বুধবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

দিনাজপুরে চলছে ‘কাগুজে লকডাউন’

দিনাজপুর : সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউনে এভাবেই দিনাজপুর শহরে যানবাহন ও মানুষ চলাচল করছে। ছবিটি গতকাল সোমবার বিকেলে শহরের লিলি মোড় এলাকা থেকে তোলা

দিনাজপুর অফিস : সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউনের ৪র্থ দিনে প্রথম ৩ দিনের চেয়ে রাস্তায় মানুষের উপস্থিতি আরো বেড়েছে। বৈশ্বিক মহামারি করোনা সংক্রমণরোধে ঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধে কিছুতেই মানুষকে ঘরে রাখতে পারছে না দিনাজপুরের প্রশাসন। গণপরিবহন ও দোকানপাট ছাড়া অন্য সবকিছুই প্রায় স্বাভাবিকভাবে চলছে। সকাল থেকে পুলিশ-বিজিবি-সেনাবাহিনী-আনসারসহ প্রশাসনের সদস্যরা শহরের মোড়ে-মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালালেও তাতে শুধু চোর-পুলিশ খেলা ছাড়া আর কিছুই হচ্ছে না। সেনা, বিজিবি কিংবা পুলিশের ভ্যান আসার খবরে মুহূর্তেই সব দোকানপাট বন্ধ করে সটকে পড়ছে মানুষ। আবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চলে যাওয়া মাত্রই যে যার মত অবস্থায় চলতে থাকে। এ যেন ছোটবেলার সেই লুকোচুরি খেলা। সবমিলে দিনাজপুরের চলমান কঠোর লকডাউন এখন ‘কাগুজে লকডাউন’ এ পরিণত হয়েছে।
গতকাল সোমবার দিনাজপুর শহরের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে ওই একই চিত্র। শহরের প্রাণকেন্দ্র বাহাদুর বাজার কিংবা একটু সাইড এলাকা রামনগর বা নিউটাউন বাজার কোথাও এর ব্যতিক্রম পাওয়া যায়নি। প্রতিটি প্রান্তে রাস্তায় মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন অজুহাতে মানুষ বেরিয়ে আসছে রাস্তায়। কেউ কেউ কিছু যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে রাস্তায় বের হলেও অনেকে আবার বিনা কারনে রাস্তায় বের হচ্ছেন। লকডাউনে শহরের পরিস্থিতি কি তা দেখতেও অনেকে বের হচ্ছেন রাস্তায়। এ ছাড়া খাবার সংগ্রহসহ বিভিন্ন যৌক্তিক কারনে রাস্তায় আসা নিম্ন আয়ের মানুষদের ঘরে রাখতে আরো কার্যকর ব্যবস্থা জরুরি ছিল বলে অনেকেই মনে করেন। বিশেষ করে রিক্সাচালক, অটোচালক, ফুটপাতের ব্যবসায়ী, চা-পান দোকানীর মতো নিম্ন আয়ের মানুষের হাহাকারে তাদেরকে বাড়ীতে থাকতে বলাটা অনেকটা উপহাসের মতো হয়ে যাচ্ছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে খাবার সংকট দূরীকরণে ব্যাপক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে মর্মে বার বার প্রচার করা হচ্ছে। সেখানেও রয়েছে গলদ। ত্রাণ বিতরণে দলীয় বিবেচনা ও যথাযথ দুস্থবান্ধব তালিকা প্রণয়ন না করায় সবসময়ের জন্য অনেকে থেকে গেছেন তালিকার বাহিরে।
শহরের লিলি মোড় এলাকার রাস্তার পাশের একজন পান দোকানী আজাদ চোখের পানি ফেলে বলেন, ‘আমি ৪৫ বছর ধরে এখানে পান দোকান করে সংসার চালাই। আমার পরিবারে ৫ জন খানেওয়ালা। দোকান বন্ধ। এখন কিভাবে সংসার চালাবো তা নিয়ে আমি দিশেহারা।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাসায় বসে থাকতে থাকতে আমি অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি। কে খোঁজ নিবে আমার।’ এমন কান্নার আওয়াজ দিনাজপুরে প্রায় সব এলাকায়। মধ্যবিত্তদের অনেকে গুমরে গুমরে কাঁদছে। যার আওয়াজ কেউই শুনতে পাচ্ছে না। দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা না নিলে পরবর্তী পরিস্থিতি কি হবে তা সকলেরই অজানা।
গতকাল সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসক খালেদ মোহাম্মদ জাকী ও পুলিশ সুপার মোঃ আনোয়ার হোসেন বিপিএম পিপিএম (বার) এর নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি টিম শহরে অভিযান চালায়। তারা বহর নিয়ে পুরো শহর প্রদক্ষিণ করে মানুষকে সচেতন করবার চেষ্টাসহ নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীকে জরিমানাও করেন। গত রোববার একদিনে ১৭০ জনের কাছ থেকে ৭৩ হাজার ১৫০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। দিনাজপুর পৌর এলাকা ও ৯টি উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটগণ এসব অর্থদণ্ড প্রদান করেন। এ ছাড়া জেলার ফুলবাড়ী উপজেলায় ২টি মার্কেট সীলগালা করা হয়। এরপরেও মানুষ রাস্তায় নামছে। কোনো উদ্যোগই যেন কাজে আসছে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ