বৃহস্পতিবার ০২ ডিসেম্বর ২০২১
Online Edition

চট্টগ্রামে স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে মানুষ উদাসীন ॥ চলছে অভিযানও

চট্টগ্রাম ব্যুরো : চলমান কঠোর লকডাউনে গতকাল সোমবার চট্টগ্রামে প্রচুর মানুষ বাইরে এসেছে। গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও নগর জুড়ে ছিল রিক্সার রাজত্ব। ট্রাক,পিকআপ চলেছে। বিভিন্ন স্থানে আইনশৃংঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর চেকপোস্ট থাকলেও নানা অজুহাতে শহরে মানুষ আসছে। স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে বেশ উদাসীন সাধারণ মানুষ। তারা করোনার ভয়াবহতা বুঝছে না। বিশেষ করে নিম্নবিওরা।

 এদিকে বিধিনিষেধ অমান্য করায় নগরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ২১৮টি মামলায় ১ লাখ ২৭ হাজার ৮০০ টাকা জরিমানা করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটেরা।সোমবার (২৬ জুলাই) জেলা প্রশাসন, বিআরটিএ ও সিটি করপোরেশনের ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নগরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধ মেনে না চলায় বিভিন্ন দোকান, রেস্টুরেন্ট ও শপিংমলে অভিযান পরিচালনা করে অর্থদ-ের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে সচেতন করা হয়। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুক  বলেন, জেলা প্রশাসন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এদিকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে সোমবার নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী ও স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট জাহানারা ফেরদৌসের নেতৃত্বে নগরীর লালখান বাজার মোড়, ওয়াসা মোড়, জিইসি, কাজীর দেউরী, চট্টেশ্বরী মোড়, চকবাজার ও জামালখান এলাকায় করোনা ভাইরাস জনিত রোগের বিস্তার রোধে সরকারি স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করায় ১৯ ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১৯টি মামলা রুজু পূর্বক ৪ হাজার ৬ শত টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানকালে ম্যজিস্টেট পথচারীদের মাঝে মাস্ক বিতরণ করেন এবং নগরবাসীকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনাও প্রদান করে। অভিযানে ম্যাজিস্ট্রেটগণকে সহায়তা করেন সিটি কর্পোরেশনের সংশিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ সদস্য বৃন্দ।

এদিকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. রোজউল করিম চৌধুৃরী সোমবার সকালে কর্পোরেশন পরিচালিত জেনারেল হাসপাতালে করোনার টিকা প্রদান কার্যক্রম পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনকালে টিকা নিতে আসা নাগরিকদের সারিবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে  সন্তোষ প্রকাশ করেন মেয়র। তিনি বলেন, সরকার করোনা মোকাবেলায় নানা পদক্ষেপের পাশাপাশি দেশের সর্বস্তরের মানুষকে করোনার টিকার আওতায় আনতে চায়। ইতিমধ্যে টিকা সংকটের সমাধান হয়েছে। শিঘ্রই ১৮ বছরের উর্ধ্বের নাগরিকদের টিকা প্রদান শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। নাগরিক হিসেবে আমাদেরও দায়িত্ব হলো সরকার ঘোষিত বিধি নিষেধ মেনে চলা। প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হওয়া। বের হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক পরিধান করা। না হয় জীবন সংকটাপন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে নগরীর সাড়ে ৪ লাখ মানুষকে করোনার টিকা দেয়া হয়েছে জানিয়ে বলেন, কর্পোরেশনের এ উদ্যোগ সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। এখানো কর্পোরেশনের আইসোলেশন সেন্টারে ৩৫ জন রোগী ভর্তি আছে। তিনি করোনাকালীন সময়ে নগরবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সব সময় কর্পোরেশন পাশে থাকবেন বলেন জানান।

এদিকে কঠোর লকডাউন অমান্য করায় হাটহাজারী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবু রায়হান।রোববার  সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করেন তিনি।এ সময় অহেতুক ঘোরাঘুরি, লকডাউন অমান্য করে দোকানপাট খোলা রাখা, স্বাস্থ্যবিধি পালন না করে গাড়ি চালানোসহ বিভিন্ন অপরাধে ১১টি মামলায় ৪ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবু রায়হান  বলেন, সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউন বাস্তবায়ন করতে মাঠে আছে হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন। বিনা প্রয়োজনে স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে আড্ডা দেওয়া, ঘোরাঘুরি, স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করায় জরিমানা আদায়ের পাশাপাশি সতর্ক করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে আমাদের এ অভিযান চলমান থাকবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ