সোমবার ২৯ নবেম্বর ২০২১
Online Edition

অপহরণের পর মুক্তিপণের টাকা নেয়ার সময় জনতার হাতে সিআইডির ৩ জন আটক

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: দিনাজপুরের চিরিরবন্দরের নান্দেরাইল এলাকায় লুৎফর রহমানকে অপহরণ ও মুক্তিপণের টাকা নেয়ার সময় জনতা আটক করে পুলিশে দিয়েছে সিআইডির রংপুর জোনাল অফিসে কর্মরত এএসপি সারোয়ার কবির সোহাগ, এএসআই হাসিনুর রহমান ও কনস্টেবল আহসানুল ফারুককে। তবে অফিসের মৌখিক কিংবা লিখিত অনুমতি এবং অভিযোগ ও গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়াই ভাড়া করা গাড়ি নিয়ে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন সিআইডি রংপুর জোনের ভারপ্রাপ্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আতাউর রহমান। এ ঘটনায় তোলপাড় চলছে সিআইডিতে।

বুধবার দুপুরে রংপুর মহানগরীর কেরানাপাড়ায় সিআইডির জোনাল কার্যালয়ে আতাউর রহমান জানান, আমি গত ২১ আগস্ট এই কর্মস্থলে যোগ দেই। সেই দিনই আমার অফিসের সিনিয়র পুলিশ সুপার সারোয়ার কবির সোহাগ একই অফিসের এএসআই হাসিনুর রহমান ও কনস্টেবল আহসানুল ফারুককে ছুটি দিয়েছিলেন। ২৩ আগস্ট রাতে আমাদের অফিসিয়াল গাড়ি না নিয়ে একটি কালো রংয়ের মাইক্রো নিয়ে এএসপি সোহাগ ছুটিতে থাকা ওই এএসআই ও কনেস্টবলসহ দিনাজপুরের চিরিরবন্দরের নান্দেরাই এলাকার ওসমানগনির পুত্র লুৎফর রহমানের বাড়িতে অভিযান করেন। সেখান থেকে তার পুত্র ও স্ত্রীকে কালো মাইক্রোবাসে তুলে নেয়ার পর মুক্তিপণের টাকা লেনদেনের সময় ২৪ আগস্ট সন্ধ্যায় সদর উপজেলার বাশেরহাটে জনতার হাতে আটক হন। পরে প্রথমে তাদের চিরিরবন্দর থানা পুলিশ ও পরে দিনাজপুর জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আমরা মঙ্গলবার রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।

তিনি আরো জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে কষ্টিপাথরসহ এ ধরনের কিছু উদ্ধারের জন্য সেখানে তারা অভিযান চালিয়েছিলেন। তবে সেখানে অভিযান পরিচালনার জন্য আমাকে কিংবা অফিসকে কোনো ধরনের মৌখিক কিংবা লিখিতভাবে জানানো হয়নি। অনুমতি নেয়া হয়নি। ওই লুৎফর রহমানের নামে কোনো অভিযোগ কিংবা গ্রেফতারি পরোয়ানাও ছিল না।

পুলিশ কর্মকর্তা আড়াউর রহমান জানান, আটক তিনজন এখন দিনাজপুর জেলা পুলিশের হেফাজতে আছে। তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে সে জন্য আমরা উপরের নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি।

সিআইডি সূত্র জানায়, আটকের ঘটনা শুনেই সেখানে ছুটে যান জোনের ভারপ্রাপ্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আতাউর রহমান। ভোর বেলা ফেরেন ঘটনাস্থল থেকে। শুরু হয় প্রাথমিক তদন্ত। কোথাও কোনো অভিযানে গেলে সেখানে গ্রেফতার পরোয়ানা থাকা জরুরি। এছাড়াও কোনো অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযান পরিচালনা করা হলে আগে সাধারণ ডায়েরি করারও নিয়ম আছে সংশ্লিষ্টদের জন্য। কিন্তু কোনোকিছু না করেই এই অভিযানে গিয়ে আটক হওয়ায় বিষয়টি পুরো অফিসের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করছে। এছাড়াও নতুন কর্মকর্তার যোগদানের দিন ২১ আগস্ট এএসআই ও কনেস্টবলকে ছুটি দেয়া এবং আলোচিত ওই অভিযানে তাদের কাজে লাগানোর পেছনে কি পরিকল্পনা ছিল সেটিও জানার চেষ্টা চলছে তদন্তে। পুরো বিষয়গুলোর আপডেট সিআইডি জোনাল অফিস থেকে সদর দফতরে জানানো হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শী মামুন নামের এক ব্যক্তি জানাচ্ছেন, চিরিরবন্দর থানার নান্দেরাই গ্রামের সলেমান শাহ পাড়ার লুংফর রহমানের বাড়িতে সোমবার (২৩ আগস্ট) রাত পৌনে ১০টার দিকে কালো রংয়ের একটি মাইক্রোবাসে পুলিশের একজন কর্মকর্তা একজন এএসআই ওই একজন কনস্টেবল নিয়ে অভিযান চালায়। সেখানে তারা নিজেদের সিআইডি পরিচয় দিয়ে লুৎফর রহমানকে না পেয়ে স্ত্রী জহুরা বেগম ও পুত্র জাহাঙ্গীর আলমকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। এসময় জাহাঙ্গীরের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও নিয়ে যায় তারা।

লুৎফর রহমান জানান, ঘটনার শোনার পর বাড়িতে আসামাত্রই তারা আমার স্ত্রী ও ছেলেকে ফিরিয়ে দিতে প্রথমে ৫০, পরে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। পরে তাদের সাথে ৮ লাখ টাকায় দফারফা হয়। টাকা না দিলে তাদের মেরে ফেলারও হুমকি দেয়। বিষয়টি আমি সাথে সাথে চিরিরবন্দর থানায় জানাই। এরই মধ্যে তারা মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় ৮ লাখ টাকা নিয়ে চিরিরবন্দর উপজেলার রানীরবন্দর বাজারে আসতে বলে। আমিসহ অন্যরা রানীরবন্দর বাজারে টাকা নিতে গেলে কাহরোল থানার দশমাইল মোড়ে আসতে বলা হয়। দশমাইল গেলে আবারো সদর উপজেলার হাজি দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বাঁশেরহাট এলাকায় যেতে বলা হয়। পরে আমরা সেখানে যাই। সেখান থেকেই লুৎফর রহমানের শুভাকাঙ্ক্ষিরা স্থানীয় জনতার সহযোগিতায় তাদের আটক করে চিরিরবন্দর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরে তাদের দিনাজপুর এসপির হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গ্রেফতারের পর জানা যায় তারা সিআইডির রংপুর অফিসের কর্মকর্তা। তখন বিষয়টি গোপনে রাখার চেষ্টা চলে। কিন্তু বুধবার দুপুরে বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যায়।

চিরিরবন্দর থানার ওসি সুব্রত কুমার সরকার জানান, পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত বলা যাবে না।

দিনাজপুরের এসপি আনোয়ার হোসেন জানান, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার বিষয়টি চলমান।

সিআইডির প্রধান কার্যালয়ের গণমাধ্যম শাখার অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মো: আজাদ রহমান বলেন, অভিযোগ ওঠা সিআইডির চার সদস্যের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ