সোমবার ২৯ নবেম্বর ২০২১
Online Edition

তবুও বাড়ি ফিরছে মানুষ 

নেই করোনার ভয় আছে জীবনের ঝুঁকি তবুও ঈদযাত্রা নাড়ীর টানে। ছবিটি গতকাল রোববার পোস্তগোলা ব্রিজ থেকে তোলা -সংগ্রাম

* যানজটের কারণে দূরপাল্লার বাসে সিডিউল বিপর্যয় 

স্টাফ রিপোর্টার: ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে মানুষ। কুরবানির গরুর ট্রাক ঢাকামুখী হওয়ায় মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যানজটের কারণে দূরপাল্লার গণপরিবহন সিডিউল বিপর্যয়ে পড়েছে। এছাড়া সিডিউল বিপর্যয়ের কারণে ঘরমুখী যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। 

গতকাল রোববার রাজধানীর গাবতলী, কল্যাণপুর ও শ্যামলী বাস কাউন্টারগুলো ঘুরে গণপরিবহন কর্তৃপক্ষ ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।এসব কাউন্টার ঘুরে দেখা গেছে, যাত্রীরা সকাল থেকে কাউন্টারে এসে জমায়েত করলেও গাড়ির দেখা নেই। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনেকটাই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের।

রাস্তায় জ্যামের কারণে শিডিউল বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। যেখানে প্রতিদিন সাত থেকে আটটি গাড়ি চলাচল করতো সেখানে দু’টি গাড়ি চলছে। মহাসড়কে তীব্র যানজটের কারণে এমন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শ্যামলীতে অবস্থিত কে লাইন পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার মো. রিয়াদ।  

তিনি বলেন, করোনার কারণে একটি বাসে ২০ জন যাত্রী নিয়ে চলতে হয়। তাই যাত্রীর চাপ আছে। তবে শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে আমাদেরও হিমশিম খেতে হচ্ছে।  

রিয়াদ বলেন, আমাদের গাড়ি আসতে দেরি হলে যাত্রীদের ফোন করে জানাচ্ছি। তারপরও টাইমিং হচ্ছে না। অনেক যাত্রী কিছুটা আগেও চলে আসছে। এতে কিছুটা সময় তাদের কাউন্টারে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।  

সকালের গাড়ি বিকেলের মধ্যেও আসচ্ছে না। যাত্রীদের একাধিকবার ফোন করেও শিডিউল ঠিক রাখতে পারছি না। আবার কেউ কেউ ফোনে যোগাযোগ না করে সরাসরি চলে আসছেন কাউন্টারে এতে তাদের কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সুন্দরবন এক্সপ্রেসের কাউন্টার ম্যানেজার গোলাম কিবরিয়া।

সকাল থেকে যাত্রীরা কাউন্টারগুলোতে ভিড় করছেন বাড়ি ফিরতে। ‘কঠোর লকডাউনের’ কারণে অনেক দিন গণপরিবহনসহ সবকিছুই বন্ধ ছিল। ইচ্ছে থাকলেও অনেকেই বাড়ি ফিরতে পারেনি। তবে গাড়ির সিডিউল বিপর্যয়ের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যাত্রীরা কাউন্টারে অপেক্ষা করছেন বলেও জানান তারা।

এদিকে কুরবানির কারণে ফেরিতেও গরুর গাড়িকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এতে রাস্তায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যার কারণে শিডিউল বিপর্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে অবস্থিত হাই ট্রাভেলস দ্রুতি পরিবহনের ফোরম্যান মো. সুমন মিয়া।  

তিনি বলেন, রাস্তায় যানজটের কারণে গাড়ির সিডিউল বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। সকালে গাড়ি ফেরার কথা থাকলেও সেই গাড়ি বিকেলেও ফিরছে না। তবে আমরা সিডিউল যাত্রীদের ফোন করে জানিয়ে দিচ্ছি।

ঢাকা থেকে যশোর যাবেন আজাদ হোসেন। দুই ঘণ্টা ধরে বাসের অপেক্ষায় রয়েছেন। কখন বাস আসবে আর কখন বাড়ি ফিরবেন কিছুই বুঝছেন না বলে তিনি জানান।

আজাদ বলেন, ফোন করে কাউন্টারে এসেছি তারপরও দুই ঘণ্টা হয়ে গেল এখনও গাড়ি এসে পৌঁছায়নি। জানি না কখন রওনা দিতে পারবো।  

অপরদিকে ঈদের পর ‘কঠোর লকডাউন’ থাকায় অনেকেই পরিবার নিয়ে ছুটছেন গ্রামের বাড়িতে। একটু দুর্ভোগ হলেও যাত্রীদের চোখে মুখে ছিল হাসি আর আনন্দে ভরা। পরিবার-পরিজন নিয়ে বাড়িতে ঈদের আনন্দটা সবাই একসঙ্গে উপভোগ করবেন এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।

সরকারি ছুটি শুরু না হলেও ফাঁকা হতে শুরু করেছে ব্যস্ত নগরী ঢাকা। সরকারি ছুটির সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীদেরও চাপ অনেক বাড়বে বলে জানিয়েছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। স্বাভাবিক ঈদের মতো ভিড় নেই রাজধানী ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে। অন্য যেকোনও সময়ের চেয়ে এবারের ঈদ যাত্রা অনেকটা আলাদা। শুধু নির্দিষ্ট সংখ্যক যাত্রী ছাড়া স্টেশনে অন্য ঘরমুখো মানুষের ভিড় দেখা যাচ্ছে না। এতে রেল কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি খুশি সাধারণ যাত্রীরাও। সাধারণ যাত্রীরা বলছেন, অন্যান্য পরিবহনেও যদি এ ধরনের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা যেতো তাহলে করোনার সংক্রমণ কমে আসতো।

স্টেশন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, এ বছর করোনা মহামারির কারণে অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখেই চলছে ঈদযাত্রা। নির্ধারিত আসনের সব টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হয়েছে। কাউন্টারে শুধু মেইল কমিউটার ট্রেনগুলোর টিকিট দেওয়া হচ্ছে। যে কারণে আগের মতো ভিড় নেই। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট নিয়ে কাড়াকাড়িও নেই এবারের ঈদযাত্রাতে।

সকালে কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ মাসুদ সারোয়ার বলেন, সকাল পর্যন্ত ১২টির মতো ট্রেন ছেড়ে গেছে। সব ট্রেনে আসন সংখ্যা অর্ধেক আসন তথা শুধু বিজোড় সংখ্যার আসনের টিকিট বিক্রি করা হয়েছে। স্টেশন ও ট্রেনে প্রবেশের সময় হ্যান্ড স্যানিটাইজার করা হচ্ছে। মাস্ক ছাড়া কোনও যাত্রীকে স্টেশন ও ট্রেনে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। সব যাত্রী অত্যন্ত সুন্দর ও নিরিবিলিভাবে ভ্রমণ করতে পারছেন।

সকালে কমলাপুর স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে যাত্রীরা সারিবদ্ধভাবে স্টেশনে প্রবেশ করছেন। প্রবেশ পথে রেলওয়ের কর্মীরা প্রত্যেক যাত্রীর হাত স্যানিটাইজ করাচ্ছেন। একইভাবে ট্রেনে প্রবেশ করার সময়ও যাত্রীর হাত স্যানিটাইজ করানো হচ্ছে।

সকালে রংপুরগামী রংপুর এক্সপ্রেসের যাত্রী সামছুদ্দিন বলেন, বাসে অনেক ঝুঁকি। রাস্তাঘাটও ভালো না। অনেক যানজট। তাই ট্রেনই আমাদের জন্য অনেক নিরাপদ। অনলাইনে বারবার চেষ্টা করার পর টিকিট পেয়েছি। এখন বাড়িতে যাওয়ার জন্য এসেছি। একটু পর ট্রেন ছেড়ে যাবে। পরিবেশ দেখে অনেক ভালো লাগছে।

যাত্রী হাবিবা নাসরিন বুসরা বলেন, ট্রেনে অন্যান্য বছর যেমন ছাদে করেও যাত্রী বহন করা হতো এ বছর সেই ঝুঁকি নেই। এক আসনে বসলে আরেক আসন ফাঁকা। সব পরিবহনে যদি এমন ব্যবস্থা চালু করা যেতো তাহলে অবশ্যই ভালো হতো।

রেলওয়ের উপ-পরিচালক (অপারেশনস) মো. রেজাউল হক বলেন, বেশ কিছু নিয়ম মেনে ট্রেন চলাচল করছে। যাত্রার দিনসহ ৫ দিন আগে আন্তনগর ট্রেনগুলোর অগ্রিম টিকিট ইস্যু করা হয়। আন্তনগর ট্রেনের সব টিকিট একসঙ্গে অনলাইন এবং মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে। কাউন্টার থেকে কোনও টিকিট বিক্রি করা হয়নি। অনলাইন এবং মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে বিক্রি করা টিকিট রিফান্ড করা যাবে না বা ফেরত নেওয়া হবে না। আন্তনগর ট্রেনে সব ধরনের স্ট্যান্ডিং টিকিট ইস্যু সম্পূর্ণভাবে বন্ধ।

তিনি আরও বলেন, যাত্রীদের সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কোচের ধারণ ক্ষমতার শতকরা ৫০ শতাংশ টিকিট বিক্রি করা হয়েছে। রাত্রীকালীন ট্রেনে বেডিং সরবরাহে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে জারিকৃত সব বিধিনিষেধ পালন নিশ্চিত করা হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যমান স্বাস্থ্যবিধি মেনে ট্রেনে চা, কফি, বোতলজাত পানি, প্যাকেটজাত খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।আর দু’দিন পরেই ঈদুল আযহা। ঈদ উপলক্ষে ছুটিতে বাড়ি ফিরবেন পোশাক শ্রমিকসহ অনেকই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ