শুক্রবার ২০ মে ২০২২
Online Edition

মকবুল আহমাদ আদর্শ এক দা’য়ী ইলাল্লাহ

অধ্যাপক মাযহারুল ইসলাম:

॥ গতকালের পর ॥ 

দেশে-বিদেশে তিনি যেখানেই যখন সফর করেছেন তিনি আল্লাহর পথে সকলকে আহ্বান জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, তিনি দেশের কোনো জেলায় কিংবা বিদেশে কোনো সফরে গেলে সেই সকল স্থানের দীনি ভাইদের ঢাকায় বা দেশে অবস্থানরত আত্মীয়-স্বজনদের খোঁজ-খবর এবং ঠিকানা নিতেন। ঢাকায় ফিরে এসে তাদেরকে দীনের দাওয়াত দিতেন। সময় পেলে দেখা করতেন এবং ইসলামী বই-পুস্তক পাঠাতেন। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যেই প্রায় প্রতিটি মুহূর্ত তিনি দীনের দাওয়াতী কাজে ব্যয় করেছেন।

আল্লাহ বলেন, “সময়ের শপথ, মানুষ অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত, কিন্তু তারা নয়, যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে  সত্যের উপদেশ ও ধৈর্যের উপদেশ দেয়” সূরা আসর।

মরহুম শ্রদ্ধেয় জনাব মকবুল আহমাদ মহান রাব্বুল আলামিনের এই বাণী অনুধাবন করে বাস্তবে সর্বদা তা অনুসরণের চেষ্টা করেছেন।

শ্রদ্ধেয় জনাব মকবুল আহমাদের জীবন ও কর্মে যে বৈশিষ্ট্য প্রস্ফুটিত হয়েছে তা এই যে :

* তিনি ছিলেন সহজ-সরল, সাদামাটা, নির্লোভ, নিরহঙ্কার, অমায়িক, নম্র, ভদ্র, সৌম্য ও শান্ত স্বভাবের আপাদমস্তক একজন নিরেট ভদ্রলোক।

* তার কথা ও কাজে ছিল মিল। কোনো সময় কখনোই তার কাজে-কর্মে ও মন-মানসিকতার মধ্যে বৈপরীত্য ছিল না। যা ভাবতেন, যা বলতেন তাই তিনি করতেন।

* তিনি যেকোনো বৈঠকাদিতে কখনো এক মিনিটও বিলম্ব করতেন না। বৈঠক শুরুর আগেই যথাসময়ে নিয়মিত হাজির হতেন। তিনি যা ভালো মনে করতেন এবং বুঝতেন, তা অন্যদের কাছে অপ্রিয় হলেও বৈঠকাদিতে অকপটে, নিঃসংকোচে তা তুলে ধরতেন। ঘরে-বাইরে, সফরে প্রতিটি মুহূর্ত তিনি কাজে লাগাতেন। অযথা গল্প-গুজবে কোনো সময় নষ্ট করতেন না। সময়ের ব্যাপারে ছিলেন অত্যন্ত সচেতন।

* তিনি খুবই অল্প সাধারণ মানের খাবার খেতেন। সবসময়ই ১টা বা দেড়টা রুটি খেতেন। উল্লেখ্য, তিনি ডায়াবেটিক রোগী হওয়ার কারণেই একটানা ৪০-৫০ বছর রুটি খেয়েই চলতেন। কখনো কখনো সামান্য ভাত-সবজি খেতেন।

* আমি বহু বছর তার সাথে একত্রে রমজানের শেষ দশ দিন ইতিকাফ করেছি। আমি তাকে অতি কাছ থেকে দেখেছিÑ সারাদিন রোজা থাকার পরও ইফতার, রাতের খাওয়া বা সাহরীর সময় নিয়মের কোনো ব্যতিক্রম করেননি। ধীরস্থিরভাবে এক-দুটি ছোট রুটি খেয়েই যেন অসাধারণ তৃপ্তিবোধ করতেন।

* কঠোরভাবে নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলতেন। কাজ-কর্মের ক্ষেত্রে তিনি যেমন কঠোরভাবে নিয়মশৃঙ্খলা মেনে চলতেন, পোশাক-আশাক, খানাদানা, চাল-চলনের ক্ষেত্রেও তিনি নিয়মশৃঙ্খলার ব্যতিক্রম করতেন না।

* যারা সংগঠন থেকে দূরে সরে যেতেনÑ তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতেন। ২০-৩০ বছরের পুরনো ভাই-বন্ধুদেরও তিনি খুঁজে খুঁজে বের করতেন এবং তাদের খোঁজখবর নিতেন এবং আমাকে সঙ্গে নিয়ে দেখতে যেতেন।

* কোনো কারণে সংগঠন থেকে কেউ বের হয়ে গেলে তিনি বলতেন, আমাদের চেয়ে ভালো কিছু করুন অথবা আমাদের সাথেই থাকুন, নিজের ঘরেই চলে আসুন।

* কোনো বিয়েতে বা কোনো বড় অনুষ্ঠানে তাকে দাওয়াত দিলে তিনি অফিসের ছোটখাটো কর্মীকেও সাথে নিতেন। তিনি আমাকে বলতেন, আমরা সবসময়ই দাওয়াত খাই। কিন্তু এরা তো সুযোগ পায় না। তাই একজন-দুজনকে প্রায় সময়ই সাথে নিতেন এবং এক টেবিলে বসেই খেতেন।

* কোনো সফরে গেলে সাথের কর্মীরা খেয়েছে কিনা, ড্রাইভার খেয়েছে কিনা, তাদের শোবার জায়গা হয়েছে কিনা, তিনি নিজে তাদের খোঁজখবর নিতেন।

* কেউ তার কাছে সাহায্য চেয়ে খালি হাতে ফিরে গেছেÑ এমন আমি কখনো দেখিনি। এমনকি ইতেকাফে থাকা অবস্থায়ও অনেক ব্যক্তি তার কাছে সাহায্য-সহযোগিতার জন্য আসতো। তিনি তাদের কিছু না কিছু ব্যবস্থা করে দিতেন। তার মৃত্যুর মাসখানেক আগে অফিসের একজন সাবেক কর্মী ভীষণ অসুস্থ ছিল। আমি তার কাছে খবর পাঠিয়েছিলামÑ তিনি নিজে ব্যক্তিগতভাবে এবং অন্যান্য উপায়েও তাকে সাহায্য করেছেন। এরকম আরো নজির আমার কাছে আছে। 

* তিনি যখন কোনো গিফট বা উপহার পেতেন, তার সবগুলোই প্রায় অন্যদের মাঝে বিলিয়ে দিতেন। এমনকি যারা অফিসের সাধারণ কর্মী ছিলেন, তাদেরও দিয়ে দিতেন।

* পবিত্র রমজান মাসে তালিকা করে তিনি অফিসের দু’একজন এবং পরিচিতদের মধ্য থেকে দু’একজন করে বাসায় নিয়ে ইফতার করাতেন।

* পারস্পরিক সম্পর্ক রক্ষার ক্ষেত্রে তিনি বাস্তবে তা যথার্থভাবে পালন করতেন। নিজের প্রয়োজনের চেয়ে অপরের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিতেন। অফিসের কর্মীদের পরিবার-পরিজন এবং বাড়িঘরেরও খোঁজ-খবর নিতেন।

* কী আপন, কী পর যে কোনো অসুস্থ ব্যক্তির খবর পেলেই তিনি হাসপাতালে দেখতে যেতেন। আমাকে প্রায়ই সঙ্গে নিতেন। পরিচিত রোগীকে দেখার পর আরেক পাশে অপরিচিত রোগীকেও দেখতেন, তাদের মাথায়-গায়ে হাত বোলাতেন এবং দোয়া করতেন।

* পরিচিত দীনি কোনো ভাইয়ের সাক্ষাৎ পেলেই বলতেন, আপনার কি শপথ হয়েছে? না হয়ে থাকলে কবে শপথ হবে? এ প্রশ্নে কেউ কেউ বিব্রতবোধ করতেন। আসলে তার মনে-প্রাণে, চিন্তা-চেতনায় ভাবনায় সবসময়ই থাকতো সংগঠন, দাওয়াত এবং টার্গেটভিত্তিক কাজ করার লক্ষ্য। আর এ কারণেই তিনি কারো দেখা পেলেই কুশলাদি বিনিময়ের পর এ কথাটিই সর্বপ্রথম বলতেন।

* যখন পথ চলতেন, পরিচিত-অপরিচিত সকলকেই সালাম দিতেন।

* ছোট্ট শিশু-কিশোরের সাথে দেখা হলেই বলতেন, “চাচা কেমন আছো? কী খবর ইত্যাদি।”

* পারিবারিক, সাংগঠনিক, সামাজিক জীবনের কঠিন কঠিন মুহূর্তেও তিনি থাকতেন ধীরস্থির এবং শান্ত। কখনো কোনো অবস্থায় তাকে বিচলিত বা অস্থির হতে দেখিনি। সবসময় তিনি একটি কথা বলতেন, ‘সবর করেন’ আল্লাহ সহায়।

* তিনি অবসর পেলেই কুরআন, হাদিস, ইসলামী বই-পুস্তক ও পত্র-পত্রিকা পড়তেন। কোথাও কোনো বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা লেখা তার চোখে পড়লেই তা তিনি ফটোকপি করে বিলি করতেন। অন্যদেরকেও তা বিলি করতে দিতেন।

* অফিসের কোনো যানবাহন ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কাজে ব্যবহার করলে তিনি স্বয়ং নিজে হিসাব-নিকাশ করে তার খরচ পরিশোধ করে দিতেন। অফিসের বিল দেওয়ার অপেক্ষায় বসে থাকতেন না।

* ধর্ম-দল-মত নির্বিশেষে প্রায় সকলের কাছেই তিনি একজন সৎ, নম্র, ভদ্র এবং ভালো মনের মানুষ বলে পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যুর পর সকল শ্রেণির মানুষের শোক প্রকাশের মধ্য দিয়ে এটা আরো প্রকাশিত হয়ে উঠেছে।

* আমি দীর্ঘ ৫-৭ বছর থেকে অসুস্থ। তিনি প্রায়ই আমার খোঁজখবর নিতেন। যাকে কাছে পেতেন তাকেই আমার স্বাস্থ্যের কথা জিজ্ঞাসা করতেন। আইসিইউতে স্থানান্তরিত হওয়ার আগেও তিনি আমার খোঁজ নিয়েছেন। উল্লেখ্য, আমিও তার খবর এবং দোয়া নিতাম।

* আমি সাপ্তাহিক সোনার বাংলাসহ পত্র-পত্রিকায় একটু-আধটু লেখালেখি করতাম। তিনি নিয়মিত তা পাঠ করতেন এবং যারা কাছে থাকতেন, তাদের এ সম্পর্কে বলতেন।

সর্বোপরি তার জীবনের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সাংগঠনিক সমস্ত কার্যাবলীই ছিল এক ‘নিয়মের ছকে বাঁধা’। সুশৃঙ্খল নিয়মানুবর্তিতার মধ্য দিয়েই তিনি তার সমগ্র জীবনটা অতিবাহিত করেছেন।

কঠিন মুহূর্তে ভারপ্রাপ্ত আমীর, পরবর্তীতে নির্বাচিত আমীর হিসেবে অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে শান্ত, ধীরস্থিরভাবে সাবলীল গতিতে দায়িত্ব পালন করে গেছেন।

“বাসের ভেতরে সিট না পেয়েও যিনি বাসের ছাদে বসে সাংগঠনিক সফরে গিয়েছেন, সাংগঠনিক কাজ ও ব্যক্তিগত কাজÑ এ দুটি যিনি চুলচেরা হিসাব-নিকাশ করে প্রতিটি পা ফেলতেন, সৎকর্ম সম্পাদন করাই ছিল যার জীবনের মূল লক্ষ্য, মুখে যা বলতেন, বাস্তবেও তাই করার চেষ্টা করতেন, প্রতিটি কথা ও কাজে যার মিল খুঁজে পাওয়া যায়, যার জীবনের লক্ষ্যই ছিল মানুষের কাছে আল্লাহর দীনের দাওয়াত পৌঁছানো, একবার পরিচয় হলে যার নাম তিনি নোট করে রাখতেন, ১০-২০ বছর পরে হলেও তাকে খুঁজে বের করতেন, ডায়েরিতে লিখে রাখতেন দাওয়াত পৌঁছানোর ছোট-বড় অনেকেরই তালিকা, দিল ছিল যার স্বচ্ছ-সুন্দর, যার সারাটি জীবন ছিল এক সুন্দর নিয়মের ছকে বাঁধা, যিনি প্রতিনিয়ত আল্লাহর তায়ালার এ বাণীÑ‘লীমা তাকুলুনা মা লা-তাফ আলুন’, “এমন কথা কেন বল, যা তোমরা কার্যত করো না।”-সূরা সফ : ২। মনে জাগরূক রেখে এবং তার শিক্ষা অণুসরণ করে বাস্তব জীবনে সকল কাজ করার চেষ্টা করেছেনÑ তিনি হলেন সাবেক আমীরে জামায়াত শ্রদ্ধেয় জনাব মকবুল আহমাদ।

ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলাধীন ওমরাবাদ গ্রামে ১৯৩৯ সালের ২ আগস্ট এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। পূর্বচন্দ্রপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু হয়। প্রাথমিক শিক্ষা শেষে দাগনভূঞার কামাল আতাতুর্ক হাইস্কুলে ভর্তি হন। অতঃপর তিনি ফেনী পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হন এবং ১৯৫৭ সালে কৃতিত্বের সাথে জায়লস্কর হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। তিনি ১৯৫৯ সালে ফেনী কলেজ থেকে ইন্টারমেডিয়েট পাস করেন এবং ১৯৬২ সালে বি.এ. পাস করেন।

জনাব মকবুল আহমাদ বি.এ. পাস করার পর সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। এক বছর পর সরকারি চাকরি ছেড়ে তিনি শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করেন এবং ১৯৭০ সাল পর্যন্ত সরিষাদী উচ্চবিদ্যালয় ও ফেনী সেন্ট্রাল হাইস্কুলে শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। ১৯৭০ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ফেনী মহকুমাধীন “দৈনিক সংগ্রাম” পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সত্তর দশকের দিকে “বাংলাদেশের ব্লাকগোল্ড” শিরোনামে বাংলাদেশের কক্সবাজারের চিংড়ি মাছের উৎপাদনের ওপর তার লেখা একটি প্রতিবেদন ব্যবসায়ী জগতে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে। বিষয় ছিল “বাংলাদেশের ব্লাকগোল্ড” (চিংড়ি সম্পদ) সৌদি আরবের ‘তরল সোনাকে (পেট্রোল)’ হার মানাবে।

ছাত্রজীবন থেকেই মকবুল আহমাদ ইসলামী আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। ছাত্রজীবন শেষ করেই ১৯৬২ সালে তিনি তদানীন্তন জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন এবং ১৯৬৬ সালে রুকনিয়াতের শপথ গ্রহণ করেন। ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত তিনি ফেনী শহর আমীরের দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৬৮ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত মহকুমা আমীরের দায়িত্ব পালন করেন। ’৭০ সালের শেষদিকে তিনি বৃহত্তর নোয়াখালী জেলা আমীরের দায়িত্ব পালন করেন।

ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সমাজকল্যাণমূলক কাজের সাথে জড়িত ছিলেন। তার জীবনের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হলো মানুষের সেবা করা। ১৯৬২ সালে যুবকদের সহযোগিতায় ওমরাবাদে নিজ গ্রামে “ওমরাবাদ পল্লীমঙ্গল সমিতি” নামের একটি সমিতি গঠন করেন। তিনি উক্ত সমিতির ১০ (দশ) বছর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। সমিতির সভাপতি হিসেবে তিনি অনেক স্থানীয় রাস্তাঘাট নির্মাণ ও মেরামতের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং গরিব ও অসহায় লোকদের সাহায্য-সহযোগিতা প্রদান করেন।

১৯৭৬ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যস্ত তিনি গজারিয়া হাফেজিয়া মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ফালাহ-ই-আম ট্রাস্ট, ঢাকা; সিলোনীয়া আঞ্জুমানে ফালাহীল মুসলেমীন ট্রাস্ট এবং ফেনী ইসলামিক সোসাইটি, দাগনভূঞা সিরাজুম মুনীরা সোসাইটির চেয়ারম্যান ছিলেন। এছাড়া দুই বছর দৈনিক সংগ্রামের চেয়ারম্যান ছিলেন এবং দৈনিক সংগ্রাম ট্রাস্টি বোর্ডেরও একজন ডাইরেক্টর ছিলেন। ফেনী ইসলামিক সোসাইটি কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ঐতহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান “ফেনী শাহিন একাডেমীর” সভাপতি ছিলেন তিনি।

সুপরিচ্ছন্ন জীবনের অধিকারী জনাব মকবুল আহমাদ সহজ ও সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন। এ নশ্বর দুনিয়ায় তিনি আল্লাহর একজন খাঁটি দাস হিসেবে বসবাস করতে সদা সচেষ্ট ছিলেন। আখিরাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি কীভাবে অর্জন করা যায়Ñ এটাই ছিল তার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। নিঃসন্দেহে বর্তমান এবং অনাগতদের জন্য তিনি আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার এক অনুপ্রেরণার উৎস।

তিনি ২ বার হজ¦ পালন করেন। তিনি জাপান ও কুয়েত সফর করেন। সাপ্তাহিক সোনার বাংলায় “জাপান সফর-দেখার অনেক, শেখার অনেক” এ বিষয়ে সফর অভিজ্ঞতা নিয়ে তার লেখা একটি সুন্দর পুস্তিকা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া “ইসলামী আন্দোলনের পথে আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার উপযুক্ত হওয়াই আমাদের কাজ” নামে একটি অত্যন্ত মূল্যবানপুস্তিকা লিখে গেছেন, যা আমাদের পড়া এবং অনুসরণ করা উচিত।

 

শ্রদ্ধেয় নেতা, ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম স্তম্ভ, বহুমুখী গুণে গুণান্বিত ব্যক্তিটি আমাদের কাঁদিয়ে গত ১৩ এপ্রিল, ২০২১ মহান সৃষ্টিকর্তা, বিশ্বজাহানের মালিক ও প্রভু আল্লাহ তায়ালার সান্নিধ্যে চলে গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। হে আল্লাহ! আপনার এই মুমিন বান্দার জীবনের গুনাহগুলো মাফ করে দিন। যাবতীয় নেক আমলগুলো কবুল করুন। তার জীবনের সমস্ত সৎকর্ম ও সেবামূলক কাজগুলো সাদকায়ে জারিয়া হিসেবে কবুল করে নিন। তার কবরকে জান্নাতের নূর দিয়ে ভরে দিন। তাকে নাজাত দান করুন। ইয়া আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাকে জান্নাতুল ফিরদাউসের উচ্চ আসনে স্থান দান করুন। আমাকে এবং আমাদেরকে জান্নাতে তার সাথী বানিয়ে দেবেনÑ আমাদের প্রার্থনা কবুল ও মঞ্জুর করুন। আমিন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ