বুধবার ২৭ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

আফগানিস্তান নিয়ে চীনের আগ্রহ ইতিবাচক : যুক্তরাষ্ট্র

২৯ জুলাই, বিবিসি : মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন বলেছেন, আফগানিস্তানে চীনের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ একটি ইতিবাচক বিষয় হতে পারে। তিনি বলেন, এটা হতে পারে যদি চীন আফগানিস্তানে চলমান সহিংসতার শান্তিপূর্ণ সমাধান আর সত্যিকার একটি প্রতিনিধিত্বশীল ও অংশগ্রহণমূলক সরকারের বিষয়ে আগ্রহী হয়ে থাকে। তালেবান প্রতিনিধিদের চীন সফরের পর এমন মন্তব্য করলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

ভারত সফরের সময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তালেবান নেতাদের চীন সফর নিয়ে জানতে চাওয়া হয়। জবাবে অ্যান্টনি ব্লিনকেন বলেন, ‘তালেবানের সামরিক দখলদারিত্ব, ইসলামিক আমিরাত পুনর্বহালে কারোরই কোনও স্বার্থ নেই।’ তিনি তালেবানদের শান্তিপূর্ণভাবে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানান।

যুক্তরাষ্ট্র সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর আফগানিস্তানের নিরাপত্তা ক্রমেই ভেঙে পড়ছে। চীন সীমান্তবর্তী আফগানিস্তানের বিস্তৃত এলাকা নতুন করে দখল করে নিতে শুরু করেছে তালেবান। কাতারে চলমান শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি না হলেও আফগানিস্তানের নতুন নতুন জেলা আর সীমান্ত ক্রসিং দখলে নিচ্ছে তালেবান।

বলপূর্বক কাবুল দখল করলে তালেবান স্বীকৃতি পাবে না

আফগানিস্তানে তালেবান যদি জোর করে ক্ষমতা দখল করতে চায় তাহলে তারা কখনোই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাবে না। গত বুধবার দিল্লিতে এমন মন্তব্য করেছেন ভারত সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে সঙ্গে নিয়ে এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে এ নিয়ে কথা বলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। দুই মন্ত্রী জানান, তালেবান ও আফগান সরকারের মধ্যে শান্তি আলোচনার মধ্যে সমাধান খোঁজাই সংকট উত্তরণের একমাত্র পথ বলে দুই দেশ বিশ্বাস করে।

পরে বিকালে দুই দেশের যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে আফগানিস্তান ইস্যুতে কথা বলেন ব্লিঙ্কেন। তিনি বলেন, ‘এটা ঠিক যে গত সপ্তাহে আমরা বেশ কয়েকটি জেলা সদরে তালেবানের অগ্রযাত্রা দেখেছি। প্রাদেশিক কয়েকটি রাজধানীও তারা কব্জা করতে চাইছে। যেসব এলাকা তারা দখল করেছে সেখানে নির্যাতন চালানোরও খবর আসছে। এগুলো সত্যিই বিচলিত করার মতো। পাশাপাশি আমি এটাও বলবো, তালেবান কিন্তু বহুদিন ধরেই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চাইছে। চাইছে তাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হোক এবং তাদের নেতারা যাতে দুনিয়াজুড়ে অবাধে ঘুরে বেড়াতে পারে। কিন্তু আফগানিস্তানে জোরপূর্বক ক্ষমতা দখল করতে গেলে বা নিজ দেশের মানুষের ওপর নির্যাতন করে সে লক্ষ্য পূরণ হবে না।’

আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার শুরু হলেও দেশটিতে শক্তিশালী একটি দূতাবাস ও নানা উন্নয়নমূলক ও অর্থনৈতিক কর্মকা-ের মধ্য দিয়ে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো প্রভাব ও উপস্থিতি থাকবে বলেও দাবি করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে তার ভারতীয় কাউন্টারপার্টের কথা থেকে স্পষ্ট, আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে ভারত হতাশ। কিন্তু এখন তারা সেই বাস্তবতা মেনে নিয়েই শান্তিপূর্ণ আলোচনার ওপর জোর দিতে চাইছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ