটিম পরিবার টাকা নিয়ে রানীরবন্দর বাজারে গেলে তাদের পুনরায় কাহারোল থানার দশ মাইল মোড় এলাকায় যেতে বলে। এরা দশ মাইল মোড় এলাকায় গেলে তাদের পুনরায় সদর উপজেলার বাঁশেরহাট এলাকায় যেতে বলে। ইতোমধ্যে দিনাজপুর জেলা পুলিশ ও সিআইডি পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে বাঁশেরহাট এলাকা থেকে ঐ প্রতারক চক্র পুলিশ কর্মকর্তাদের আটক করে। উদ্ধার করা হয় জহুরা ও তার ছেলে জাহাঙ্গীরকেও। তবে এখনও লুৎফরের হদিস মেলেনি।
আটককৃতদের প্রথমে চিরিরবন্দর থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাদের দিনাজপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে হেফাজতে নেয়া হয়। চিরিরবন্দর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুব্রত কুমার সরকার সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করে সিআইডি রংপুর জোনের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার আতাউর রহমান সাংবাদিকদের জানান, আটক ৫ জনের মধ্যে এএসআই হাসিনুর রহমান এবং কনষ্টেবল আহসানুল হক এরা দু’জন ২১ আগস্ট থেকে ১০ দিনের ছুটিতে ছিলেন। তার অনুমতি ছাড়াই সরকারি গাড়ি ব্যবহার না করে অবৈধভাবে ভাড়া করা গাড়ি নিয়ে তারা অপারেশনে গিয়েছিল। আটক হওয়ার পর রংপুর সিাাইডি অফিসে আমাকে জানানো হলে আটককৃতরা আমাদের স্টাফ একথা দিনাজপুর পুশিকে জানিয়েছি। এই মুহূর্তে এর বেশি কিছু বলা যাচ্ছে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ