সোমবার ২৯ নবেম্বর ২০২১
Online Edition

সরকারি চাকরির প্রলোভনে হাতিয়ে নিতো লাখ লাখ টাকা

স্টাফ রিপোর্টার : ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমিউনিটি কেন্দ্র, সুখী পরিবার, মা ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্র, এ্যাপোলো কনজিউমার প্রোডাক্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে লোভনীয় বেতনে সরকারি চাকরি দেয়ার নামে প্রতারণা করে আসছিল একটি চক্র। দেশের প্রথম সারির কিছু পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতো প্রতারক চক্রটি। মহাখালীতে স্বাস্থ্য বিভাগের ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমিউনিটি কেন্দ্রের প্রধান কার্যালয়ের ঠিকানা ব্যবহার করতো তারা। তাদের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবি আই) অর্গানাইজড ক্রাইম দক্ষিণ বিভাগ।
গ্রেফতার ছয়জন হলেন- মো. ফিরোজ, আব্দুল কুদ্দুস, মাঈনুল ইসলাম, বিলস্নাল হোসেন, তৌকির আহমেদ, কফিল উদ্দিন চৌধুরী। এদের মধ্যে ফিরোজ এই চক্রের মাস্টারমাইন্ড বলে জানিয়েছে পিবি আই। শুক্রবার ও শনিবার টানা অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। শনিবার মোহাম্মদপুর থানায় এই চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করেন ফজলুল করিম নামে একজন ভুক্তভোগী। এই মামলায় ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুরে রাজধানীর বনশ্রীতে ঢাকা দক্ষিণের পিবি আইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সরোয়ার জাহান সাংবাদিক সম্মেলনে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশের প্রথম সারির কিছু পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতো প্রতারক চক্রটি। মহাখালীতে স্বাস্থ্য বিভাগের ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমিউনিটি কেন্দ্রের প্রধান কার্যালয়ের ঠিকানা ব্যবহার করতো তারা। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে কিছু ই-মেইল এড্রেস দেয়া থাকতো। যেগুলোতে আগ্রহীরা সিভি পাঠাতেন। সিভি পাওয়ার পর চাকরিপ্রার্থীকে এসএমএস এর মাধ্যমে চাকরি হয়েছে বলে একটি কনফার্মেশন পাঠাতো। এরপর বিকাশের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন বাবদ নিতো ১৯৪০ টাকা। টাকা পাঠানোর পর এই প্রতারক চক্র একটি মানি রিসিট, অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার এবং চূড়ান্ত নির্বাচিত ফরম ই-মেইল করে চাকরিপ্রার্থীকে পাঠাত। তাদের কথামতো চূড়ান্ত নির্বাচিত ফরম পূরণ করে প্রতারকদের দেয়া ই-মেইলে ফিরতি মেইল করতে হতো চাকরিপ্রত্যাশীদের। এরপর ডিজিটাল আইডি কার্ড দেয়া হবে বলে জানায় প্রতারকরা।
তিনি বলেন, বিনামূল্যে ল্যাপটপ ও মেডিকেল ইকুইপমেন্ট দেওয়া হবে সেজন্য দ্বিতীয় দফায় আরো ৪০৮০ টাকা দাবি করে চক্রটি। আবারো টাকা পাঠানোর পর চাকরিতে যোগদানের জন্য চাকরিপ্রত্যাশীরা প্রতারকদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। এক পর্যায়ে ওই নম্বরে আর সংযোগ পাওয়া যায় না। ততক্ষণে ভিকটিম বুঝতে পারেন তিনি প্রতারিত হয়েছেন। প্রত্যেক প্রার্থীর কাছ থেকে চাকরি দেয়ার নাম করে অন্তত পাঁচ হাজার টাকা করে নিয়ে আসছিল এ চক্রটি। তারা এ পর্যন্ত কতজনের সঙ্গে প্রতারণা করেছে তার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া না গেলেও প্রতারকদের দু'টি বিকাশ নম্বরে গত তিন মাসে ১২ লাখ টাকা এসেছে। যা থেকে ধারণা করা যায় তারা কত মানুষকে প্রতারিত করেছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পত্রিকার বিজ্ঞাপন শাখার কেউ এই প্রতারণায় জড়িত আছে কি-না তা তদন্ত করা হচ্ছে। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন ছাপানোর আগে ন্যূনতম যাচাই করা প্রয়োজন। তাহলে আর প্রতারকরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতে পারত না। ভালো পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখে মানুষ আশ্বস্ত হয়। বিজ্ঞাপন সংশিস্নষ্ট কয়েকজনের নাম আমরা পেয়েছি। যেগুলো যাচাই-বাছাই চলছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ