রবিবার ২৩ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

জীবনঘুড়ির আকাশ দেখা

সাজজাদ হোসাইন খান

॥ বায়ান্ন ॥

এরিমধ্যে কপাট খুলেছে স্কুলের। চাপ বাড়ছে পড়ালেখার। নতুন মুখ, নতুন বন্ধুবান্ধব। একটা জমজমাট পরিবেশ। হাওয়ায় উড়ছে সময়ের চুল। স্যাররা তাগিদ  দিচ্ছেন এটা পড়ো, ওটা পড়ো। স্যারদের চোখে চেহারায় কিসের যেন শব্দ ঘুরঘুর। পড়াটড়া দাগিয়ে দিচ্ছেন। অংক ইংরেজি সব পৃষ্ঠায়ই টিকচিহ্ন। তৌফিক বললো আলামত সুবিধার ঠেকছে না। পরীক্ষার ঘণ্টা বাজলো বুঝি। ঠিক ঠিকই ঘোষণা এলো দু’দিন বাদে। যাকে বলে প্রথম সাময়িক। পড়াগুলো ঝালিয়ে নিলাম, এই যা। ভয়েরা উঁকিঝুঁকি দিচ্ছিল অংক আর ইংরেজির মাঠের এক কোণায়। আব্বা সে ভয়কে তাড়িয়ে দিলেন। ইংরেজি অংকের পৃষ্ঠায় হাত রাখলেন কদিন। পরীক্ষা শেষ হলো সহি সালামতে। মনে হলো ডুবসাঁতার দিলাম নানুবাড়ির বিলে। ঝরঝরে শরীর নিয়ে উঠে এলাম ঘাটে। কদিন বাদেই বাজলো খুশির ডংকা। ক্লাসে হৈ চৈ। খুশি আনন্দ। আব্বা আম্মাও আমার মাথা পিঠে হাত বুলালেন। স্যাররাও বাহবা দিলেন। আমি একের ঘরে দাঁড়িয়ে থাকলেও শরীফা তিন থেকে দুই এর ঘরে ঢুকে পড়লো। শরীফার চোখ চিক চিক করছে আনন্দে। তাকে ধন্যবাদ জানালাম। আবার বইয়ের পৃষ্ঠা খাতার পৃষ্ঠা উলোটপালোট শুরু হয়ে গেল। স্কুলমাঠও সরগরম।  কদিন থেকে ঘরে কিসের যেনো গন্ধ উড়ছে বাতাসে। নানুবাসায় বারবার যাচ্ছেন আসছেন আম্মা। সলাপরামর্শ হচ্ছে, বৈঠক টৈঠকও হচ্ছে। আব্বাও যোগ দিচ্ছেন মাঝেমধ্যে। সবারই হাসি হাসি চেহারা দু’বাড়িতেই। ভালো ভালো খাওয়া দাওয়া। মিষ্টিফিষ্টি নিয়েও কাড়াকাড়ি। আমিও গেলাম আম্মার পিছন পিছন। গিয়ে দেখি এলাহিকা-। খালা-মামারা দৌড়ঝাপ করছেন। আম্মা বললেন তোমার আসমা খালার বিয়ে। আগামী বুধবার। আমি আনন্দে লাফিয়ে উঠলাম। মাঠ মতো একটা জায়গা ছিলো। আমাদের বাসার মুখোমুখি। সেখানেই আয়োজন হলো খানাদানার। সামিয়ানা টানিয়ে। চৌধুরী শামছুর রহমান নামের একজন লেখক এসেছিলেন বিয়েতে। নানাদের কি রকম আতী¥য় তিনি। সরকারের প্রচার বিভাগের নাকি একজন কর্মকর্তা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চম্পকনগর তার গ্রামের বাড়ি। তিনি বেশ কখানা বই দিয়েছিলেন উপহার হিসাবে। সবগুলোই ছিলো তার নিজের লেখা। বিয়েসাদিতে বইপত্রই উপহার আসতো বেশি। চৌধুরী শামছুর রহমান থাকতেন শান্তিনগর বাজারের উল্টা পাশে। একটি দু’তলা দালানে। নাম ছিলো মইনমহল। নিজের বাড়ি। অন্য মেহমানরাও বইটইই দিলেন। অনেকগুলোই বই জমা হলো। ‘মুসাফির’ নামের একটি বই নিয়েছিলাম সেখান থেকে। লেখক চৌধুরী শামছুর রহমান। আফসোসের কথা কে যে এই চৌধুরী বুঝতে পারিনি। এতো মেহমানের ভিড়বাট্টায়। মুসাফির বইটি পাঠ করতে গিয়ে লেখককে দেখার ইচ্ছা জাগছিল বারবার। বইটি ছিলো ভ্রমণ কাহিনী। খুবই মজার বই। 

মাত্র সাপ্তাখানেক, গুটিয়ে এলো আনন্দের পাখা। এবার অন্য আনন্দে ডুব দিলাম। সলাপরামর্শ চললো বেশ কদিন। বনভোজন জাতিয় কিছু করা যায় কিনা। কেউ বললো যাবে। কেউ আবার না’র দলে। ঠিক হলো অবশেষে বনে যাবো। তবে ভোজন রেখে। হান্ডিপাতিল বাসনপত্র বিশাল এক ঝামেলা। ঘুরাঘুরিতে ক্ষিধে পেলে খাব কি? মনোয়ার প্রশ্ন তুললো। আর কতদূর যাবো সেটিও তো ফয়সালা হলো না। সবার চেহারায় তখন জিজ্ঞাসার পতাকা দুলছে। ভাবনার ঘাম চিকচিক। বন আর ভোজনের হৈ হুল্লা দাঁড়িয়ে থাকলো কতক সময়। দুই তিনজন বড় ভাইও ছিলেন পরামর্শ সভায়। তাদেরই একজন বললেন পাকশাকে যখন ঝামেলা শুকনা খাবার নেব আমরা। মনোয়ার জানতে চাইলো শুকনা খাবার আবার কি জিনিস। ধরো পাউরুটি সাথে কলা অথবা মিষ্টি জাতিয় কিছু। বড় ভাইয়ের কথায় সায় দিলাম। প্রায় সবাই। এলাকা নির্বাচন নিয়েই বাধলো ঝামেলা। অনেক আলোচনা সমালোচনার পর ঠিক হলো বাড্ডা। সে এলাকায় বন আছে, জমিজমা আছে, দিঘি পুকুরের তো অভাব নাই। মনোয়ার জানালো নদীও আছে। মন চাইলে নৌকা ভ্রমণেও বাধা নাই। দিনক্ষণ ঠিক হলো আগামী শুক্রবার।

(চলবে)

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ