বুধবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

চট্টগ্রামে সারাদিন থেমে থেমে মুষলধারে বৃষ্টি ॥ বিভিন্ন এলাকায় পানিবদ্ধতা

চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রামে গতকাল বুধবার সারাদিন থেমে থেমে মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। এতে চট্টগ্রামে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় পানিবদ্ধতার সৃস্টি হয়। বিকালে প্রবল বৃষ্টিপাতে নগরীর হালিশহর, আগ্রাবাদ এক্সসেস রোড, রামপুর, সরাইপাড়া, মুরাদপুর, দুই নম্বর গেইট, অক্সিজেন মোড়, প্রবর্তক মোড়, চান্দগাঁও, মোগলটুলি, আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা, পশ্চিম মাদারবাড়ী, ডিটিরোড, দেওয়ানহাট, আসকারাবাদ, মনসুরাবাদ, পাহাড়তলী, রেয়াজউদ্দিনবাজার, এনায়েতবাজার, নন্দনকানন, হেমসেনলেন, চকবাজার, কাতালগন্জ, কাপাসগোলা, বাদুরতলা, বহদ্দারহাট, চাক্তাই,মোহরা, বাকলিয়া, গোসাইলডাঙা, ফিরিংগীবাজার, পাথরঘাটা, এয়াকুবনগর, মেরিনার্স রোড, কোরবানীগন্জ, বলুয়ারদিঘীরপাড়, মিঞাখাননগর, দেওয়ানবাজার, কালামিঞা বাজার, ডিসি রোডসহ অধিকাংশ এলাকায় পানিবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এসব এলাকায় সড়কে হাঁটু থেকে কোমর পরিমাণ পানি জমায় বেড়ে যায় নাগরিক ভোগান্তি। বিভিন্ন বাসাবাড়ী,দোকানে পানি ঢুকে পড়ে।এতে মালামাল ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
এদিকে তিন দিন ধরে টানা বৃষ্টিপাতে ভূমিধসের আশঙ্কায় চট্টগ্রাম নগরীর কয়েকটি পাহাড় থেকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত ৯২টি পরিবারকে সরিয়ে নিয়েছে জেলাপ্রশাসন। এ সময় ২০টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত জেলাপ্রশাসনের টিম নগরীর পাহাড়ে অভিযান চালায়। চট্টগ্রামের একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবং ছয় জন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ অভিযানে ছিলেন।
 জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক বলেন, ‘ছয়টি পাহাড় থেকে ৯২ পরিবারের ৩১০ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের চারটি আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। অভিযান এখনও চলমান আছে। আমরা বিভিন্ন পাহাড় পরিদর্শন করে দেখছি, কারা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করছেন। সবাইকে আমরা সরিয়ে নেব।’
এদিকে  গত এক সপ্তাহ ধরে চট্টগ্রামসহ আশপাশের এলাকায় থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তবে চট্টগ্রামে গত তিনদিন ধরে কখনও হালকা থেকে মাঝারি, আবার গত মঙ্গলবার রাতে ভারি বৃষ্টিপাত হয়।এ অবস্থায় ভূমিধসে হতাহতের আশঙ্কায় নগরীর বাটালি হিল, মতিঝর্ণা, আকবরশাহ, হিল-১, হিল-২ এবং বায়েজিদ লিংক রোড সংলগ্ন পাহাড়ে অভিযান চালায় জেলা প্রশাসনের টিম। সেখান থেকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত ৩১০ জনকে সরিয়ে চারটি আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়। আশ্রয় কেন্দ্রগুলো হচ্ছে- বায়েজিদের আল হেরা মাদরাসা, রউফাবাদ রশিদিয়া মাদ্রাসা, ফিরোজ শাহ কলোনিপ্রাথমিক বিদ্যাল এবং লালখান বাজারপ্রাথমিক বিদ্যালয়।
 চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান জানিয়েছেন, আশ্রয়কেন্দ্রে আনা পরিবারগুলোকে খাদ্য সহায়তা ওপ্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বুধবার দুপুরে তাদের ভুনাখিচুড়ি ও ডিম সরবরাহ করা হবে। রাতের খাবারও দেওয়া হবে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরতদের পাহাড় থেকে সরে যেতে এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে বলে জেলাপ্রশাসক জানিয়েছেন।
এদিকে আবহাওয়া অধিদফতরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকায় লঘুচাপের প্রভাবে বৃষ্টি হচ্ছে। শুক্রবার থেকে বৃষ্টি কমতে পারে। বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত লঘুচাপটি দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সুস্পষ্ট লঘুচাপে রূপ নিয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি (৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতি ভারি (৮৯ মিলিমিটারের বেশি) বর্ষণ হতে পারে।   পতেংগা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ উজ্জল কান্তি পাল  বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের শঙ্কা রয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়ার শঙ্কা থাকায় সমুদ্র বন্দরগুলোতে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে। সাগরে থাকা সব নৌযানকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ