বৃহস্পতিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

সাকিবের ব্যাটে ওয়ানডে সিরিজ জয়

রফিকুল ইসলাম মিঞা: জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এক ম্যাচ আগেই ওয়ানডে সিরিজ নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। গতকাল বাংলাদেশ দ্বিতীয় ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে হারিয়েছে ৩ উইকেটে। এই জয়ে এক ম্যাচে হাতে রেখেই সিরিজ জিতল টাইগাররা। গতকাল সাকিবের ব্যাটেই শেষ পর্যন্ত জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। সাকিবের ব্যাটে বাংলাদেশ জয় পেলেও মাত্র ৪ রানের জন্য সেঞ্চুরি করতে পারেননি সাকিব। ৯৬ রানে অপরাজিত থেকেই দলকে জয়ী করে মাঠ ছাড়েন এই অলরাউন্ডার। ম্যান অব দ্যা ম্যাচের পুরস্কার পার সাকিব। সাকিবের সাথে ২৮ রানে অরাজিত ছিলেন সাইফুদ্দিন। গতকাল সিরিজ জয়ের ম্যাচে বাংলাদেশ পেয়েছিল সহজ টার্গেট। তবে এই সহজ ম্যাচটি কঠিন করে জিতল বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে টার্গেট ছিল ২৪১ রান।  টার্গেটটা সহজই ছিল বাংলাদেশের সামনে। কিন্তু টপ অর্ডারের ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত ৫ বল আগে ৩ উইকেটে ম্যাচটি কঠিন করে জিতেছে বাংলাদেশ। ২৪১ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ৫০ রানে টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানকে হারায় বাংলাদেশ। ব্যাট করতে নেমে শুরুতে বেশ ভালোই করছিলেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান লিটন কুমার দাস। তবে দলীয় ৩৯ রানের মাথায় জংওয়ের বলে সিকান্দার রাজার হাতে ক্যাচ আউট হয়ে মাঠ ছাড়েন ওপেনার তামিম ইকবাল। আউট হওয়ার আগে তামিম করেন ৩৪ বলে ২০ রান। দলীয় ৪৬ রানের মাথায় বাংলাদেশ হারায় দ্বিতীয় উইকেট। এবার ২১ রান করে আউট হন আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান লিটন দাস। এনগারাভার বলে পুল করতে গিয়ে মিডঅনে সহজ ক্যাচ নেন ব্রেন্ডন টেলরকে। ব্যাট করতে নেমে টিকতে পারেননি মোহাম্মদ মিঠুনও। তিন বল খেলে ফিরেছেন ব্যক্তিগত ২ রানের মাথায়। জঙউইকের বল খেলতে গিয়ে কভার পয়েন্টে ক্যাচ দেন মাদভেরেকে। ফলে ৫০ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। দ্রুত তিন উইকেট পতনের পর চাপে পড়ে যাওয়া বাংলাদেশের বিপদ আরও বাড়িয়ে দেন মোসাদ্দেক। বাড়তি রান নেওয়ার লোভ করতে গিয়ে রানআউট হয়েছেন নন স্ট্রাইকে থাকা এই ব্যাটসম্যান। মোসাদ্দেক ফিরেছেন মাত্র ৫ রান করে। দলীয় ১৩০ রানে বাংলাদেশ হারায় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। সাকিবের সাথে জুটি করে ভালোই খেলছিলেন রিয়াদ। তবে ৫৫ রানের জুটি গড়ার পর আউট হন তিনি। পেসার মুজারাবানির বাউন্সার বল কাট করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ব্যাটের কানায় লেগে বল যায় চাকাবার হাতে। ফলে ২৫ রান করে ফিরেন মাহমুদউল্লাহ। মাহমুদুল্লাহ আউট হলেও মিরাজকে নিয়ে দলকে এগিয়ে দেয়ার চেস্টা করেন সাকিব। এই জুটি ভাংগার আগেই বাংলাদেশ পৌছে যায় ১৪৫ রানে। মিরাজের বিদায়ে ভাংগে এই জুটি। আউট হওয়ার আগে মিরাজ ১৫ বলে করেন ৬ রান। দলীয় ১৭৩ রানে আফিফের উইকেটটি হারিয়ে ম্যাচটা কঠির করে ফেলে বাংলাদেশ। সিকান্দার রাজার বলে আউট হওয়ার আগে ২৩ বলে ১৫ রান করেন আফিফ। আফিফের বিদায়ে দলকে এগিয়ে নিতে সাইফুদ্দিনকে নতুন জুটি করেন সাকিব। এই জুটির উপর ভর করেই শেষ পর্যন্ত জয় পায় বাংলাদেশ। সাকিব ৯৬ রানে আর সাইফুদ্দিন ২৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। সাকিবের ৯৬ রানের ইনিংসটি ছিল ১০৯ বলে ৮ চারের মারে। সাইফুদ্দিনের ২৮ রানে ইনিংসটি ছিল ৩৪ বলে এক চারে। এর আগে, হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ে করে ২৪০ রান। জিম্বাবুয়ের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৬ রান করেছেন ওয়েসলি মাধভিরে। বাংলাদেশের হয়ে পেসার শরিফুল ইসলাম একাই নেন সর্বোচ্চ ৪ উইকেট। ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। এরপর রেগিস চাকাভা, ব্রেন্ডন টেলর, ডিওন মায়ার্সদের ব্যাটে ভর করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে দলটি।  শেষ পর্যন্ত মাধভিরের হাফ সেঞ্চুরির ওপর ভর করে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৪০ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করায় স্বাগতিকরা। ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারের শেষ বলে প্রথম উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। দলীয় ৩ রানে তিনাশে কামুনহুকামকে তুলে নেন তাসকিন। অপর ওপেনার তাদিওয়ানাশে মারুমানিকে বেশিদূর এগুতে দেননি মেহেদি হাসান মিরাজ। ব্যক্তিগত ১৩ রানে মিরাজের বলে সরাসরি বোল্ড তাদিওয়ানাশে। দলীয় ৩৩ রানে প্রথম দুই উইকেট হারানোর পর রেগিস চাকাভাকে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেলর। কিন্তু দলীয় ৮০ রানে ভাংগে এই জুটি। সেট হওয়া চাকাভা ২৬ রানে বোল্ড করে ফেরান সাকিব। তৃতীয় উইকেটে দুজনের জুটি ছিল ৪৭ রানের। দলীয় ১১১ রানে আউট হন ৪৬ রান করা টেলরও। দারুণ ফর্মে থাকা টেলর ফিরলে বিপদেই পড়ে জিম্বাবুয়ে। বাকিদের মধ্যে ওয়েসলি ভাধভেরে ও সিকান্দার রাজা চেষ্টা করে স্বাগতিকদের দুইশ পার করিয়েছেন শুধু। তামিম ইকবালের ইকবালের দর্শনীয় এক ক্যাচে আউট হওয়ার আগে ভাধভেরেই জিম্বাবুয়ের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করেছেন। শরিফুল ইসলামের বলে পুল করতে গিয়ে আউট হওয়ার আগে ৬৩ বলে ৫৬ রান করেছেন তিনি। সিকান্দার রাজা ৪৪ বলে ৩৪ রান করেছেন। এছাড়া মায়ার্সের ব্যাট থেকে এসেছে ৩৪ রান। শরিফুল দারুণ বোলিং করেছেন। ১০ ওভারে ৪৬ রান খরচায় চার উইকেট নিয়েছেন তিনি। সাকিব ১০ ওভারে ৪২ রান খরচায় নিয়েছেন দুই উইকেট। তাসকিন  ও সাইফ নিয়েছেন একটি করে উইকেট।

 

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ