রবিবার ২৮ নবেম্বর ২০২১
Online Edition

জিম্বাবুয়ে সফরে বাংলাদেশের প্রথম হার

স্পোর্টস রিপোর্টার : জিম্বাবুয়ে সফরে প্রথম হারের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। এই সফরে একমাত্র টেস্টে জয়ের পর তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে কোন ম্যাচ না হেরে সিরিজ জিতেছিল টাইগাররা। তিন ম্যাচে টি-টোয়েন্টি সিরিজেও জয় দিয়ে শুরু করেছিল বাংলাদেশ। গতকাল দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে জয় পেলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের সুযোগ ছিল। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেই হেরে গেল বাংলাদেশ। গতকাল আগে ব্যাট করে জিম্বাবুয়ে ৬ উইকেটে করে ১৬৬ রান। জয়ের জন্য বাংলাদেশ ব্যাট করতে নেমে এক বল আগেই অলআউট হয় ১৪৩ রানে। ফলে জিম্বাবুয়ে জয় পায় ২৩ রানে। এই জয়ের ফলে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-১ সমতায় আনল স্বাগতিকরা। জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে ১৬৭ রানের টার্গেটা খুব বড় ছিল না। কিন্তু ব্যাট করতে নেমে প্রথম থেকেই উইকেট হারাতে থাকে টাইগাররা। ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে হতাশ করেছেন দুই ওপেনার সৌম্য সরকার ও মোহাম্মদ নাঈম। অথচ প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জয়ে এই দুই ওপেনারের ভূমিকা ছিল বেশি। গতকাল ব্যাট করতে নেমে ১৭ রানেই ফিরে গেছেন এ দু’জন। এখানেই শেষ নয়। দলীয় ৫৩ রানে প্রথম ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকেই ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ। ব্যাট করতে নেমে ব্লেসিং মুজারাবানির তৃতীয় ওভারের প্রথম বলেই নাঈম ইসলাম বোল্ড হয়ে ফিরেছেন ৫ রানে। একই ওভারের চতুর্থ বলে মুজারাবানির জোড়া আঘাতের শিকার হন সৌম্য সরকার। কভারে ক্যাচ উঠিয়ে তিনি ফিরেছেন মাত্র ৮ রানে। ১৭ রানে দুই উইটেট পড়ে যাওয়ায় দ্রুত রান তোলার চেস্টায় ছিলেন মেহেদী ও সাকিব। পাওয়ার প্লেতে সে কাজটা ভালো ভাবেই করেছিলেন সাকিব। কিন্তু সপ্তম ওভারে সাকিব বিপদ ডেকে আনেন বাইরে এসে খেলতে গিয়ে। বামহাতি স্পিনার মাসাকাদজার বলে কাভারে ক্যাচ তুলে সাকিব বিদায় নেন ১০ বলে ১২ রানে। সাকিবের পরেই ফিরেছেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাত্র ৪ রান করে মাসাকাদজার বলে ক্যাচ উঠিয়ে দিয়েছেন লং অনে। এতে দলের বিপদ আরো বেড়ে যায়। অভিজ্ঞ দুই ক্রিকেটারের বিদায়ে টিকে থেকে দলকে এগিয়ে নিতে পারেননি মেহেদী মিরাজও। সেই মাসাকাদজার স্পিনে শট খেলতে গিয়ে ১৫ রান করা মেহেদী ক্যাচ উঠিয়ে দিয়েছেন লং অফে। ফলে ৫৩ রানে ৫ উইকেট হারানো দলকে এগিয়ে নিতে চেস্টা করেন আফিফ - নুরুল হাসান জুটি। তবে দলীয় ৬৮ রানে আউট হন নুরুল হাসান। ফিরেছেন ৯ রান করে। তবে আফিফ আর শামীম হোসেন জুটির উপর ভর করে শতরান পার করে বাংলাদেশ। কিন্তু ১০৯ রানে মাঠ ছাড়েন শামীমও। তবে আউট হওয়ার আগে অভিষেক ম্যাচে তিনি মাত্র ১৩ বলে তিন চার আর দুই ছক্কায় করেন ২৯ রান। দলীয ১২৭ রানে আউট হন আফিফ। ছাতারার বলে আউট হওয়ার আগে আফিফ ২৫ বলে করেন ২৪ রান। ফলে ১২৭ রানে ৭ উইকেট হারানো দলের সামনে জয়ের সুযোগটা ক্ষীনই ছিল। তবুও টিকে থাকার চেস্টা করেছিলেন সাইফউদ্দিন। কিন্তু দলীয় ১৪১ রানে ফিরতে হয় তাকেও। আউট হওয়ার আগে ১৫ বলে ১৯ রান করেন সাইফউদ্দিন। ব্যাট করতে নেমে রানের খাতা খোলার আগেই উইকেট হারান তাসকিন। শেষ পর্যন্ত বাংরাদেশ অলআউট হয় ১৪৩ রানে। আর জিম্বাবুয়ে জয় পায় ২৩ রানে। ২০ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন মাসাকাদজা। ৩১ রানে ৩টি নিয়েছেন লুক জংউইও। ২৪ রানে দুটি নিয়েছেন টেন্ডাই চাতারা, ২১ রানে সমসংখ্যক শিকার ব্লেসিং মুজারাবানিরও। এরআগে, টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৬৬ রান করে জিম্বাবুয়ে। ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই দ্রুত রান নেয়ার চেস্টায় ছিল দলটি। ফলে দলটি পাওয়ার প্লের ফায়দা লুটে নেয় ভালোভাবে। আর এটা সম্ভব হয় ওয়েসলি মেধেভেরের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে। এক প্রান্তে ওয়েসলি মেধেভেরে আক্রমণ চালালেও আরেক ওপেনার তাদিওয়ানাশে মারুমানি ছিলেন বাক্সবন্দি। দ্বিতীয় ওভারে বোলিংয়ে এসেই তাকে সাজঘরে ফিরিয়েছেন অফস্পিনার মেহেদী হাসান। বোল্ড হওয়ার আগে মারুমানি করেন ৩ রান। তাতে অবশ্য স্বাগতিকদের স্কোরবোর্ড থেমে থাকেনি। মেধেভেরের ব্যাটিংয়ে ছুটতে থাকে রানের চাকা। তবে পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে সাকিব আল হাসান তুলে নেন রেজিস চাকাভার উইকেট। শরিফুল ইসলালমে ক্যাচ দিয়ে মাঠ ছাড়ার আগে চাকাভা করেন ১৪ রান। এর পর অবশ্য রান আউটের সুবর্ণ সুযোগ মিস করে বাংলাদেশ। তাসকিনের ১০.২ ওভারে মায়ার্স রান নিতে গিয়ে একটু দেরি করে ফেললে তাকে আউটের সুযোগ ছিল নাইমের। কিন্তু তার থ্রো স্টাম্পে আঘাত হানতে পারেনি। সেটি হলে জিম্বাবুয়ের রাশ টেনে ধরার সুযোগ ছিল। কারন মায়ার্স-মেধেভেরে মিলে শতরান পার করেন জিম্বাবুয়ের। পরে এই জুটিতেই উঠেছে সর্বোচ্চ ৫৭ রান। দ্রুত গতিতে ব্যাট চালিয়ে ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফিফটি তুলে নেন মেধেভেরে। অবশেষে ১৪তম ওভারে আগ্রাসী এই জুটি ভাংগে মায়ার্সের বিদায়ে। শরিফুলের শর্ট লেংথের বল অফসাইডে উঠিয়ে দিয়েছিলেন মায়ার্স। তবে তার ক্যাচ সহজেই লুফে নেন মেহেদী হাসান। ২১ বলে মায়ার্স ফেরেন ২৬ রানে। ১৬তম ওভারে অবশ্য রান আউটে আর ভুল করেনি বাংলাদেশ। সাকিবের বলে রান নিতে গিয়ে রান আউটে ফেরেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। মাত্র ৪ রান করেন তিনি। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের বোলারদের শাসন করা মেধেভেরে ফেরেন ১৮তম ওভারে। শরিফুলের বলে ঠিকমতো ব্যাটে-বলে সংযোগ ঘটাতে পারেননি। বল উঠে গেলে তা লুফে নেন আফিফ হোসেন। মেধেভেরে আউট হওয়ার আগে ৫৭ বলে ৫টি চার ও ৩টি ছয় করেন ৭৩ রান। মেধেভেরে আউট হওয়ার পর রায়ান বার্ল কিছুটা দায়িত্বশীল হওয়ায় স্কোরবোর্ডটা চ্যালেঞ্জিং হয়েছে জিম্বাবুয়ের। বার্ল ১৯ বলে দুটি চার ও দুই ছক্কায় ৩৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। শরিফুল শেষ বলে জংউইর উইকেট নেওয়ায় ৬ উইকেটে ১৬৬ রানে থামে জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের পক্ষে ৪ ওভারে ৩৩ রান দিয়ে শরিফুল ইসলাম নিয়েছেন ৩ উইকেট। একটি করে নিয়েছেন সাকিব আল হাসান ও মেহেদী হাসান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ