রবিবার ২৮ নবেম্বর ২০২১
Online Edition

করোনা মুক্তি এবং দেশ-জাতির কল্যাণ কামনায় ঈদ-উল আযহা উদযাপিত

গত বুধবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে বায়তুল মোকাররম মসজিদে ঈদের নামায অনুষ্ঠিত হয় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : করোনা ভাইরাস ও বন্যার প্রতিকূলতার মধ্যেই যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদায় সারাদেশে ঈদ উল আযহা উদযাপিত হয়েছে। প্রতিকূলতা থাকলেও ঈদের আনন্দে নিজেদের রঙিন করার চেষ্টার অন্ত ছিল না কারো। সাধ্য অনুযায়ী পোলাও, কোর্মা, রেজালা, রোস্ট, খিচুড়ি ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের নাস্তা, পিঠা-পুলির আয়োজন ছিল ঘরে ঘরে।
এবার করোনাকালের নির্দেশনায় ঈদগাহে নামাযের অনুমতি ছিল। বিভিন্ন এলাকায় মাঠে ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু জাতীয় ঈদগাহে কোন ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে পবিত্র ঈদুল আযহার পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিটি জামাতেই মাস্ক পরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অংশ নিয়ে ঈদের নামায আদায় করেন মুসল্লিরা। মুসল্লিদের উপস্থিতি সবথেকে বেশি ছিল প্রথম ও প্রধান জামাতে। পাঁচটি জামাতের প্রথমটি অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৭টায়। আর পঞ্চম ও শেষ জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে।
প্রথম ও প্রধান জামাতে অংশ নিতে রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সকাল সাড়ে ৬টার আগেই মুসল্লিরা ছুটে আসেন বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে। মুসল্লিদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় বায়তুল মোকাররম মসজিদের ভেতর।
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মো. মিজানুর রহমানের ইমামতিতে অনুষ্ঠিত প্রথম জামাতের দুই রাকাত নামাজ শেষে মহামারি করোনাভাইরাস থেকে মুক্তির জন্য দোয়া করা হয়।
এরপর একে একে অনুষ্ঠিত হয় বাকি চারটি জামাত। তবে প্রথম জামাতে মুসল্লিদের যেমন উপস্থিতি ছিল, পরে চারটি জামাতে উপস্থিতির হার ছিল তার থেকে কম।
দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টায়, তৃতীয় জামাত সকাল ৯টায়, চতুর্থ জামাত সকাল ১০টায় এবং পঞ্চম ও শেষ জামাত সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয়।
বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত প্রথম জামাতে অংশ নেয়া মুসুল্লী হাসান বলেন, মহামারি করোনাভাইরাস আমাদের সবকিছু ওলট-পালট করে দিয়েছে। আগে ঈদের যে আনন্দ ছিল এখন তা আর নেই। অনেকটাই যন্ত্রের মতো ঈদের জামাত আদায় করছি। তারপরও আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া জামাতে ঈদের নামায আদায় করতে পেরেছি।
সাকলাইন নামের আরও একজন বলেন, এবারই প্রথম ঢাকাতে কুরবানির ঈদ করছি। আল্লাহর রহমতে কুরবানির জন্য গরু কিনেছি। প্রথমবার ঢাকাতে ঈদ করা, তাই বায়তুল মোকাররমের জামাতে অংশ নিতে এসেছি। সকাল সকাল কুরবানির অন্যান্য কাজ শেষ করবো এইজন্য প্রথম জামাতে অংশ নিয়েছি।
তিনি বলেন, মহামারির এই পরিস্থিতিতে সশরীরে ঈদের জামাতে অংশ নিতে পেরে আমি বেশ খুশি। ঈদের নামাজ আদায় হয়ে গেছে। এখন আল্লাহর রহমতে ঠিকঠাকভাবে কুরবানির অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে চাই। আল্লাহ যেন কুরবানি কবুল করে নেন এবং আমাদেরকে এই মহামারি থেকে মুক্তি দেন সেই দোয়া করি।
জাতীয় মসজিদে ঈদুল আজহার চতুর্থ জামাতে অংশ নেয়া রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের মহল্লার মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল অনেক রাত পর্যন্ত কাজ করেছি, তাই অত সকালে জামাতে অংশ নিতে পারিনি। এ কারণে এখানে ১০টার জামাতে ঈদের নামায আদায় করলাম।
পবিত্র ঈদ উল আযহা উপলক্ষে ৩ দিনের সরকারি ছুটি ছিল। পত্রিকা অফিস বন্ধ থাকায় গত তিনদিন কোন পত্রিকা প্রকাশিত হয়নি। ছুটির পর শুক্রবার সকাল থেকেই শুরু হয়েছে লকডাউন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ