সোমবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

করোনার কারণে এবারও অধিকাংশ রাজনীতিক ঢাকায় ঈদ করবেন

 

স্টাফ রিপোর্টার : আগামীকাল বুধবার অনুষ্ঠিত হবে মুসলমানদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আযহা। দীর্ঘ একবছর পর ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম পবিত্র হজ্জ্ব পালনে প্রতিবছর লাখ লাখ মুসলমান সৌদিআরবে অবস্থান করতেন। লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত হতো পবিত্র কাবা প্রাঙ্গণ। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারি করোনোর কারণে এবার সেই সুযোগ পাচ্ছেনা ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। কয়েক হাজার মুসলমান এবার পবিত্র হ্জ্ব পালনের সুযোগ পেয়েছেন। পবিত্র হজ্বকে সামনে রেখে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের মুসলমানরা পশু জবাইয়ের মধ্যদিয়ে কুরবানি পালন করবেন। অন্যদেশের ন্যায় বাংলাদেশের মুসলামনরাও পবিত্র ঈদুল আযহা পালন করতে ছুটছেন আপনজনদের কাছে। তবে অন্যবারের চেয়ে এবারের ঈদও পালন হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে। যেখানে আনন্দের চাইতে বেদনাটাই বেশী। করোনা মহামারির কারণে পুরো বিশ্ব এখনো অনেকটা লকডাউন অবস্থার মধ্যে দিন পার করছে। বিশেষ কাজ না থাকলে ঘর থেকে এখনো অনেকে বের হচ্ছেন না। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। দেশে বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন মৃত্যু ও আক্রান্তের রেকর্ড় ভঙ্গ হচ্ছে। আগের সময়গুলোতে অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, ট্রেনসহ যানবাহনে সিড়িউল বিপর্যয়, সড়কে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা, চারদিকে চরম অস্থিরতা-আতংক সত্ত্বেও মা-বাবা, ভাই-বোন, ছেলে-মেয়েসহ আপনজনদের সাথে ঈদ করতে মানুষ ফিরছেন নিজ নিজ এলাকায়। কিন্তু গেল ঈদুল ফিতরের ন্যায় এবারও গ্রামের বাইরে থাকা অধিকাংশই মানুষ আপনজনের সান্নিধ্য পাচ্ছেনা। কারণ করোনা সংক্রমণরোধে সরকার জনগণকে ঢাকার বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। যদিও সব ধরণের যানবাহন চলাচল অব্যাহত রয়েছে। এবারও সেভাবে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের সুযোগ থাকছে না। 

বিএনপি : দেশের প্রধান বিরোধী রাজনীতিক দল বিএনপির জন্য এবারের ঈদটা হবে গত কয়েকটা ঈদের মতোই। গত দুইটি ঈদের আগে তিনবার দলটির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন কারাগারের আবদ্ধ। কথিত দুর্নীতির মামলায় পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে একাকী জীবন কাটাতে হয়েছে তাকে। কিছু সময় কেটেছে হাসপাতালে। সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্ত পেয়ে এখন নিজ বাসায় অবস্থান করছেন। ছেলে, ছেলের বউ ও নাতনীদের ছাড়া পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে নিয়ে হাসপাতালেই গত ঈদুল ফিতর পালন করেছিলেন খালেদা জিয়া। তবে এবারের ঈদুল আজহা তিনি ফিরোজাতেই উদযাপন করবেন। 

প্রতিবছর দুপুরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান থাকলেও গত কয়েকবারের ধরাবাহিকতায় এবারও সেটি থাকছেনা। বিগত কয়েক বছরের মতো এবারও স্ত্রী ও একমাত্র মেয়েকে নিয়ে ইংল্যান্ডে ঈদ উদযাপন করবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমান। করোনার কারণে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্যই ঢাকায় ঈদ করবেন। এছাড়া নির্বাহী কমিটির সিনিয়র সদস্যরাও ঢাকাতে বাসায় থেকে ঈদ উদযাপন করেেবন। 

আওয়ামী লীগ : আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তার সরকারি বাসভবন গণভবনে ঈদ উদযাপন করবেন। তবে করোনার কারণে এবার ঈর শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান সেভাবে রাখা হয়নি। ঈদের দিন বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের শুভেচ্ছা বিনিময় কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। করোনার কারণে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগের বেশীরভাগ কেন্দ্রীয় নেতা রাজধানীতে ঈদ করবেন। 

অন্যান্য দল: জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের ঢাকায় ঈদ পালন করবেন। দলটির সিনিয়র নেতারাও ঢাকায় নিজনিজ এলাকাতে ঈদ উদযাপন করবেন। খেলাফত মজলিসের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা ইসহাক, বিকল্প ধারার প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও মহাসচিব মেজর অব. আবদুল মাম্নান, এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদ, জাসদ সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, মহাসচিব রেজা কিবরিয়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতী সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই, মুফতী সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, কল্যাণ পার্টির সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ ইবরাহীম, এনপিপি চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জমান ফরহাদ, এনডিপি চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মর্তুজা, বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার ছাইদুল হাসান ইকবাল, ন্যাপের জেবেল রহমান গানি, মুসলিম লীগের এএইচএম কামরুজ্জামান খান, পিপলস লীগের গরীবে নেওয়াজ, ন্যাপ-ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, বিজেপি‘র সালাহউদ্দিন মতিন প্রকাশ, ডিএল‘র সাইফুদ্দিন মনি ও সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ ঢাকায় ঈদ করবেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ