রবিবার ২৬ জুন ২০২২
Online Edition

তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দিতে  সিদ্ধান্ত নেবে পাকিস্তানের মন্ত্রিসভা

 

৯ আগস্ট, এএফপি, ডন : আফগানিস্তানে সরকার গড়তে তৎপরতা শুরু করেছে তালেবান। এই তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে কি না, এ বিষয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রশিদ আহমেদ। পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডন–এর খবরে বলা হয়েছে, গত বুধবার সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ কথা বলেন। যদিও এর আগে পাকিস্তান বলেছিল, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা করে তালেবানের স্বীকৃতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

রশিদ আহমেদ বলেন, আফগানিস্তানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা চায় পাকিস্তান। তিনি বলেন, ‘আমরা শান্তির সমর্থক। আমাদের ভূমি কোনো দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে অন্য কোনো দেশের ভূমি আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেব না।’ পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তালেবান ও যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনার টেবিলে বসাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল পাকিস্তান।

এর আগে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তানের ক্ষমতায় থাকাকালীন পাকিস্তানসহ তিনটি দেশের কাছ থেকে স্বীকৃতি পেয়েছিল তালেবান। বাকি দুটি দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব। রশিদ আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের নির্দেশনা অনুযায়ী আফগানিস্তান থেকে যাঁরা আসছেন, তাঁদের অন অ্যারাইভাল ভিসা দেওয়া হবে। এর গত মঙ্গলবার আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার বৈঠকে বসেছিল পাকিস্তানের মন্ত্রিসভা। এতে সভাপতিত্ব করেন ইমরান খান। বৈঠক শেষে দেশটির তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘তালেবান সরকারকে স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তাদের পরামর্শ নেওয়া হবে।’ তালেবান আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল দখল নেয় ১৫ আগস্ট। এর এক দিন আগে থেকে ৬১৩ পাকিস্তানি নাগরিক এবং ৯০০ জন বিদেশি কূটনীতিক ও দূতাবাসের কর্মীদের পাকিস্তানে আনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

আফগান শরণার্থীর ঢল ঠেকাতে সীমান্ত কঠোর: আফগান শরণার্থীদের ঢল সামলাতে সীমান্ত কঠোর অবস্থানে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান। রাজধানী কাবুল তালেবানের দখলে যাওয়ার পরই সীমান্ত আফগান নাগরিকদের প্রবেশ ঠেকাতে তৎপর ইসলামাবাদ।

তোরখাম সীমান্ত দিয়েই গত কয়েকদিনে শরণার্থীদের উপস্থিতি বেড়েছে। এটি পাকিস্তান-আফগানের মধ্যে সবচেয়ে ব্যস্ততম সীমান্ত ক্রসিং। এদিক দিয়ে পণ্য আমদানি-রফতানি হলেও সম্প্রতি এই সীমান্ত হয়ে পাকিস্তানে প্রবেশের জন্য আফগান শরণার্থীরা জড়ো হচ্ছেন।

তালেবান ক্ষমতায় বসার পর তাৎক্ষণিকভাবে সীমান্ত বন্ধ করে দেয় পাকিস্তান। কিন্তু বাণিজ্যের চাকা সচল রাখতে পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সীমান্ত দিয়ে মানুষ চলাচলে একদমই সীমিত করে দিয়েছে দেশটি। কিছুদিন আগেও এই সীমান্ত হয়ে প্রতিদিন দু’দেশের ৬ থেকে ৭ হাজার মানুষ যাতায়াত করতো। কিন্তু পাকিস্তান সীমান্তে কড়াকাড়ি আরোপ করায় মাত্র ৫০ জন আফগানিস্তান থেকে জরুরি কাজে প্রবেশ করতে পারছে। পাকিস্তানের নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আফগানিস্তান থেকে সাধারণ মানুষের ছদ্মবেশে কোন জঙ্গি প্রবেশ করুক তা চাই না আমরা। এ কারণে সীমান্তে কঠোর নজদারিতে চালানো হচ্ছে।

পাকিস্তান প্রবেশে শরণার্থীরা তোরখাম সীমান্ত ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু এখন তা কমে এসেছে। আফগানিস্তান থেকে তালেবান পাকিস্তানে সাধারণ মানুষ ঢুকতে দিচ্ছে না। কয়েক দশক ধরে ৩০ লাখের বেশি আফগান শরণার্থী পাকিস্তানে রয়েছেন। তবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আর শরণার্থী নেওয়ার সক্ষমতা নেই ইসলামাবাদের।1

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ