শনিবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

আল্লাহ মেঘ দে-পানি দে... এই সুর এখন দিনাজপুরের চাষিদের মুখে মুখে

দিনাজপুর : বিরল উপজেলার ৬ নং ভান্ডারা ইউনিয়নের দক্ষিণ রঘুনাথপুর গ্রামে কৃষকরা এভাবে শ্যালো মেশিন দিয়ে আমন জমিতে সেচ দিচ্ছেন। ইনসেটে ফেটে যাওয়া জমি

মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, দিনাজপুরঃ আল্লাহ মেঘ দে-পানি দে... এই সুরই এখন দিনাজপুরসহ এ অঞ্চলের চাষীদের মুখে মুখে। কারণ তীব্র খরার কারণে তারা চলতি আমন মৌসুমে রোপা আমন বোপন করতে পারছে না। তীব্র খরা পরিস্থিতিতে বৃষ্টি না হওয়ায় ধানের জমি শুকিয়ে মাটি ফেটে যাচ্ছে। বৃষ্টির পানি নির্ভর একমাত্র ফসল রোপা আমন বোপন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় দুঃচিন্তায় পড়ে গেছে এ অঞ্চলের কৃষককুল। দিশেহারা কৃষকেরা সেচ দিয়েও কুল পাচ্ছেন না। কারণ সেচ দিলেও পানি থাকছে না বেশিক্ষণ। তীব্র দাবদাহে মুহূর্তেই তা শুকিয়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় মুসলিম কৃষকরা যেমন আল্লাহপাকের দরবারে দোয়া-প্রার্থনা করছেন, তেমনি হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা তাদের ধর্ম বিশ্বাস মতে বৃষ্টির জন্য ব্যঙের বিয়ে দিচ্ছেন। চলতি মৌসুমে দিনাজপুর জেলায় ২ লাখ ৬০ হাজার ২৬৩ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষমাত্রার বিপরীতে এ পর্যন্ত রোপন করা হয়েছে মাত্র ৬০ হাজার হেক্টর জমি। পানির অভাবে কৃষকের আমন চারা লালচে বিবর্ণ হয়ে গেছে।
বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা জানায়, গত বছর এই সময়ে বৃষ্টির কারণে জমিতে হাঁটুপানি জমে থাকায় আমনের চারা রোপণ করা যাচ্ছিল না, আর এবার জমিতে সেচ দিয়েও পানি ধরে রাখা যাচ্ছে না। এবার অনেক কৃষক সেচ দিয়ে আমন আবাদের চেষ্টা চালালেও তাতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকেরা। কেননা, ৩-৪ দিন পরপর সেচ দিলেও প্রখর রোদের কারণে পানি নিমিষেই শুকিয়ে মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। গত বছরের বর্ষার মতো পানি জমবে, এই ভরসায় কৃষকেরা প্রস্তুতি নিলেও এ বছর ঠিকমতো বৃষ্টি না হওয়ায় তারা পড়েছেন মহাবিপাকে। পানির অভাবে আমনের চারা নষ্ট হচ্ছে। আবার সেচ দিতেও অনেকে বেশি খরচ হচ্ছে। অনেকে পানির অভাবে জমিতে আমন রোপণ করতে পারেনি। দিনাজপুরের বিরল উপজেলার কৃষক একরামুল হক জানান, আমার জমিতে আমি স্বর্ণা জাতের ধানের রোপণ করেছি। প্রয়োজনীয় সবকিছু করে এক দফা সার-কীটনাশকও দিয়েছি। চারা তরতর করে বেড়েও উঠছিল। কিন্তু বৃষ্টি না হওয়ায় চারার বেড়ে ওঠা আটকে গেছে। শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি দিলেও তা শুকিয়ে যাচ্ছে। ৩-৪ দিন পরপর পানি দিয়েও মাটি ভিজিয়ে রাখা যাচ্ছে না। এছাড়াও দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক কৃষক আমনের চারা রোপণ শুরু করলেও অনেক কৃষক আবার বৃষ্টির জন্য এখন শুরুই করতে পারেনি। পানির অভাবে ইতোমধ্যে অনেক কৃষকের চারা লালচে ও বিবর্ণ হয়ে গেছে।
দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র সহকারী তোফাজ্জুর রহমান জানান, গত বছর ২৫ জুলাই পর্যন্ত দিনাজপুরে ৫৬৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এবার ২৫ জুলাই পর্যন্ত জেলায় বৃষ্টিপাত হয়েছে মাত্র ১৩৬ মিলিমিটার, যা গত বছরের চেয়ে ৪৩২ মিলিমিটার কম। এ বৃষ্টি রোপা আমন চাষের জন্য খুবই সামান্য। তিনি আরও জানান, আগস্টে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হতে পারে। বিডাব্লিউওটি’র গবেষক পারভেজ আহমেদ পলাশ বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার ৭ ভাগের ১ ভাগ বৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান সময়ে এ অঞ্চলে কমপক্ষে ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টির প্রয়োজন। আশার কথা যে, আগামী ২৯, ৩০ ও ৩১ জুলাই থেকে গড়ে ৭০-১০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে। এতে কৃষকের সম্পূর্ণ পানির চাহিদা না মিটলেও কিছুটা পূরণ হবে। দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক প্রদীপ কুমার গুহ জানান, জেলার খানসামা, চিরিরবন্দর, বীরগঞ্জ, কাহারোল, বিরল ও বোচাগঞ্জে কিছুটা সমস্যা হলেও অন্যান্য উপজেলায় সমস্যা নেই। চলতি রোপা আমন মৌসুমে দিনাজপুরে ২ লাখ ৬০ হাজার ২৬৩ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৬০ হাজার হেক্টর জমিতে রোপণ হয়েছে। পুরো মৌসুমে কাঙ্খিত লক্ষমাত্রা অর্জিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ