সোমবার ২৯ নবেম্বর ২০২১
Online Edition

হেলেনা-পরীমনিসহ সাতজনের মামলা তদন্তের দায়িত্ব চেয়ে র‌্যাবের চিঠি

স্টাফ রিপোর্টার : আওয়ামী লীগের উপকমিটি থেকে বহিষ্কারের পর র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার হেলেনা জাহাঙ্গীর, মডেলদের দিয়ে অনৈতিক কাজের প্রধান সমন্বয়ক শরফুল হাসান ওরফে মিশু হাসান, তার সহযোগী মাসুদুল ইসলাম জিসান, চিত্রনায়িকা পরীমনি, প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজসহ সাতজনের মামলার তদন্তের অনুমতি চেয়ে পুলিশ সদরদপ্তরে আবেদন করেছে এলিট ফোর্স র‌্যাব। এই সাতজনের বিরুদ্ধে র‌্যাব বাদী হয়ে ১০টি মামলা করেছে। সেই মামলার তদন্তের দায়িত্ব চেয়ে পুলিশ সদরদপ্তরে চিঠি দিয়েছে বাহিনীটি। পুলিশ সদরদপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি গেলে মামলা তদন্তের অনুমতি দেবে মন্ত্রণালয়। গতকাল সোমবার র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
খন্দকার আল মঈন বলেন, সম্প্রতি আওয়ামী লীগের উপকমিটি থেকে বহিষ্কারের পর র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার হেলেনা জাহাঙ্গীর, শরফুল হাসান ওরফে মিশু হাসান, মাসুদুল ইসলাম জিসান, চিত্রনায়িকা পরীমনি, ম্যানেজার সবুজসহ গ্রেপ্তার প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজ, পরীমনির কথিত মামা ও সহযোগী আশরাফুল ইসলাম দীপুর বিরুদ্ধে দায়ের করা ১০ মামলার তদন্ত দায়িত্বভার চেয়ে পুলিশ সদরদপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পেলে র‌্যাব এসব মামলার তদন্ত করবে।
গত ২৯ জুলাই আওয়ামী লীগের উপকমিটির সদস্যপদ হারানো এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক হেলেনা জাহাঙ্গীরের রাজধানীর গুলশানের বাসায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করে র‌্যাব। এসব মাদকের মধ্যে রয়েছে ১৭ বোতল বিদেশি মদ, বিপুল ইয়াবা, হরিণের চামড়া, ক্যাসিনো সরঞ্জাম, ওয়াকিটকি। এছাড়া মিরপুরে হেলেনার জয়যাত্রা টেলিভিশনে অভিযান চালানো হয়। পরে হেলেনার বিরুদ্ধে র‌্যাব বাদী হয়ে তিনটি মামলা করে। এদিকে ৩ আগস্ট রাতে রাজধানীর বারিধারায় অভিযান চালিয়ে মডেল পিয়াসা ও তার সহযোগী মৌ আক্তারের প্রধান সমন্বয়ক মিশু ও তার সহযোগী জিসানকে অস্ত্র, ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে র‌্যাব বাদী হয়ে মোট চারটি মামলা করে। পরদিন রাজধানীর বনানীতে অভিযান চালিয়ে চলচ্চিত্র নায়িকা পরীমনি ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে মদ, ভয়ংকর মাদক এলএসডি ও আইস উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় র‌্যাব বাদী হয়ে বনানী থানায় একটি মামলা করে। একই দিন বনানীতে অভিযান চালিয়ে বিদেশি মদ, বিকৃত যৌনাচার সরঞ্জামসহ প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজ ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাজের বিরুদ্ধেও দুটি মামলা করেছে র‌্যাব।
কারো তালিকা হচ্ছে না: এদিকে  চিত্রনায়িকা পরীমনি, ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা ও মরিয়ম আক্তার মৌর বাসায় যাতায়াত ছিল এমন ব্যবসায়ী বা ব্যক্তিদের কোনো তালিকা করা হচ্ছে না। ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার (ডিএমপি) শফিকুল ইসলাম এ কথা জানিয়েছেন। গতকাল সোমবার দুপুরে ডিএমপি কমিশনার তার কার্যালয়ে একাধিক দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) কৃষ্ণপদ রায় ও ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার ফারুক হোসেন।
ডিএমপির কমিশনার বলেন, পরীমনি, ফারিয়া মাহবুব ও মরিয়মের সঙ্গে বিভিন্ন ব্যক্তির ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে একটি গ্রুপ চাঁদাবাজি করছে বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তাদের কবল থেকে রক্ষা পেতে দুই-তিন জন ব্যবসায়ী ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ভুক্তভোগীরা এসব চাঁদাবাজদের বিষয়ে তথ্য দিলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। তিনি চাঁদাবাজদের কল রেকর্ড করতে ভুক্তভোগীদের পরামর্শ দেন। এসব কল রেকর্ড পরে পুলিশের কাছে জমা দিতে বলেন। পাশাপাশি এই চাঁদাবাজদের বিষয়ে স্থানীয় থানা বা ডিএমপিকে তথ্য জানাতে অনুরোধ করেন। ঢাকার পুলিশ প্রধান বলেন, এখন পর্যন্ত তিনজন ব্যবসায়ী এমন চাঁদাবাজদের হাত থেকে রক্ষা পেতে ডিএমপির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। লোকলজ্জার ভয়ে গুলশানের আতঙ্কিত একজন ব্যবসায়ী ডিএমপির কমিশনারের সহযোগিতা কামনা করেছেন। ডিএমপি কমিশনার বলেন, কারও সঙ্গে সম্পর্ক থাকা তো বে আইনি নয়। যতক্ষণ না পর্যন্ত এ বিষয়ে মামলা না হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ