শুক্রবার ২১ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

মডার্নার টিকাসহ ক্লিনিক মালিক বিজয়কৃষ্ণ গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার: প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে দীর্ঘদিন আগে নিবন্ধন করে যখন টিকা পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ, তখন ক্লিনিক-ফার্মেসিতে টাকায় মিলছে সেই টিকা! রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকার ‘দরিদ্র পরিবার সেবা’ নামে একটি ক্লিনিকে অবৈধভাবে করোনা ভাইরাসের মডার্না টিকা দেওয়ার অভিযোগে বুধবার রাতে প্রতিষ্ঠানটির মালিক বিজয়কৃষ্ণ তালুকদারকে (৩৭) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় ক্লিনিকটি থেকে মডার্নার দুটি অ্যাম্পুল পাওয়া যায়। যার একটির মধ্যে টিকার আইসিক ছিল। এছাড়া মডার্না টিকার খালি বক্স পাওয়া যায় ২২টি। গ্রেফতার বিজয়কৃষ্ণ তালুকদারের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। 

এদিকে বিজয়কৃষ্ণ গতকাল ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর দক্ষিণখান থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন পুলিশ। বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়ে তদন্ত কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ২৩ আগস্ট রিমান্ড শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। ঢাকা মহানগর হাকিম আবু সাঈদ তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

দক্ষিণখান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজিজুল হক মিয়া বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকার দরিদ্র পরিবার সেবা নামে একটি ক্লিনিকে অবৈধভাবে করোনাভাইরাসের মডার্না টিকা দেওয়া হচ্ছে। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে ক্লিনিকটিতে অভিযান পরিচালনা করি। তিনি আরও বলেন, অভিযানে গিয়ে আমরা দেখি ক্লিনিকটিতে দুজন টিকা নিচ্ছিলেন। পরে অভিযানে সরকারি নীতিমালা ছাড়া অবৈধভাবে করোনার টিকা দেওয়ার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির মালিক বিজয়কৃষ্ণ তালুকদারকে গ্রেফতার করি। এ সময় ক্লিনিকটি থেকে মডার্নার টিকার দুটি অ্যাম্পুল পাওয়া যায়। যার একটির মধ্যে টিকার আইসিক ছিল। এছাড়া মডার্নার টিকার খালি বক্স পাওয়া যায় ২২টি। সেগুলো পরে আমরা জব্দ করি। আজিজুল হক মিয়া বলেন, গ্রেফতার বিজয়কৃষ্ণ তালুকদারকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পেরেছি, তিনি প্রতি ডোজ টিকা এক হাজার টাকার বিনিময়ে মানুষকে দিতেন। তিনি এখন পর্যন্ত কতজনকে টিকা দিয়েছেন এবং কোথা থেকে এই টিকা পেয়েছেন তা জানা দরকার। এজন্য তাকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

তদন্ত করবে ইপিআই : এদিকে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই)। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক কর্মকর্তা বলেন, অজানা কারণেই মর্ডানার টিকায় সাধারণ মানুষের আস্থা বেশি। আবার এদিকে দীর্ঘদিন যাবৎ নিবন্ধন করেও কাক্সিক্ষত টিকা পাচ্ছে না মানুষ। তাই যেখানেই টিকার খোঁজ পাচ্ছে, সেখান থেকেই নেওয়ার চেষ্টা করছে। আর এ সুযোগটাই নিচ্ছে অসাধু কিছু সুবিধাভুগীরা।

কীভাবে এই টিকা ক্লিনিক-ফার্মেসিতে যাচ্ছে জানতে চাইলে ইপিআইয়ের কর্মসূচি ব্যবস্থাপক ডা. মওলা বক্স চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, আমি ১১ দিন যাবৎ করোনা আক্রান্ত হয়ে আইসোলেশনে আছি। তাই কীভাবে কী হলো আমি বলতে পারছি না। আমরা অবশ্যই এটা নিয়ে তদন্ত করবো, এরপরই আপনাদের বিস্তারিত জানাবো। তবে এর আগে আমি কিছু বলতে পারবো না। তিনি বলেন, মিডিয়া ও প্রশাসনের যেসব কর্মকর্তারা আছেন, আপনারাও যদি কোন তথ্য-উপাত্ত পান, অবশ্যই আমাদের জানাবেন। এটা নিয়ে আমরা কাজ করব এবং এর সঙ্গে যদি কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় আমরা ব্যবস্থা নেব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ