ঢাকা, মঙ্গলবার 28 September 2021, ১৩ আশ্বিন ১৪২৮, ২০ সফর ১৪৪৩ হিজরী
Online Edition

৪ দিনে হাজার মৃত্যু, সাড়ে তিন মাসে ১০ হাজার

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে বাংলাদেশে প্রথম ১০ হাজার মৃত্যুতে সময় লেগেছিল তের মাস। সেই সংখ্যা ২০ হাজারে পৌঁছে দিতে লাগলো সাড়ে তিন মাসেরও কম সময়। এর মধ্যে শেষ এক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে মাত্র চার দিনের মধ্যে। এ বছরের প্রায় আট মাসেই প্রায় ১৩ হাজার মানুষের মৃত্যু দেখতে হল বাংলাদেশকে।

করোনাভাইরাসের অতি সংক্রামক ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের বিস্তার বাংলাদেশকে কতটা নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে নিয়ে গেছে তার একটি ধারণা দেয় এই সংখ্যাগুলো।

সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে দেশে মৃত্যুর সংখ্যা যেদিন ১০ হাজারের ঘর স্পর্শ করল, সেদিন শনাক্ত রোগীদের মধ্যে মৃত্যুর হার ছিল ১ দশমিক ৪৩ শতাংশে।

আর বুধবার, ২৮ জুলাই যখন মৃত্যুর মোট সংখ্যা ২০ হাজারের দুঃখজনক মাইলফলক ছাড়াল, শনাক্ত রোগীদের মধ্যে মৃত্যুর হার বেড়ে হয়েছে ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

যেদিন বাংলাদেশে কোভিডে মৃত্যুর সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়াল, তার আগের দিন ১৪ এপ্রিল শনাক্ত রোগীর মোট সংখ্যা ৭ লাখে পৌঁছায়। বুধবার তা ১২ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। অর্থাৎ, গত সাড়ে তিন মাসে পাঁচ লাখের বেশি মানুষের সংক্রমিত হওয়ার খবর সরকারের খাতায় এসেছে। 

গ্রামেগঞ্জে করোনাভাইরাস পরীক্ষার ব্যবস্থা এখনও সহজলভ্য না হওয়ায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর অনেক তথ্যই হিসাবের বাইরে থেকে যাচ্ছে বলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

সরকার কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করার পর এপ্রিলের সংক্রমণের ঢেউ অনেকটা নেমে এসেছিল মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে। কিন্তু করোনাভাইরাসের ডেল্টা ধরনের বিস্তার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জুনের শুরু থেকে দেশে সংক্রমণ আর মৃত্যু ফের হু হু করে বাড়তে থাকে।

গতবছর এবং এ বছরের শুরুতে ভাইরাসের প্রকোপ ঢাকা ও আশপাশের জেলাগুলোতেই বেশি ছিল। কিন্তু জুনের পর রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে সংক্রমণ মারাত্মক আকার পায়। ধীরে ধরে সেই বিস্তার এগোতে থাকে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে। এক পর্যায়ে সারা দেশেই পরিস্থিতির অবনতি হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এখন সারা দেশে যত রোগী হাসপাতালে যাচ্ছে, তার বেশিরভাগই গ্রামগঞ্জের। আর সময়মত চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুও বেশি হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শনাক্ত অনুযায়ী মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৬৫ আপাতদৃষ্টিতে একটু বেশি বলা যায়। ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টও মৃত্যুর হার বাড়ার কারণ হতে পারে। বিষয়টিকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কিন্তু এটা এখনও বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত না। বিশ্বের কোথাও এটা বলা হয়নি।”

তিনি বলেন, ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের কারণে সংক্রমণের হার বেশি হচ্ছে, অপেক্ষাকৃত কম বয়সীরাও বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। টিকা দেওয়ার পরও অনেকে আক্রান্ত হচ্ছে।

বুধবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে রেকর্ড ১৬ হাজার ২৩০ জনের মধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়েছে, মৃত্যু হয়েছে ২৩৭ জনের। আগের দিন মঙ্গলবার এক দিনে রেকর্ড ২৫৮ জনের মৃত্যুর খবর আসে।

দেশে এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ১০ হাজার ৯৮২ জনে। আর আক্রান্তদের মধ্যে মোট ২০ হাজার ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ঢাকা ও চট্টগ্রামে কোভিডে মৃত্যুর মোট সংখ্যা দেশের অন্য সব জেলার চেয়ে অনেক বেশি হলেও শনাক্ত রোগীর তুলনায় মৃত্যু হার দেশের গড় হারের চেয়েও কম।

রাজধানীসহ ঢাকায় জেলায় এ পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছে দেশের সর্বোচ্চ ৬ লাখ ১৫ হাজার ৭৯০ জন কোভিড রোগী। তাদের মধ্যে ৬ হাজার ৩২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা সারা দেশে সর্বোচ্চ। শনাক্ত রোগীদের মধ্যে মৃত্যুর হার ১ দশমিক ০২ শতাংশ।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা চট্টগ্রাম জেলায় এ পর্যন্ত ৭৮ হাজার ২৬৪ জন কোভিড রোগী শনাক্ত হয়েছে, মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৫৩ জনের। তাতে মৃত্যুহার হচ্ছে ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি চাঁদপুরে, ৪ দশমিক ৫২ শতাংশ। চট্টগ্রাম বিভাগের এই জেলা ছাড়া সারা দেশে খুলনা বিভাগের দুই জেলায় মৃত্যুহার চার শতাংশের বেশি। এর মধ্যে মেহেরপুরে এই হার ৪ দশমিক ৪ শতাংশ, আর কুষ্টিয়ায় ৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ। 

এছাড়া কুমিল্লায় মৃত্যুর হার ৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ, মুন্সিগঞ্জের  ৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ, ঝিনাইদহে ৩ দশমিক ৫১ শতাংশ আর চুয়াডাঙ্গায় ৩ দশমিক ৪৮ শতাংশ। -বিডি নিউজ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ