মঙ্গলবার ৩০ নবেম্বর ২০২১
Online Edition

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ আইনজীবীর বিরুদ্ধে

স্টাফ রিপোর্টার: বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে রাজধানীর শাহবাগের একটি হোটেলে মিজবাহ-উল ইসলাম কয়েস নামে সিলেটের এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে এক সংখ্যালঘু নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত ২৪ জুলাই ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে রাজধানীর শাহবাগ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। মামলা নম্বর- ২৩। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তিনি বর্তমানে রাজধানীর রাজারবাগের ভাড়া বাসায় থাকেন। মামলার এজাহারে ভুক্তভোগী নারী বলেন, সিলেটের বিমানবন্দর থানাধীন ফরিদাবাদ আহমেদ হাউজিংয়ের বাসিন্দা মিজবাহ-উল ইসলাম কয়েস দুইটি মোবাইল নম্বর থেকে দীর্ঘদিন ধরে তাকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে পরিচয় হয় এবং ধীরে ধীরে সেটা প্রণয়ে রূপ নেয়। পরবর্তীতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। ভুক্তভোগী নারী আরও বলেন, মিজবাহ-উল ইসলাম কয়েস নামে সিলেটের এই আইনজীবী বিয়ের কথা বলে দিনের পর দিন তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করে আসছিলেন।

সর্বশেষ গত ২৩শে জুলাই মিসবাহ-উল কয়েস বিয়ের কথা বলে তাকে রাজধানীর শাহবাগ থানাধীন হোটেল মেট্রোপলিটনে ডেকে নেয়। রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার সময় হোটেলের চতুর্থ তলায় ৩১০ নম্বর কক্ষে নিয়ে যায় তাকে। মিজবাহ-উল ইসলাম তাকে জানায় হোটেলে তাদের বিয়ে হবে। কিন্তু হোটেলে গিয়ে বিয়ের কোনো আয়োজন দেখতে না পেলে বাদী এবং ভুক্তভোগী নারীর সন্দেহ হয়। সে বাড়ি ফিরে যেতে চাইলে মিজবাহ তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, চিন্তা করো না, আজকেই আমাদের বিয়ে হবে।

কিন্তু দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর কাজী না এলে মাঝরাতে তিনি বাড়ি ফেরার চেষ্টা করেন। এই সময় অভিযুক্ত মিজবাহ তাকে জোর করে হোটেল কক্ষে আটকে রাখে। রাতভর তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে। পরদিন সকালে ভুক্তভোগী নারীকে হোটেল কক্ষে ফেলে রেখে আসামি মিজবাহ কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এ সময় একাধিকবার ফোন করলে মিজবাহ’র ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ধর্ষণের শিকার নারী অভিযুক্ত ওই আইনজীবীর বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। 

ভুক্তভোগী ওই নারী জানায়, তার সাথে প্রেম চলাকালে  জানতে পারে মেসবাউল কয়েস ইতিপূর্বে আরও ৩ টা বিয়ে করেছিল এবং সিলেটের আরও এক মহিলার সাথে তার পরক্রিয়া আছে। 

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক মো. গোলাপ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ধর্ষণে অভিযুক্ত আসামী বর্তমানে পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ