রবিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

টেস্ট ক্রিকেট থেকে মাহমুদউল্লাহর অবসর

স্পোর্টস রিপোর্টার : অবশেষে গুঞ্জনটাই সত্য হলো। টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। দুদিন ধরেই গুঞ্জন ছিল, অবসর নিচ্ছেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মাহমুদউল্লাহ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারে টেস্টের পঞ্চম দিনে গতকাল টিভি সম্প্রচারে দেখা গেছে মাহমুদউল্লাহকে গার্ড অব অনার দিচ্ছেন বাংলাদেশী ক্রিকেটাররা। ড্রেসিং রুম থেকে মাঠে প্রবেশের পথে তামিম, সাকিব, মুমিনুল, লিটনরা দুই পাশে দাঁড়িয়ে তাকে সম্মান জানান। মাহমুদউল্লাহ হাসিমুখে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ওই সময় বাংলাদেশের জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার শামীম আশরাফ চৌধুরী ধারা বিবরণীতে বলেছেন, ‘আজ সকালে এই ভদ্রলোক...মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বাংলাদেশ স্কোয়াডের সিনিয়র ক্রিকেটার প্রথম ইনিংসে ১৫০ রান করেছিলেন। তবে তিনি প্রত্যেককে জানিয়েছেন, টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিচ্ছেন। 

এজন্য সতীর্থরা তাকে গার্ড অব অনার দিয়েছে। এই টেস্টের পর বাংলাদেশ দীর্ঘদিন টেস্ট ম্যাচ খেলবে না। তার সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে সতীর্থরা গার্ড অব অনার দিয়েছে।’ অফ ফর্মের কারণে টেস্ট ফরম্যাট থেকে বাদ পড়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ। অবশেষে ১৬ মাস পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট খেলার সুযোগ হয় তার। সেই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে দারুণ এক ইনিংস খেলেন। 

এরপরই আবার শুরু হয় তার অবসরের গুঞ্জন। সেই গুঞ্জনটাই সত্যি হলো। যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। মাহমুদউল্লাহ কিংবা বিসিবি কেউই কিছু জানায়নি, তবে মাঠের দৃশ্য বুঝিয়ে দিয়েছে টেস্ট ক্রিকেট আর খেলছেন না মাহমুদউল্লাহ। হারারে টেস্টের পঞ্চম দিনে মাঠে নামার আগে মাহমুদউল্লাহকে ‘গার্ড অব অনার’ দেন সতীর্থরা। আর তাতেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে গতকালই টেস্ট ক্রিকেট শেষ দিন মাহমুদউল্লাহর! লম্বা বিরতি শেষে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ফিরেই নিজেকে চিনিয়েছেন এই অলরাউন্ডার। খেলেছেন ১৫০ রানের অপরাজিত ইনিংস। কিন্তু এমন ইনিংস খেলার পরদিনই অভিমানে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিতে চেয়েছিলেন এই অলরাউন্ডার। পরে বিসিবির মধ্যস্থতায় শেষ পর্যন্ত আর ঘোষণা দেননি তিনি। 

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর গুঞ্জন ওঠে, টেস্ট থেকে বাদ পড়ছেন মাহমুদউল্লাহ। সেই গুঞ্জন সত্যিও হয় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঠিক তার পরের একমাত্র টেস্টে বাদ পড়ে। এমনকি গত বছরের মার্চে বিসিবি ঘোষিত কেন্দ্রীয় টেস্ট চুক্তিতে ছিলেন না মাহমুদউল্লাহ। স্বাভাবিকভাবেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে লাল বলে উপেক্ষিত ছিলেন তিনি। প্রায় ১৭ মাস পর ডাক পেয়ে যান জিম্বাবুয়ে সিরিজে। মুশফিকুর রহিম ও তামিম ইকবালের ইনজুরি শঙ্কার কারণে অভিজ্ঞ হিসেবে দলে ডাকা হয় রিয়াদকে। ডাক পেয়েই দলের বিপদে অপরাজিত ১৫০ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলেন ডানহাতি ক্রিকেটার। টেস্ট ক্রিকেট খেলার সামর্থ যে আছে তা ভালো ভাবেই বুঝিয়ে দেন তিনি। ওই ইনিংসের পরই নাকি ড্রেসিংরুমে বলে দিয়েছিলেন, আর টেস্ট খেলতে চান না তিনি। 

মাহমুদউল্লাহর এমন ঘোষণায় অবাক হয়ে যান অনেকেই। ড্রেসিংরুমের ওই কথাটা ছড়িয়ে পড়ে সেদিনই। ফলে তার অবসর গুঞ্জন বেড়েই চলেছিল। গত শুক্রবার জিম্বাবুয়ের স্থানীয় সময় সকালে টিম মিটিংয়ে ম্যানেজমেন্টকে মাহমুদউল্লাহ নিজের এ ইচ্ছের কথা জানান তিনি। অবশ্য এ বিষয়ে নিজে কোনো বক্তব্য গণমাধ্যমে বা সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে দেননি। তবে কথাটি গোপনও থাকেনি। বিসিবির পরিচালক ও মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস জানান, বিসিবি এসবের কিছুই জানে না। জিম্বাবুয়েতে এমন কিছু হতে পারে সেই ধারণাও ছিল না কারো।’ জালাল ইউনুস বলেন, ‘আমরাও টিভিতে দেখেছি মাহমুদউল্লাহকে গার্ড অব অনার দিয়েছে। কিন্তু বিসিবি এসবের কিছুই জানে না। 

আমরা জিম্বাবুয়েতে খোঁজ নেব। বিসিবি প্রেসিডেন্ট আছেন, ক্রিকেট অপারেশন্স আছে। তাদের সঙ্গে কথা বলবো কিভাবে কী হলো।’ ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক মাহমুদউল্লাহর। হারারেতে খেলতে নেমেছিলেন ক্যারিয়ারের ৫০তম টেস্ট। এ পর্যন্ত ৩৩.৪৯ গড়ে ২ হাজার ৯১৪ রান করেছেন তিনি। সেঞ্চুরি মোট পাঁচটি। বল হাতে উইকেট নিয়েছেন ৬৪টি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ