সোমবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজও বাংলাদেশের

রফিকুল ইসলাম মিঞা : জিম্বাবুয়ের মাটিতে এক সফল সিরিজ শেষ করল বাংলাদেশ। একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ বাদ দিলে সবকটি ম্যাচেই পেয়েছে লড়াকু জয়। প্রথমে এক ম্যাচের টেস্ট সিরিজ জয়। এরপর তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে সবকটি ম্যাচ জিতে সিরিজ জয়। টেস্ট আর ওয়ানডে সিরিজের পর গতকাল টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে গতকাল বাংলাদেশ জয় পেয়েছে ৫ উইকেটে। ফলে ২-১ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজও জিতল টাইগাররা। টি-টোয়েন্টি সিরিজে ম্যান অব দ্য ম্যাচ ম্যান অফ দ্য সিরিজ নির্বাচিত হন সৌম্য সরকার। আর নিজ মাটিতে একচি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে জয় পেলেও তিনটি সিরিজেই হারতে হয়েছে জিম্বাবুয়েকে। গতকাল আগে ব্যাট করে জিম্বাবুয়ে করেছিল ১৯৩ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর। বাংলাদেশের সামনে টার্গেট দাড়ায় ১৯৪ রান। জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে ১৯৪ রানের টার্গেটটা কঠিনই ছিল। তবে সৌম্য সরকার, মাহমুদুল্লাহ আর শামীমের ব্যাটিংয়ে শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেট হারিয়ে চার বল আগেই বাংলাদেশ জয় পায় ৫ উইকেটে। ১৯৪ রানের কঠিন টার্গেট নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই মারমুখি ছিল বাংলাদেশ। তবে তৃতীয় ওভারেই বাংলাদেশ হারায় ওপেনার মোহাম্মদ নাঈমের উইকেট। তৃতীয় ওভারে মুজারাবানির বলে নাঈম হাত খুলতে গিয়ে তালুবন্দি হন মিডঅফে। ৭ বলে নাঈম ফেরেন ৩ রান করে। এর পর সৌম্য-সাকিব মিলে পাওয়ার প্লেতে রানের চাকা সচল রেখেছেন। ফলে ৬ ওভার শেষে বাংলাদেশ ১ উইকেটে তুলে ৫০ রান। অবশ্য ষষ্ঠ ওভারে ক্যাচ দিয়েছিলেন সৌম্য সরকার। কিন্তু লুফে নিতে পারেননি মিড অনে থাকা সিকান্দার রাজা। ফলে সাকিব-সৌম্য জুটি ভাঙার আগেই বাংলাদেশ পৌঁছে যায় ৭০ রানে। সাকিবের বিদায়ে ভাঙে এই জুটি। সাকিব মেরে খেলতে গিয়েই বিপদ ডেকে আনেন অষ্টম ওভারে। লুক জংউইর বলে দুটি ছক্কা মারলেও চতুর্থ বলে ক্যাচ তুলে দিয়েছেন বদলি ফিল্ডার মুসাকান্দাকে। আউট হওয়ার আগে ১৩ বলে এক চার দুই ছক্কায় সাকিব করেন ২৫ রান। সাকিব আউট হলেও অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ কে নিয়ে রানের চাকা সচল রাখেন সৌম্য। ১০ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ২ উইকেটে ৯০ রান। এই জুটিতেই শতরান পার করে বাংলাদেশ। তবে দলীয় ১৩৩ রানে আউট হন সৌম্য সরকার। লুক জংউইর বলে মারতে গিয়ে ক্যাচ আউটে ফেরেন ৬৮ রানে। তার ৪৯ বলের ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও ১টি ছয়। এর আগে ৪০ বলে ফিফটি তুলে নেন সৌম্য। সৌম্য এটাই ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে। সৌম্যর বিদায়ে রানের চাকা স্লো হতে থাকে বাংলাদেশের। আফিফ হোসেন নেমে শুরুটা ভালো করলেও টিকতে পারেননি বেশি সময়। মাত্র ৫ বলে দৃুটি ছক্কায় ১৪ রান করে বোল্ড হন মাসাকাদজার বলে। ফলে ১৫০ রানে বাংলাদেশ হারায় চতুর্থ উইকেট। তবে শামীম হোসেন ব্যাট করতে নেমে রিয়াদেও সাথে জুটি করে দলকে জয়ের দিকে নিয়ে যায়। ব্যাট করতে নেমেই অভিজ্ঞ মাহমুদল্লাহর সাথে অসাধারন খেলতে থাকেন শামীম। জয় থেকে বাংলাদেশ তখন ৭ রান দুরে। ৯ বলে দরকার ছিল ৭ রান। তবে দলীয় ১৮৭ রানে আউট হন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। আউট হওয়ার আগে রিয়াদ ২৮ বলে করেন ৩৪ রান। রিয়াদের বিদায়ে একটু চাপে পড়ে টাইগাররা। তবে শামীম দলকে বিপদে পড়তে দেননি। শেয় ওভারে জয়ের জন্য দরকার ছিল ৫ রান। শামীমের সাথে ব্যাটিংয়ে ছিলেন নুরুর হাসান। শেষ ওভারের প্রথম বলে শামীম চার আর দ্বিতীয় বলে এক রান নিয়ে চার বল হাতে রেখেই দলের জয় নিশ্চিত করেন। বাংলাদেশ ১৯.২ ওভারে ৫ উইকেটে ১৯৪ রান করে ম্যাচ জিতে ৫ উইকেটে। শামীমের ব্যাটে বাংলাদেশের জয়টা শেয় পর্যন্ত সহজই হয়ে যায়। শামীম ১৫ বলে ৬ চারে ৩১ রানে অপরাজিত ছিলেন। এরআগে, ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৯৩ রান করে স্বাগতিকর জিম্বাবুয়ে। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম থেকেই মারমুখী ছিল স্বাগতিকরা। দুই ওপেনার তাদিওয়ানাশে মারুমানি আর ওয়েসলে মাদভেরে প্রথম তিন ওভারে তোলেন ২৮ রান। পঞ্চম ওভারে সাকিব আল হাসান এসে সেই রানের গতি কিছুটা টেনে ধরেন। পরের ওভারে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে ছক্কা হাঁকান মারুমানি। তবে ওভারের শেষ বলে এই ওপেনারকে বোল্ড করেন সাইফউদ্দিন। আউট হওয়ার আগে ২০ বলে ২৭ রান করেন মারুমানি। পাওয়ার প্লে'র ৬ ওভার শেষে জিম্বাবুয়ের ১ উইকেটে তুলে ৬৩। মারুমানি আউট হরেও উইকেটে এসে ঝড় তুলেন রেগিস চাকাভা। একের পর এক বল সীমানার বাইরে ফেলতে থাকেন উইকেটরক্ষক এই ব্যাটসম্যান। নাসুম আহমেদের করা ১১তম ওভারে টানা তিন বলে তিন ছক্কা হাঁকান চাকাভা। তবে পরের ওভারেই সে ঝড় থামিয়েছেন সৌম্য সরকার। সৌম্য সরকারকে উঠিয়ে মেরেছিলেন চাকাভা। ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচটি নিয়েও ভারসাম্য রাখতে পারেননি নাইম। তবে দড়ির বাইরে যাওয়ার আগে বলটি ওপরে তুলে দেন। আর শামীম দৌড়ে গিয়ে ক্যাচটি তালুবন্দী করেন। ফলে ২২ বলে ৬ ছক্কায় ৪৮ রান করে মাঠ ছাড়েন চাকাভা। সৌম্য সরকার সেই ওভারেই তুলে নেন আরও এক উইকেট। জিম্বাবুইয়ান অধিনায়ক সিকান্দার রাজাকে বোল্ড করেছেন রানের খাতা খোলার আগেই। ফলে সৌম্যর করা এগারতম ওভারে জোড়া উইকেট হারিয়ে রানের গতি কমে যায় জিম্বাবুয়ের। সেই চাপ থেকেই সাকিবের করা ১৬তম ওভারের প্রথম বলটি রিভার্স সুইপ করেছিলেন মাদভেরে। কিন্তু থার্ডম্যানে সহজেই তাকে তালুবন্দী করেন শরিফুল। ফলে ৩৬ বলে ৬ বাউন্ডারিতে ৫৪ রানের ইনিংস খেলে বিদায় হয় এই ব্যাটসম্যানের। তারপরও ১৮তম ওভারে সাইফউদ্দিনের বলে তিন চার আর এক ছক্কায় ১৯ রান তুলে নেয় জিম্বাবুয়ে। তবে ১৯তম ওভারে দারুণ বোলিং করেন শরিফুল। প্রথম বলেই শরিফুল ফেরান মায়ার্সকে। ২০ বলে ২৩ রান করেন মায়ার্স। শেষ ওভারে সাইফউদ্দিনের বলে ১৪ রান নিতে পারে দলটি। টানা দুই বলে চার আর ছক্কা হাঁকান রায়ান বার্ল। তিনি শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ১৫ বলে ৩১ রানে। জিম্বাবুয়ে ৫ উইকেটে তুলে ১৯৩ রান। বাংলাদেশের পক্ষে সৌম্য সরকার ১৯ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। শরিফুল ইসলাম ২৭ রানে আর সাকিব ২৪ রান দিয়ে নেন একটি করে উইকেট। সাইফউদ্দিন এক উইকেট পেলেও দিয়েছেন ৫০ রান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ