সোমবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

খুতবায় বৈশ্বিক কল্যাণ কামনা ও ভাইরাস সংক্রমণে সতর্কতার আহ্বান

স্টাফ রিপোর্টার : করোনা ভাইরাস সংক্রমণের মধ্যে দ্বিতীয় বছরের হজ্বের খুতবায় ইহসান তথা বৈশ্বিক কল্যাণ কামনা ও ভাইরাস সংক্রমণে সতর্কতার আহ্বান জানানো হয়েছে। গতকাল সোমবার হজ্বের দ্বিতীয় দিন আরাফাতের ময়দানে সমবেত হাজীদের প্রতি মসজিদে নামিরা থেকে খুতবা দেন মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব ড. শেখ বানদার বিন আবদুল আজিজ বালিলা।

এর আগে রোববার শুরু হওয়া হজ্বের মূল আনুষ্ঠানিকতায় মক্কা থেকে পূর্বে মিনায় জমায়েত হয়ে সারাদিন ও রাত ইবাদতে কাটান হাজীরা। সোমবার সকাল থেকে তারা দক্ষিণ-পূর্বে আরাফাতের ময়দানে সমবেত হন।

খুতবায় শেখ বানদার বলেন, মানুষের নিরাপত্তা ও জনপদের স্থিতিশীলতা ইহসানের অন্তর্ভুক্ত। তিনি বলেন, এই লক্ষ্যে দেশের শাসকদের মান্য করা মানুষের কর্তব্য। এছাড়া মুসলমান-অমুসলমান নির্বিশেষে সকলের প্রতি হাজীদের ইহসানের আহ্বান জানান শেখ বানদার। খুতবায় শেখ বানদার রাসূলের হাদীস উল্লেখ করে ভাইরাস সংক্রমণে সতর্কতার বিষয়ে আহ্বান জানান।

করানা মহামারির মধ্যে দ্বিতীয় দফা হজে আগত মুসল্লিদের উদ্দেশে শায়খ বান্দার বালিলা বলেন, ‘মহানবী (সা.) বলেছেন, মহামারি যে অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে সেখানকার লোকদের বাইরে যাওয়া উচিত নয় এবং অন্যান্য অঞ্চলের লোকদের উপদ্রুত এলাকায় না যাওয়া উচিত। খুতবায় শায়খ বান্দার মুসলমানদেরকে সমতা প্রতিষ্ঠা, একে অপরের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ দূর করার আহ্বান জানান। তিনি আল্লাহর দোহাই দিয়ে সবাইকে একে অপরকে ক্ষমা করতে বলেছেন।

গ্র্যান্ড মসজিদের ইমাম বলেন যে, হজ হ’ল ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ এবং যারা হজে আসতে সক্ষম তাদের এটি সম্পন্ন করার জন্য স্বয়ং আল্লাহ তা‘আলা আহ্বান জানিয়েছেন।

এই বছর বাংলাসহ মোট দশটি ভাষায় হজের খুতবার অনুবাদ প্রচার করা হয়। অপর নয়টি ভাষা হলো ফারসি, তুর্কি, উর্দু, মালয়, ইংরেজি, ফরাসি, রুশ, চীনা ও হাউসা। খুতবা শেষে জামায়াতে একত্রে যোহর ও আসর নামাজ আদায় করেন হাজীরা।

আরাফাতের ময়দানে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অবস্থান করেন হাজীরা। সারাদিন অবস্থানের পর সন্ধ্যায় হাজীরা মিনা ও আরাফাতের মধ্যবর্তী মুজদালিফায় গিয়ে রাত্রিযাপন করবেন।

মুজদালিফায় একত্রে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করে সেখান থেকে মিনায় শয়তানকে প্রতীকি পাথর নিক্ষেপের জন্য নুড়িপাথর সংগ্রহ করবেন তারা।

সারারাত মুজদালিফায় অবস্থানের পর মঙ্গলবার মিনায় গিয়ে হাজীরা তিন জামরাতে শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপ, কুরবানি ও চুল কাটার মধ্য দিয়ে ইহরাম থেকে মুক্ত হবেন।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণে সতর্কতায় এই বছর করোনা প্রতিরোধী টিকা নেয়া মাত্র ৬০ হাজার আবেদনকারী হজের অনুমতি পেয়েছেন। সৌদি আরবের বাইরে থেকে এই বছরও কোনো আবেদনকারীকে হজে অংশ নেয়ার অনুমতি দেয়া হয়নি। শুধু ১৫-৬৫ বছর বয়সী সৌদি নাগরিক ও দেশটিতে বাস করা ১৫০ দেশের নাগরিক হজ করার সুযোগ পেয়েছেন।

অনলাইনে সাড়ে ৫ লাখের বেশি আবেদন থেকে লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত হন তারা। সবাইকে দেয়া হয় দুই ডোজের ভ্যাকসিন। গত বছর সউদীতে অবস্থানকারী বিভিন্ন দেশের ১০ হাজার মুসল্লি হজ আদায়ের সুযোগ পেয়েছিলেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে তথা সামাজিক দূরত্ব বজায়সহ স্বাস্থ্য সুরক্ষার নানা ব্যবস্থার পাশাপাশি তা মানা নিশ্চিত করতে হজযাত্রীদের পাশাপাশি অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

হজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম এবং সক্ষম মুসলমানদের জন্য জীবদ্দশায় কমপক্ষে একবার ফরজ। এটি বিশ্বে মুসলিমদের বৃহত্তম ধর্মীয় সমাবেশ। ২০১৯ সালে বিশ্বের প্রায় ২৫ লাখ মুসলিম এতে অংশগ্রহণ করেছিল। তবে বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির কারণে দু’বছর ধরে সীমিত পরিসরে হজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এই বছর হজ পালনের জন্য বিশেষভাবে নির্বাচিত হজযাত্রীরা চলমান করোনভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারিতে পবিত্র অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত। এ বছর হজের জন্য নির্বাচিতদের বেশ কয়েকটি নির্দিষ্ট প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে হয়েছে, যার মধ্যে ফাইজার, অ্যাস্ট্রাজেনেকা, মোডার্না বা জনসন ও জনসন ভ্যাকসিনের মধ্যে যে একটি গ্রহণ বাধ্যতামূলক ছিল।

গত পাঁচ বছরে যারা হজ পালন করেননি এ বছর সেসব ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেয়া হয়। এছাড়া হজ করেননি ৫০ বছর বয়সী বা তার চেয়ে বেশি বয়সী ব্যক্তিদেরও অগ্রাধিকার দেয়া হয় এ বছর। এমনকি এবারই প্রথমবারের মতো পুরুষ অভিভাবক ছাড়া হজের নিবন্ধন করার সুযোগ পেয়েছেন সউদী নারীরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ