শনিবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

দিনাজপুরে লকডাউনের মধ্যে ব্যাঙের বিয়ে!

দিনাজপুর অফিস: কঠোর লকডাউনের মধ্যে বিয়ে! অতিথিসহ তিন শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে বিয়ের আয়োজন জাঁকজমকভাবে সম্পন্ন করা হয়। তবে এটি কোনো সাধারণ বিয়ে নয়। একজোড়া ব্যাঙের বিয়ে। বিয়েতে আগত অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয় নিরামিষ খিচুড়ি দিয়ে। ফুল বিনিময় শেষ নবদম্পতিকে বাক্সে নিয়ে নেচে-গেয়ে গ্রাম ঘোরেন অতিথিসহ উৎসুক জনতা।
পুরোহিত ও আয়োজকরা জানান, পুরো আয়োজনই চলে শাস্ত্রমতে। রোববার রাত প্রায় ৯টা। দিনাজপুর শহরের রাজবাড়ী এলাকার হিরা বাগান মন্দিরে ভরপুর অতিথি। কিছুক্ষণ পরই বাক্সে চড়ে হাজির বর-কনে। দুজনের গায়েই মোড়ানো মেরুন ও বেগুনি রঙের কাপড়। ক্ষুদ্রাকার বর-কনেকে দেখতে সকলেই রীতিমতো হুমড়ি খেয়ে পড়েন। অতিথি ছাড়াও মজার এই বিয়ে দেখতে লকডাউনের মধ্যেই মন্দিরে জড়ো হন উৎসুক অসংখ্য গ্রামবাসী। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মতে- বর্ষার আকাশ মেঘে ঢাকতে এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ব্যাঙযুগলের বিয়ে দিয়েছেন। আয়োজকরা জানালেন, বৃষ্টির মৌসুমেও দিনাজপুরে চলছে অনাবৃষ্টি। আমন রোপনের এই সময় বৃষ্টির অভাবে বিপাকে পড়েছেন কৃষক। সনাতম ধর্মের এই অনুসারীদের বিশ্বাস, ব্যাঙের বিয়ে দিলে অনাবৃষ্টি ঘুচবে। বর ব্যাঙের পক্ষে ছিলেন চন্দনা রাণী মহন্ত ও কনে ব্যাঙ পক্ষে ছিলেন চন্দনা রাণী সরকার। আর বিয়ে দেয়ার আচার পালনের নেতৃত্ব দিয়েছেন পুরোহিত তপন কুমার গোস্বামী। তপন কুমার বলেন, ‘বেশ কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি না হওয়ার কারণে এমন আয়োজন। এটা আমাদের লোকাচার। আমরা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি যাতে করে বৃষ্টি হয় এবং করোনার এই গ্রাস থেকে সবাই মুক্ত হই।’ বিয়েতে অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয় নিরামিষ খিচুড়ি দিয়ে। ফুল বিনিময় শেষ নবদম্পতিকে বাক্সে নিয়ে নেচে-গেয়ে ঘোরা হয় পুরো গ্রাম। এই বিয়ে খরচাপাতি দিয়েছেন অতিথিরাই। তারা জানান, বাপ-দাদার আমল থেকে বৃষ্টির জন্য ব্যাঙের বিয়ের প্রচলন আছে এলাকায়। আর সেই লোকাচার মেনেই সবাই মিলে টাকা তুলে এই বিয়ের আয়োজন।
লকডাউনের মধ্যে এমন সমাগম ঠিক হলো কিনা, এমন প্রশ্নে সবাই বললেন, এই মুহূর্তে বৃষ্টি সবচেয়ে জরুরি। ব্যাঙের বিয়েতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও গবেষক ড. মাসুদুল হক। তিনি বলেন, ‘উত্তরবঙ্গের লোকসংস্কৃতির কাজ করতে গিয়ে বইপত্রে এমন আয়োজনের বিষয়ে আমরা জেনেছি। ঐতিহ্যবাহী যে জনমণ্ডল রয়েছে উত্তরবঙ্গে, বিশেষ করে সনাতন ধর্মাবলম্বী ও আদিবাসী সমাজ, তারা আবহাওয়া-প্রতিবেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ থেকে দীর্ঘদিন ধরে এমন ব্যাঙের বিয়ের আয়োজন করে থাকে।’
জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জুর রহমান জানান, গত বছর জানুয়ারি থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত জেলায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় ৫৬৮ মিলিমিটার। এবার ২৫ জুলাই পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে মাত্র ১৩৬ মিলিমিটার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ