শুক্রবার ২১ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

আফগানিস্তানে মার্কিন আগ্রাসনে ২ লাখ প্রাণহানি বাস্তুচ্যুত লাখ লাখ মানুষ

 

মুহাম্মদ নূরে আলম: আফগানিস্তানে মার্কিন আগ্রাসনের ফলে ২০ বছর ধরে চলে যুদ্ধ। হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি। লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। আফগানিস্তানে ২০ বছরের যুদ্ধে প্রায় ২ লাখ সামরিক ও বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে। মোল্লা ওমরসহ তালেবানের অনেক নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। প্রথম সারির দু’চারজন পালিয়ে দেশের বাইরে অবস্থান নিয়েছিলেন। এরপরও যারা তালেবানের ঝা-া উঁচু করে ধরেছিলেন, তাদেরকে নির্মূলে ২০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো আফগানিস্তানে শত শত কোটি ডলার খরচ করেছে। আফগানিস্তানের সেনাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে। কিন্তু মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে ২০ বছরের সেই যুদ্ধ, অর্থ ব্যয়, এত প্রাণহানি, হতাহত, বাস্তুচ্যুত মানুষ- এসবের ফল দাঁড়াল শূন্য। সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানাযায়, সব মিলিয়ে নিষ্ফল এই আফগান যুদ্ধে কত প্রাণ বিলীন হয়েছে, তার অবশ্যই সুস্পষ্ট কোন উত্তর নেই। তবে আফগান যুদ্ধে হামলাকারী জোটের সদস্যদের মারা যাওয়ার রেকর্ড যেভাবে রাখা হয়েছে, আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষ বা তালেবানের কতজন মারা গেছেন, তার রেকর্ড সেভাবে কেউই রাখেনি। ব্রাউন ইউনিভার্সিটির হিসাব মতে, আফগানিস্তানের সেনাবাহিনীর কমপক্ষে ৬৯ হাজার নিহত হয়েছেন এই যুদ্ধে। পক্ষান্তরে ৫১ হাজার বেসামরিক মানুষ এবং ৫১ হাজার মিলিট্যান্ট নিহত হয়েছেন বলে তাদের হিসাব। ২০০১ সাল থেকে আফগানিস্তানে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩৫০০ সেনা। এর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ মার্কিনি। আহত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কমপক্ষে ২০ হাজার সেনা সদস্য। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, সারা বিশ্বে আফগানিস্তান হচ্ছে তৃতীয় বৃহৎ বাস্তুচ্যুত মানুষের দেশ। ২০১২ সালের পর প্রায় ৫০ লাখ মানুষ পালিয়েছেন। তারা ঘরে ফিরতে সক্ষম হননি। তারা হয়তো আফগানিস্তানের ভিতরেই অবস্থান করছেন অথবা প্রতিবেশী দেশগুলোতে শরণার্থী হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র এই যুুদ্ধে কি পরিমাণ অর্থ খরচ করেছে তা নিয়ে বিশ্লেষণ করেছে ব্রাউন ইউনিভার্সিটি। এর মধ্যে আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানে সামরিক ও পুনর্গঠন তহবিলে ২০২০ সাল পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৯৭৮০০ কোটি ডলার।

এদিকে তালেবান শাসনে আফগানিস্তান গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হবে না। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে এ কথা বলেছেন তালেবানের শীর্ষ নেতা ওয়াহিদুল্লাহ হাশিমি। তিনি বলেন, এখানে কোনো রকম গণতান্ত্রিক পদ্ধতি থাকবে না। কারণ আমাদের দেশে এর কোন ভিত্তি নেই। আফগানিস্তানে কী ধরনের রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থা থাকবে এ নিয়ে আমরা আলোচনা করব না। কারণ এটা পরিষ্কার। আফগানিস্তান চলবে শরিয়া আইনে। সেটাই শেষ কথা। তালেবানের সিদ্ধান্ত প্রণয়নকারী নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে হাশিমির। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, এদিকে গত রোববার ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল দখলের মাধ্যমে পুরো দেশের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। তারপর থেকেই জল্পনা তৈরি হয়েছিল যে, দেশটিতে পরবর্তীতে কী ঘটতে যাচ্ছে? সাধারণ মানুষের মধ্যেও কিছুটা উদ্বেগ এবং উৎকণ্ঠা দেখা দেয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত দেশটির পরিস্থিতি শান্ত আছে। এমনকি তালেবান ক্ষমতা দখলের পরও মেয়েদের স্কুলে যেতে দেখা গেছে, টিভি চ্যানেলে নারীদের সংবাদ উপস্থাপনা করতেও দেখা গেছে। বড় ধরনের কোনো সহিংসতার খবরও সেখানে পাওয়া যায়নি। এমনকি তালেবানের নেতাদের পক্ষ থেকে তাদের যোদ্ধাদের কোনো ধরনের সহিংসতা না করার এবং লোকজনের বাড়ি-ঘরে প্রবেশ না করার আহ্বান জানানো হয়। নারীসহ অন্যান্য লোকজনকে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফেরা এমনকি তালেবান সরকারে নারীদের অংশ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে তালেবান। তবে নারীদের অবশ্যই হিজাব পরেই সব কাজে অংশ নিতে হবে বলে জানানো হয়। তালেবানের পক্ষ থেকে দেশের উন্নয়ন এবং জনগণের সেবা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সবাইকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। এদিকে, আফগানিস্তান তালেবানের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর কাবুল বিমানবন্দরে দেশ ছাড়ার অপেক্ষায় রয়েছে আরও বহু মানুষ। আফগান রুট বাদ দিলে অনেক এয়ারলাইন ভারতের আকাশপথও ব্যবহার করতে পারবে না। এর জন্য তাদের সম্পূর্ণ ভিন্ন রাস্তা নিতে হবে। যার ফলে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হবে ভারতীয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে। এছাড়াও ভারতের প্রায় ৪০০টি প্রকল্প চলছে আফগানিস্তানে। তালেবান কাবুল দখল করে নেওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে। আফগানিস্তানে তালেবান শাসনেও কাবুল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিতে তুরস্ক এখনও প্রস্তুত। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান গতকাল বৃহস্পতিবার একথা জানিয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানা গেছে। 

তালেবান নেতা ওয়াহিদুল্লাহ হাশিমি বলেন, তালেবোনের সুপ্রিম নেতা হিবাতুল্লাহ আকুন্দজাদার নেতৃত্বে গঠিত শাসক পরিষদের মাধ্যমে আফগানিস্তান পরিচালিত হবে। বিভিন্ন পদে আমাদের মন্ত্রীরা নিযুক্ত থাকবেন। আর শাসক পরিষদের মাধ্যমেই এসব মন্ত্রীদের নিয়োগ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক কোনো নীতিমালা থাকবে না। হাশিমির পক্ষ থেকে এ ধরনের মন্তব্য এলেও এখনও পর্যন্ত তালেবান আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের সরকার গঠনের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ধারণা দেয়নি।

আফগানিস্তানে স্বাধীনতা দিবসে সহিংসতায় নিহত ২ জন: আফগানিস্তানের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনকালে গতকাল বৃহস্পতিবার সহিংসতার ঘটনায় দু’জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, জাতীয় পতাকা নিয়ে মিছিল বের করলে গুলি চালায় তালেবান যোদ্ধারা। এ সময় দু’জন নিহত হয়। খবর আল জাজিরার। ১০২তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আফগানিস্তানের আসাদাবাদে নারীসহ বেশ কয়েকজন পতাকা নিয়ে মিছিল বের করেন। সেসময় হামলার ঘটনা ঘটে। এতে আরও ২ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে জালালাবাদে পুরোনো পতাকা সরিয়ে সবখানে তালেবানের পতাকা উত্তোলনের বিরোধিতায় বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। এসময় বিক্ষোভে গুলি চালানো হলে তিনজন নিহত হন। আহত হন আরও ডজনখানেক মানুষ। ১৯১৯ সালে তৃতীয় অ্যাংলো-আফগান যুদ্ধ সংগঠিত হয়। তিন মাস স্থায়ী হওয়া এই যুদ্ধটি সাম্যতা বজায় রেখে সমাপ্ত হয়। সে বছরের ৮ আগস্ট ব্রিটেন এবং আফগানিস্তান রাওয়ালপিন্ডি চুক্তি স্বাক্ষর করে। এতে আফগানিস্তানের স্বাধীনতার স্বীকৃতি দেওয়া হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া হয় ১৯ আগস্ট। এরপর থেকেই দেশটিতে ১৯ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস পালিত হচ্ছে।

আফগান অস্থিরতায় ক্ষতির শঙ্কায় ভারত: এশিয়া থেকে ইউরোপ যাতায়াতের অন্যতম রুট হচ্ছে ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের আকাশপথ। সম্প্রতি তালেবান পুনরুত্থানের জেরে বেশ কিছু এয়ারলাইন আফগানিস্তানের আকাশপথ ব্যবহার করতে চাচ্ছে না। কোনও কোনও দেশ নিজস্ব এয়ারলাইনগুলোকে যাত্রাপথ বদলের নির্দেশ দিয়েছে। সমস্যা হচ্ছে, আফগান রুট বাদ দিলে অনেক এয়ারলাইন ভারতের আকাশপথও ব্যবহার করতে পারবে না। এর জন্য তাদের সম্পূর্ণ ভিন্ন রাস্তা নিতে হবে। যার ফলে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হবে ভারতীয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে। খবর ডয়েচে ভেলের। ভারতীয় বিমানবন্দরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এতদিন অনেক বিদেশি উড়োজাহাজ ভারত হয়ে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের উপর দিয়ে ইউরোপে ঢুকত। ভারতীয় আকাশসীমা ব্যবহারের জন্য তারা মোটা অংকের অর্থ দিত। কিন্তু রুট পরিবর্তন হলে এসব উড়োজাহাজ আর ভারতের আকাশসীমায় ঢুকবে না। 

পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ করে দিয়েছে তালেবান। সীমান্ত দিয়ে আমদানি-রফতানি বন্ধ করে দেওয়ায় দেখা দিয়েছে জটিলতা। ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশন (এফআইইও) এমন তথ্য জানিয়েছে। পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে অবস্থিত দু’টি বাণিজ্যিক টার্মিনালও বন্ধ করে দেয় গোষ্ঠীটি। ভারতীয় রফতানিকারক সংস্থাগুলোর দাবি করছে, পাকিস্তানের দিকে পণ্য পরিবহনে বাধা দিচ্ছে তালেবান গোষ্ঠী। দু’দেশের পণ্যবাহী কার্গো চলাচলে বাধার মুখে পড়ায় বিপুল অর্থের পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছে ভারত। এফআইইও-এর মহাপরিচালক ড. অজয় সহাই জানান, বর্তমানে পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে সকল ট্রানজিট রুটে পণ্য পরিবহন বন্ধ করে দেয় তালেবান। ফলে আমদানিও বন্ধ। এ বিষয়ে তালেবানের পক্ষ থেকে কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে ভারতের সঙ্গে আফগানিস্তানের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। আফগানিস্তানে ভারতের বিনিয়োগের পরিমাণও অনেক। দেশটিতে ভারতের প্রায় ৪০০টি প্রকল্প চলছে। তালেবান কাবুল দখল করে নেওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে প্রকল্পগুলো।

আমেরিকানরা কাবুল না ছাড়া পর্যন্ত সেনারা অবস্থান করবে -বাইডেন: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, আমেরিকানরা কাবুল না ছাড়া পর্যন্ত মার্কিন সেনারা সেখানে অবস্থান করবেন। যদিও আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সেনা প্রত্যাহারের সময়সূচি আগেই ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে, এক টেলিভিশন সাক্ষাতকারে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে প্রশ্ন করা হয়, আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার কি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল? তিনি বলেন না। সূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা। 

এখনও কাবুল বিমানবন্দরের দায়িত্ব নিতে চায় তুরস্ক  -এরদোগান: আফগানিস্তান থেকে মার্কিন ও বিদেশি সেনা প্রত্যাহার শুরু হওয়ার পরেই কাবুল বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল তুরস্ক। কিন্তু সম্প্রতি তালেবান কাবুল দখল করার পর তুরস্কের এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। তালেবান জানিয়েছে, তারা দেশে কোনও বিদেশি সেনা চায় না। গত বুধবার টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে এরদোয়ান জানান, তুরস্ক এখনও বিমানবন্দরটি পরিচালনায় আগ্রহী। তিনি বলেন, তালেবান সারাদেশ নিয়ন্ত্রণ করবে। আমাদের সামনে নতুন এক পরিস্থিতি হাজির হয়েছে। তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, নতুন এই বাস্তবতা অনুসারে আমরা নিজেদের পরিকল্পনা করছি।

ঘানিকে গ্রেফতারে ইন্টারপোলের প্রতি আফগান দূতাবাসের আহ্বান: তালেবানের দাপটে ক্ষমতা হারিয়েছেন আগেই। নিজে বাঁচতে গোপনে দেশ ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছেন বিদেশে। তাতেও যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে পারছেন না আশরাফ গনি। দেশের সম্পদ চুরির অভিযোগে এবার তাকে আটক করতে পুলিশের আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ইন্টারপোল’-কে অনুরোধ জানিয়েছে তাজিকিস্তানের আফগান দূতাবাস। গত বুধবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায় পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন। আশরাফ ঘানির পাশাপাশি আফগানিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হামদাল্লাহ মোহিব এবং গনির সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ফজল মাহমুদ ফাজলিকেও গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়েছে। গত বুধবার এই দাবি জানায় প্রতিবেশী দেশ তাজিকিস্তানের আফগান দূতাবাস।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর বহু বায়োমেট্রিক ডিভাইস তালেবানের দখলে: আফগানিস্তান যুদ্ধে ব্যবহৃত মার্কিন সামরিক বাহিনীর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বায়োমেট্রিক ডিভাইস তালেবানের দখলে চলে গেছে। এসব ডিভাইসে মার্কিন বাহিনী ও যুদ্ধে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করা আফগানদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে। গত বুধবার একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় বার্তাসংস্থা এএনআই ও সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তালেবানের দখলে যাওয়া এসব বায়োমেট্রিক ডিভাইস এইচআইআইডিই বা হাইড নামে পরিচিত। এর পূর্ণরূপ হ্যান্ডহেল্ড ইন্টারএজেন্সি আইডেন্টিটি ডিটেকশন ইক্যুপমেন্ট।

যুক্তরাষ্ট্রের দ্য ইন্টারসেপ্ট জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট স্পেশাল অপারেশনস কমান্ডের একজন কর্মকর্তা এবং সামরিক বাহিনীর সাবেক ৩ কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হাইড নামে পরিচিত বায়োমেট্রিক ডিভাইসগুলো গত সপ্তাহে আফগানিস্তানজুড়ে জোরদার হামলার সময় তালেবানের হাতে চলে যায়। মার্কিন সামরিক বাহিনীর এসব কর্মকর্তার আশঙ্কা, হাতে পাওয়ার পর এখন এসব ডিভাইসগুলোতে থাকা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিজেদের পক্ষে ব্যবহার করতে পারে তালেবান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ