সোমবার ১৭ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর তুলনায় মৃত্যু নিয়ে শঙ্কায় স্বাস্থ্য অধিদফতর

স্টাফ রিপোর্টার : চলতি বছরের সর্বোচ্চ সংখ্যক ডেঙ্গু রোগী পাওয়া গেছে এ মাসে। চলতি আগস্টের ১৮ দিনে ৪ হাজার ২৯৮ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এটি এখন পর্যন্ত এ বছরের সর্বোচ্চ শনাক্ত। এছাড়া এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু সন্দেহে ৩০ জন মারা গেছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। মঙ্গলবার পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যু ছিল ২৬ জন। গত বুধবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের দেওয়া তথ্য থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছেন ৩০৬ জন। এদের মধ্যে ২৭৩ জনই ঢাকার, আর ঢাকার বাইরে ৩৩ জন। সারাদেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে এক হাজার ১৯৩ জন রোগী ভর্তি আছেন। এর মধ্যে ঢাকাতেই আছেন এক হাজার ১১০ জন, আর বাকি ৮৩ জন ঢাকার বাইরে অন্য বিভাগে।

এ বছরের ১ জানুয়ারি থেকে গত ১৮ আগস্ট পর্যন্ত ৬ হাজার ৯৫৬ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ছাড়া পেয়েছেন ৫ হাজার ৭৩৩ জন।

আক্রান্ত রোগীর তুলনায় মৃত্যু নিয়ে শঙ্কা : দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর তুলনায় মৃতের সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ ও শঙ্কার কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। গত বুধবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে দেশের সার্বিক করোনা এবং ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ আশঙ্কার কথা জানান অধিদফতরের মুখপাত্র ও রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম। তিনি বলেন, দেশে এই বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ছয় হাজার ৯৫৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে সর্বমোট ৩০ টি মৃত্যুর সংখ্যা আমরা রেকর্ড করেছি। আমরা যদি রোগীর সংখ্যার দিকে তাকাই তাহলে এই ৬ হাজার ৯৫৬ জন রোগীর বিপরীতে এতো মানুষের মৃত্যু, এটি অত্যন্ত শঙ্কার কারণ।

নাজমুল ইসলাম বলেন, বর্ষাকাল এলে আমরা দেখি যে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক অবস্থায় রূপ নেয়। গত ২০১৯ সালে আমরা দেখেছি যে একটি ডেঙ্গু মহামারি আমাদের কীভাবে আক্রান্ত করেছিল। ২০২১ সালে এসেও একই রকম একটি পরিস্থিতির মুখে আমরা দাঁড়িয়েছি। তবে আমরা মনে করি দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে সেটি মোকাবিলা করতে পারব। তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু রোধে আমাদের প্রত্যেককেই নিজ নিজ জায়গা থেকে কাজ করতে হবে। সিটি করপোরেশন, স্থানীয় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো যেভাবে করছেন, সে কাজের আরেকটু গতি বাড়িয়ে দিলে খুব সহজেই ডেঙ্গু মোকাবিলা করা সম্ভব। এছাড়া, বাড়িতে ফুলের টবসহ বাসার ভেতরে-বাইরে জমে থাকা যেসব পানি আছে, সেগুলো অবশ্যই ফেলে দিতে হবে। ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার রাখতে হবে। তিন দিনের বেশি সময় বাসার বাইরে যদি কেউ অবস্থান করেন, তাহলে বাথরুমের কমোড, প্যান ইত্যাদি ঢেকে রাখতে হবে। পানির পাত্র পরিষ্কার করে উল্টে রাখতে হবে। স্বাস্থ্যর এই মুখপাত্র বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমাদেরকে দিনে ও রাতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করতে হবে। মশার কামড় থেকে রক্ষা পেতে শরীর ঢেকে রাখে এমন কাপড় পরিধান করার জন্য পরামর্শ দিচ্ছি। জ্বর এলেই ডেঙ্গু পরীক্ষার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে কারো শরীরে জ্বর এলেই কেবল করোনা মনে করতে হবে তা নয়। পাশাপাশি কিন্তু ডেঙ্গু জ্বরের যে পরীক্ষাটি আছে, এনএসওয়ান অ্যান্টিজেন পরীক্ষাটি করতে হবে। পরীক্ষাটি সহজেই করা যায়। সরকারি-বেসরকারি সব চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে এ পরীক্ষার ব্যবস্থা আছে। সরকারি হাসপাতাল গুলোতে বিনা পয়সায় পরীক্ষা করা হচ্ছে, এ পরীক্ষাগুলো করে ফেলতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ