বৃহস্পতিবার ০২ ডিসেম্বর ২০২১
Online Edition

শখের বশেই বাড়ির ছাদে বাগান

নিজের বাড়ির ছাদে বাগান পরিচর্যা করছেন কামরুল ইসলাম

নুর ইসলাম, তালা (সাতক্ষীরা) : বিচিত্র পৃথিবীর, বিচিত্র মানুষের, বিচিত্র শখ । এই শখের বশেই কেউ মাছ স্বীকার করেন কেউবা ভ্রমণ করেন। চলার পথে মনকে সতেজ রাখতে, জীবনের আনন্দ উপভোগ করতেই চলার পথে শখের বশবর্তী হয়ে আমরা নানা উদ্যোগ গ্রহণ করি।
তেমনি একজন মানুষ সাতক্ষীরার তালা সদরে কামরুল ইসলাম। শখ করেই বাড়ির ছাদে শুরু করেছিলেন গাছ লাগানো। একটি, দুটি করে গাছ লাগাতে লাগাতে হয়ে গেছে বিশাল এক উদ্যান। তার ছাদে উঠলে মনে হয় সবুজের সমারোহের মধ্যে কোন সময়ে যে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছি তা বুঝতেই পারিনি।
সোমবার সকালে সাতক্ষীরা তালা সদরে খাজরা এলাকার এক বাড়ি ছাদবাগানে গিয়ে এই সবুজের সমারোহ দেখা গেছে।
২০১৭ সালের শেষের দিকে কয়েকটি ফুলগাছ থেকে শুরু হয় তার বনায়ন। প্রথম দিকে গাঁদা ফুল, রজনীগন্ধা, চিড়ে গান্ধা, এমন সব ফুল লাগাতে থাকেন। আস্তে আস্তে এর বাইরেও বিভিন্ন জাতের ফুল এনে টবে করে লাগানো শুরু করলেন। ফুল গাছ থেকে একসময় চলে এলেন ফল গাছে। লাগাতে শুরু করলেন আম, জাম, লেবু, মাল্টা, কদবেল, ব্লাকবেরি, সৌদি খেজুরসহ নানা ধরনের দেশী-বিদেশী ফল। ২০০ ফুট স্কয়ারের ছাদে এখন পর্যন্ত তার লাগানো বিভিন্ন গাছের চারা আছে ৪০০ এর অধিক।
তার এক টুকরো সবুজে ঘেরা বাগানে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে ভেষজ উদ্ভিদের গাছ। দৈন্দদিন জীবনে প্রয়োজনীয় অধিকাংশ ওষুধি গুণসম্পন্ন গাছে ভরে তুলেছে ছাদের একাংশ। এলোবেরা, কালমিঘা, তুলসি থেকে শুরু করে বহুজাতের ঔষধি গাছ লাগানো রয়েছে তার ছাদে। পাশে সারি দিয়ে লাগানো কয়েকটি আনারস গাছে হলুদ আনারসে পরিপূর্ণ। ছাদের উপরে বানে দেওয়া আঙ্গুরগুলো থোকায় থোকায় পেকে একেবারে খাওয়ার উপযোগী হয়ে উঠেছে।
গাছের প্রতি ভালোবাসা ও ছাদবাগান সম্পর্কে তালা সদরে খাজরা গ্রামে মৃত মোমিন শেখের ছেলে মো. কামরুল ইসলাম জানান, আমি শখের বশে প্রথমে অল্প কিছু ফুল এবং ফলের চারা এনে আমার ছাদে লাগায়। আস্তে আস্তে তাতে ফুল ও ফল ধরতে থাকে। বর্তমানে আমার ছাদে ৪০০ এর অধিক গাছ ফল, ফুল এবং ভেজষ উদ্ভিদের গাছ রয়েছে। এখান থেকে যে পরিমান ফল বা সবজি পাই তাতে আমার পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে আমার পার্শ্ববর্তী প্রতিবেশীদের দিয়ে থাকি। এখন পর্যন্ত আমার বাগানের কোন ফল বা ফুল বিক্রি করিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন বলেন, বর্তমানে ছাদ বাগান বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ইতোমধ্যে তালা উপজেলায় অনেকগুলো ছাদ বাগান হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি সবুজ বনায়নের জন্য মানুষদের ছাদ বাগান করতে আগ্রহী করে তুলতে। এর জন্য তাদেরকে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ