ঢাকা, মঙ্গলবার 30 November 2021, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী
Online Edition

পরীমনির রিমান্ড শেষ, জামিন চাইলেন আইনজীবি

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: মাদক মামলায় দুই দফা রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে চিত্রনায়িকা পরীমনিকে আদালতে পাঠিয়েছে সিআইডি।

পরীমণির পাশাপাশি তার সহযোগী আশরাফুল ইসলাম দীপু, প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজ, তার ব্যবস্থাপক সবুজ আলী এবং মডেল মরিয়ম আক্তার মৌকেও মাদক আইনের মামলায় রিমান্ড শেষে শুক্রবার আদালতে নেওয়া হয়েছে বলে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “বনানী থানার মাদক আইনের মামলায় নতুন করে তাদের আর রিমান্ড চাওয়া হচ্ছে না। তবে পর্নগ্রাফি আইনের একটি মামলায় রাজের আগের থেকে রিমান্ড হয়ে আছে। তাকে সময়মত রিমান্ডে নেওয়া হবে।”

মহানগর পুলিশের অপরাধ, তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের উপ- কমিশনার মো. জাফর হোসেন জানান, বেলা পৌনে ১২টার দিকে পরীমনিকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক গোলাম মোস্তফা মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরীমনিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

অন্যদিকে পরীমনির পক্ষে জামিনের আবেদন করার কথা জানিয়ে তার আইনজীবী নিলাঞ্জনা রিফাত সুরভী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আইনজীবী মজিবুর রহমান জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করবেন।

দুপরে মহানগর হাকিম ধীমান চন্দ্র মণ্ডলের আদালতে দুই আবেদনের ওপর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

পরীমনিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদনে পুলিশ বলেছে, “মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় দুই দফা রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত দিয়েছেন পরীমনি। মামলার তদন্তের স্বার্থে তা যাচাই করা হচ্ছে।

“মামলার অভিযোগের সঙ্গে তার জড়িত থাকার ব্যাপারে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তদন্ত অব্যাহত আছে। মামলার তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাকে জেলহাজতে রাখা হোক।”

প্রথম দফায় চার দিনের রিমান্ড শেষে পরীমনি, দীপু, রাজ ও সবুজকে গত মঙ্গলবার আদালতে হাজির করে আবারও রিমান্ডের আবেদন করেছিল মামলাগুলোর তদন্ত সংস্থা সিআইডি।

সেদিন শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস বনানী থানার মাদক আইনের মামলায় পরীমণি ও তার সহযোগী আশরাফুল ইসলাম দীপুকে আরও দুই দিন করে রিমান্ডে পাঠান।

অন্যদিকে ‘ডিজে পার্টি’ আয়োজনের আড়ালে অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ৩ অগাস্ট ঢাকায় শরিফুল হাসান (মিশু হাসান) ও মাসুদুল ইসলাম ওরফে জিসান নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার পরদিন র‌্যাব যায় পরীমনির বনানীর বাসায়।

কয়েক ঘণ্টা অভিযান শেষে পরীমনি এবং তার সহযোগী আশরাফুল ইসলাম দীপুকে আটক করে নিয়ে যায় র‌্যাব। এরপর অভিযান চলে বনানীতে চলচ্চিত্র প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজের বাড়িতে। সেখান থেকে রাজ এবং তার ব্যবস্থাপক সবুজ আলীকে র‌্যাব আটক করে।

৫ অগাস্ট উত্তরায় র‌্যাব সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীর মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, পরীমনি ও রাজের বাড়িতে ‘মদ ও মাদকদ্রব্য’ পেয়েছেন তারা। পরীমনির একটি মদের লাইসেন্স পাওয়া গেলেও তার মেয়াদ ছিল না। এছাড়া রাজকে গ্রেপ্তারের সময় কম্পিউটারে 'পার্ন কনটেন্ট' পাওয়া গেছে।

মিশু ও জিসানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পরীমনি ও রাজের বাড়িতে অভিযান চালানো হয় বলে কমান্ডার আল মঈন সেদিন জানান।

এরপর চারজনকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়, বনানী থানায় দায়ের করা হয় মাদক আইনে দুটি মামলা। এছাড়া রাজ ও সজুজের বিরুদ্ধে পর্নগ্রাফি আইনে আরেকটি মামলা করা হয়।

র‌্যাবের করা জব্দ তালিকায় পরীমনির বাসা থেকে ‘বিপুল পরিমাণ মদ এবং আইস ও এলএসডির মতো মাদকদ্রব্য’ উদ্ধারের কথা বলা হয়। আর রাজের ফ্ল্যাট থেকে মদ ও ইয়াবার সঙ্গে ‘সেক্স টয়’ এবং একটি সাউন্ড বক্স জব্দ করার কথা বলা হয়।

৫ অগাস্ট সন্ধ্যায় চারজনকে আদালতে তোলা হলে মাদক আইনের দুই মামলায় চারজনকে চার দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন ঢাকার মহানগর হাকিম মো. মামুনুর রশিদ। পরে মামলাগুলোর তদন্তভার সিআইডির হাতে যায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ