রবিবার ২৩ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

কবিতা

 

 

চিড়িয়াখানা 

আকিব শিকদার

 

মস্ত বড় চিড়িয়াখানার সে গর্বিত মালিক

পিনজিরাতে বন্দি আছে এক জোড়া ধানশালিক 

খাটের নিচে লেজটা নাচায় পোষা বিড়াল হুলু

মিঁও ডাকলেই খাওয়ায় তাকে মাছের কাঁটাগুলো

ঘরের কোণায় দুষ্ট মাকড় বেঁধেছে এক জাল

মসা মেরে সেই জালেতে ঝুলিয়ে দিলো কাল

সোনালি মাছ, একরিয়াম, টেবিলটাতে রাখা

দিবানিশি এদের নিয়েই ভীষণ ব্যস্ত থাকা।

 

অংক পড়া হয় না রেডি, ইংরেজিটাও ফাঁকি

দেয়ালে যে টিকটিকিটা সেটাও তারই নাকি!

আজ সকালেই পড়লো ধরা ছাড়পোকা তিনখানা

দম আটকানো কাচের বোতল এখন তাদের ঠিকানা ।

পড়াশোনা শিকায় তোলা, মনেতে নেই আরাম

ছাড়পোকাদের কী খাওয়াবে- ভেবেই যে ঘুম হারাম। 

 

 

বর্ষা শেষে

সরোয়ার রানা

 

বর্ষাশেষে মেললো আবার

সাদা মেঘের ডানা

নীল আকাশে তুলার মতো

উড়তে নেই আজ মানা।

 

কাশের বনে দিচ্ছে হানা 

দুষ্টু ছেলের দল

লুকোচুরি খেলবে তারা

তুলবে কলোরল।

 

সাদা মেঘে আঁকবে আবার 

নানান কারুকাজ

মাঝে মাঝে বৃষ্টি ফোঁটা

করবে ধরায় নাচ।

 

আমারও ভাই ভালো লাগে 

শরৎরানী রূপ

কল্পনাতে লাগাই পাখা

রইনা আমি কি চুপ । 

শ্রাবণ ঘেরা মনে 

আশরাফ আলী চারু 

 

ডাকছে দেয়া কেয়ার বনে 

হঠাৎ ঝুমুর সুরে 

ঝমঝমিয়ে পড়ছে মাঠে 

একটু খানিক দূরে। 

 

আউশ ধানের শীষের উপর 

ঝরছে মনের মতো 

কেয়া পাতার খলখলানি -

দেখছি ইচ্ছে যতো। 

 

আকাশ ভরা মেঘের ভেলা

শ্রাবণ ঘেরা মনে 

মাঠে মাঠে ছড়ায় বাহার 

ছড়ায় কেয়ার বনে।

 

 

 

 

বর্ষাদিনের বেলা 

তুহিন ইসলাম 

 

ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ে 

ওই না সবুজ ঘাসে,

কদম কেয়া তাই না দেখে

মিটমিটিয়ে হাসে!

 

কলমি লতা দোলনচাঁপা

গন্ধ ছড়ায় তাতে,

বাঁশের পাতা নাচন ধরে 

তাদের সাথে সাথে।

 

একটু পরেই টাপুর টুপুর 

বৃষ্টি করে খেলা,

এমনই করে যায় কেটে যায়

বর্ষা দিনের বেলা।

ব্যাঙের বিয়ে

মুহাম্মদ জাবেদ আলী

 

ঘ্যাঙর ব্যাঙের তিন পা,

ব্যাঙের আবাস ভিন গা,

ব্যাঙের চাচার বিয়েতে,

আসবে শালিক টিয়ে যে,

চড়বে গরুর গাড়িতে,

সাজবে রঙিন শাড়িতে,

ভরবে খুশির আমেজে,

নাচবে খোকন পা মেজে ।

পাখির ডাকে

জারা তাবাচ্ছুম

 

খুব সকালে পাখপাখালি

কিচিরমিচির ডাকে

ঘুম ভেঙে যায় আমার দাদুর

আর ডাকে না নাকে!

দুষ্টু ফড়িং ছানা

তৈয়বুর রহমান ভূঁইয়া

 

দুষ্টু ফড়িং ছানা,

উড়তে গিয়ে ঘুরতে গিয়ে

গাছের সাথে ঠেস লাগিয়ে

ভাঙল দু'খান ডানা।

 

কাঁদছে ছানা, না না!

এক্ষুণি মা দাও বানিয়ে

গোলাপ ফুলের পাপড়ি দিয়ে

আগের মতো ডানা।

 

করবে কী আর মা'য়ে!

পাপড়ি দিয়ে গড়ল ডানা

মেঘের দেশে উড়ল ছানা

সুবাস নিয়ে গায়ে।

 

শরৎকাল 

মোঃ গোলাম রাব্বানী 

 

টিপটিপানি বর্ষার পানি

বর্ষা গেলো ঐ

ভাদ্র এলো  শরৎ এলো

চুলোয় ফোটে খই। 

 

পাকা তালের গন্ধে ভরা

ঐ যে তালের গাছ

শরৎকালের গরম ঝরে

জাগে বিলের মাছ। 

 

বিলের ধারে কাঁশবন 

কাশবনের ঐ দোলায় 

শরৎ এলেই মন যে আমার

মাতে লেখার খেলায়। 

চাঁদের হাসি

নূর হুসাইন গাজী

 

ভালো লাগে বয়ে চলা

নদীটার কূল,

ভালো লাগে বাগিচাতে

ফোটা সব ফুল।

 

ভালো লাগে ইশকুলে

চারটার বেল,

ভালো লাগে ওড়াউড়ি

শিশুদের খেল।

 

ভালো লাগে জোনাকির

মিটিমিটি আলো,

চাঁদের ঐ হাসিটাও

খুব লাগে ভালো।

 

ভালো লাগে বৃষ্টিতে

রাত্রির ঘুম,

ভালো লাগে এঁকে দেয়া

মায়েরই চুম।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ