রবিবার ২৩ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

কবিতা

আবুল হোসেন আজাদ-এর গুচ্ছছড়া

 

একটি পাখি

 

সবুজ বনে

একটি পাখি

পোষা খাঁচায়,

পারে না সে

খুশি মতো

মনটা যা চায়।

 

কতো কিছু

খাবার দিয়ে

খোকা ভোলায়,

খাঁচার ভিতর

দুধ পানি ভাত

কলা ছোলায়।

 

গাছের ডালে

নেচে নেচে

গাইতে যে সাধ,

মেলবে পাখা

নীল আকাশে

খোলা অবাধ।

 

খোকা চুপি

পাখিটারে

বললো কানে,

দরজা খাঁচার

খুললাম, যা না!

আকাশ পানে।

 

পাখি ধরা

 

নাম তার রঘুবর

লোকে ডাকে রুঘু,

সখ তার খাঁচা পুরে

পোষা টিয়ে ঘুঘু।

 

ধরে এনে টুনটুনি

কাকাতুয়া কাক,

মাথাগুলো করে দেয়

ক্ষুর টেনে টাক।

মাছরাঙা বুলবুলি

কবুতর পেঁচা,

রুঘু বলে তোরা সব

জোরে জোরে চেঁচা।

 

একদিন আনে যেই

ক’টা সাদা বক,

সেই থেকে রুঘু শুধু

কাঁপে ঠক ঠক।

 

ছেলেবেলা

 

মন যে আমার হাতড়ে বেড়ায় কাকে যেন কাকে?

ফেলে আসা ছেলেবেলা সে যেন আজ ডাকে।

তুলবি কি তুই শাপলা শালুক বিলের জলে নেমে

কাটবি সাঁতার তাল-দিঘিতে একটুও না থেমে ?

কলার পাতা ছাতা করে বের হবি কি বৃষ্টিতে

পিছলে দু’পা আছাড় খাবি কাদার অনাসৃষ্টিতে ?

 

উঠবি নাকি কদম গাছে পাড়তে কদম ফুলগুলো

সিঁথিকাটা থাকতো কি আর মাথাভরা চুলগুলো ?

নাটা গাছের তুলতাম যেয়ে শুকনো পাকা নাটা

নাটার কাঁটা বিঁধতো হাতে কখনো বা পা টা।

নাটা নিয়ে মারবেল করে খেলতাম কতো খেলা

খেলতে খেলতে ফিরতাম বাড়ি ডুবতো যখন বেলা।

 

নদীর পাড়ে যেতাম ছুটে তুলতে কাশের ফুল

দেখতাম চেয়ে জোয়ার এসে ভাষায় যখন কূল।

সেসব দিনের স্মৃতি এখন হৃদয় জুড়ে ভাসে

ফেলে আসা ছেলেবেলা ফিরে ফিরে আসে। 

 

 

হাঁস ও ভোঁদড়

 

তালপুকুরে ভরদুপুরে

সাতটি হাঁসে সাতরায়,

জলের ভিতর ডুব দিয়ে এক

ভোঁদড়ে মাছ হাতরায়।

 

মাছ ধরে সে টপাটপ

খায় গিলে সে গপাগপ,

হাঁসগুলো সেই দৃশ্য দেখে

ভয়ে শুধু কাতরায়।

পুকুর জুড়ে হুটোপুটি

এদিক ওদিক ছুটোছুটি,

ভোঁদড় শেষে সাতটি হাঁসের

কামড়ে ধরে সাত পায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ