বৃহস্পতিবার ০২ ডিসেম্বর ২০২১
Online Edition

রাতারাতি নাম পরিবর্তন করে চাকরিজীবী লীগ এখন চাকরিজীবী পরিষদ

স্টাফ রিপোর্টার: বিতর্কিত ‘বাংলাদেশ আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ রাতারাতি ফেসবুক পেজে তার নাম পরিবর্তন করেছে। নতুন নাম দিয়েছে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী চাকরিজীবী পরিষদ’। সংগঠনটি নিয়ে সম্প্রতি তুমুল বিতর্ক চলাকালেই ২৪ জুলাই নাম পরিবর্তন করেছে তারা। ভুঁইফোড় এ সংগঠনটির ফেসবুক পেজ যাচাই করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। ভুঁইফোড় ও নামসর্বস্ব বিতর্কিত ‘বাংলাদেশ আওয়ামী চাকরিজীবী লীগের’ সভাপতি হওয়ার প্রেক্ষাপটে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য পদ থেকে ইতোমধ্যে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অবশ্য হেলেনা জাহাঙ্গীর দাবি করেছেন, তিনি ওই সংগঠনের সভাপতি হননি। সংগঠনের প্রচার এবং যাচাই-বাছাইয়ের জন্য কেবল তিনি ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

‘আওয়ামী চাকরিজীবী লীগের’ ফেসবুক পেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত বছর ২০ অক্টোবর পেজটি খোলা হয়। বর্তমানে এর সদস্য সংখ্যা ৩৩ হাজারের বেশি। পেজটির এডমিন মাহাবুব মুমিন। যার অপর পরিচয় বাংলাদেশ আওয়ামী চাকরিজীবী লীগের আহ্বায়ক।

এদিকে চাকরিজীবী লীগ ছাড়াও গত বছরের ২০ ডিসেম্বর ‘বাংলাদেশ আওয়ামী চাকরিজীবী লীগের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মাহবুব মমিনের সমার্থক’ নামে ফেসবুকে আরেকটি পেজ খোলা হয়েছিল। এ পেজটির নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী চাকরীজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মাহবুব মমিনের সমার্থক’ করা হয়েছে। রোববার (২৫ জুলাই) পেজটির নাম পরিবর্তন করা হয়। এ পেজটির সদস্য সংখ্যা ১২ হাজারের বেশি। এটার এডমিনও মাহবুব মমিন। বাংলাদেশ আওয়ামী চাকরিজীবী পরিষদ’ এবং ‘বাংলাদেশ আওয়ামী চাকরীজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মাহবুব মমিনের সমার্থক’ এই দুটো ফেসবুক পেজের প্রোফাইলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি ছবি দেওয়া হয়েছে। এদিকে দেখা গেছে, মাহবুব মমিন সজিব ওয়াজেদ জয় নামে একটি ফেসবুক পরিচালনা করেন। ওই পেজে তিনি আওয়ামী চাকরিজীবী লীগের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার আহ্বায়ক ও যুগ্ম-আহ্বায়কের নাম, মোবাইল নম্বর জানিয়ে দিয়েছেন। এতে মোট ১২৯ জনের নাম ও মোবাইল নম্বর রয়েছে।

এ পেজে এক স্ট্যাটাসে মাহবুব মুমিন লিখেছেন, যারা বাংলাদেশ আওয়ামী চাকরিজীবী লীগের আহ্বায়ক ও যুগ্ম-আহ্বায়ক হয়ে আছেন। তাদের যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হলো। না হলে নতুন কমিটি গঠন করা হবে। পরে আমাদের দোষ দিতে পারবে না।

মাহবুব মুমিনের ফেসবুক আইডি ঘেঁটে দেখা গেছে, এখানে নিজেকে ঢাকা জজ কোর্টের একজন আইনজীবী হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। এছাড়া তিনি ওহাবংঃড়ৎং ংবৎারপব ঢ়ৎড়ারফবৎ চাঃ. খঃফ. এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও নিজেকে উল্লেখ করেছেন। গ্রামের বাড়ি নওগাঁ।

অবশ্য সংগঠনের নাম পরিবর্তন করা হলেও সজীব ওয়াজেদ জয় পেজে যে ১২৯ ব্যক্তিকে আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়কের পদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে সেখানে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ উল্লেখ রয়েছে।

ওই পেজে বিভিন্ন জেলার আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে যাদের নাম ও মোবাইল নম্বর দিয়েছে, তাদের বেশ কয়েকজনের সঙ্গে গণমাধ্যমের কথা হয়। তাদের মধ্যে ঢাকা-৪ অঞ্চলের আহ্বায়ক এম এম জাকারিয়া কবীর জানান, তিনি চাকরিজীবী লীগের সঙ্গে জড়িত। সরকারের মন্ত্রী পদমর্যাদার এক ব্যক্তি বিষয়টি জানেন এবং তিনি ওই ব্যক্তির নামও উল্লেখ করেন।

পটুয়াখালী জেলা আহ্বায়ক কবীর মৃধা জানান, তাকে কোনও একজন ফোন করে চাকরীজীবী লীগের পদ দেওয়ার কথা বলেন। এরপর তার সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ হয়নি। তাকে আহ্বায়ক করা হয়েছে এমন তথ্য তিনি জানেন না। আহ্বায়কের কোনও চিঠিও তাকে দেওয়া হয়নি তাকে।

খুলনা-১ অঞ্চলে আহ্বায়ক হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া রিয়াজুল ইসলাম জানান, তিনি যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে দলে তার কোনও পদ পদবি নেই। চাকরিজীবী লীগের সঙ্গে তিনি জড়িত নন।

পরে মোবইল ফোনে বার্তা দিয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে মাহবুব মমিন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা খুব শিগগিরই একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করতে যাচ্ছি। তখন বিষয়টি নিয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করা হবে।সূত্র বাংলা ট্রিবিউন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ