মঙ্গলবার ৩০ নবেম্বর ২০২১
Online Edition

পরকীয়ায় ধরা পড়ে প্রেমিক মিলে আশুলিয়ার ডিস ব্যবসায়ীকে হত্যা ॥ গ্রেপ্তার ২

সাভার সংবাদদাতা: আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকার ডিস ব্যবসায়ী এলিম সরকারকে নৃশংস হত্যার ঘটনায় স্ত্রীসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেসটিগেশন) পিবিআই ঢাকা জেলা। নিহত এলিম সরকার কাঠগড়া এলাকার হাজী মোঃ ফজল হক সরকারের ছেলে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন নিহত এলিম সরকারের স্ত্রী সুলতানা আক্তার কেমিলি (৩২) এবং নাটোর জেলার গুরুদাসপুর থানার তেলটুপি গ্রামের আঃ সামাদের ছেলে মোঃ রবিউল করিম পিন্টু (৩৫)। মঙ্গলবার আশুলিয়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।  বুধবার পিবিআই ঢাকা জেলা অফিস থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা যায়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২৭ শে মার্চ রাত অনুমান ১০টায় অন্যান্য দিনের ন্যায় রাতের খাওয়া দাওয়া শেষে এলিম সরকার তার স্ত্রী সন্তানসহ ঘুমিয়ে পড়ে। পরের দিন অর্থাৎ ২৮ মার্চ সকাল অনুমান ৮টায় নিহতের স্ত্রী কেমিলি ঘুম থেকে উঠে জরুরি প্রয়োজনে এলিম সরকারের বাবার বাড়িতে যায় এবং বাড়ির অন্যদের সাথে আলাপ আলোচনা করে। পরে সকাল অনুমান ১০ টায় তার বাড়িতে ফিরে যায়। এসময় নিহত এলিম সরকারের গলার নিচে ১ টি, পেটে ১১ টি ও পিঠে ধারালো অস্ত্রের ১ টি কাটা গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়ে মৃতদেহ দেখতে পায়। এসময় নিহতের স্ত্রীর ডাক চিৎকারে এবং কান্নাকাটি করতে থাকে। এসময় পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশিরা বাড়িতে এসে খাটের উপরে এলিম সরকারের মৃতদেহ জখমপ্রাপ্ত অবস্থায় দেখতে পায়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সালেহ ইমরান বলেন, মামলাটি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এর নির্দেশে ২১ জুলাই মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করেন।
তিনি আরো বলেন, গ্রেফতারকৃত রবিউল করিম পিন্টু আশুলিয়া এলাকায় পল্লী বিদ্যু সমিতিতে লাইন ম্যান হিসেবে চাকরি করে। চাকরির সুবাদে নিহত এলিম সরকারের বাসায় বিদ্যুৎ এর মিটার লাগানোর কাজ করতে গিয়ে নিহতের স্ত্রী কেমিলির সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে পিন্টুর।
বিষয়টি কেমিলির স্বামী টের পেয়ে গেলে তিনি তার স্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের ডেকে তা প্রকাশ করে দিবেন বলে জানান। এই ঘটনা নিয়ে তাদের মধ্যে মারাত্মক দাম্পত্য কলহের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পরকীয়া বিষয়টি যাতে অন্য কেউ জানতে না পারে তার জন্য ঘটনার এক সপ্তাহ আগে কেমিলি এবং তার পরকীয়া প্রেমিক পিন্টু মিলে এলিম সরকারকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী পরকীয়া প্রেমিক পিন্টু নিহতের বাসায় দুজন ভাড়াটিয়া খুনি বাসা ভাড়া করে থাকার ব্যবস্থা করে দেন।
তারা কাজটি না করতে পারায় পিন্টু নিজেই কাজটি করার পরিকল্পনা করে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন ২৮ মার্চ সকাল অনুমান ০৯ টার দিকে কেমিলির পরামর্শে পিন্টু তার এক বন্ধুকে নিয়ে বাসায় প্রবেশ করে।
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কেমিলি রাতের বেলা দই এর সাথে ঘুমের ট্যাবলেট মিশিয়ে এলিম সরকারকে খাইয়ে দেয়। ঘুমের ট্যাবলেট গুঁড়া করে কেমিলিকে সরবরাহ করে পিন্টু। ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে এলিম সরকার নিস্তেজ হয়ে গেলে সকাল বেলা পিন্টু তার অপর সহযোগী নিয়ে বাসায় এসে চাকু দিয়ে কুপিয়ে এলিম সরকারকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়ার আগে এলিম সরকারের বাসার সিসিটিভি ফুটেজের ডিভিআর খুলে নিয়ে যায়।   
বিষয়টি ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে ক্যামিলির স্ত্রী ডিস ব্যবসার বিরোধকে কেন্দ্র করে উক্ত ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে প্রচার করতে থাকে। মামলার আরো কোন আসামী জড়িত আছে কিনা তা যাচাই করা হচ্ছে বলে তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ